Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৭ আগস্ট, ২০১৭

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৭ আগস্ট, ২০১৭
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ২৩:৪১
ফাইনালে মালদ্বীপের টিসি স্পোর্টস
মুহাম্মদ সেলিম, চট্টগ্রাম
ফাইনালে মালদ্বীপের টিসি স্পোর্টস
এমএ আজিজ স্টেডিয়ামে বল দখলের লড়াইয়ে টিসি স্পোর্টস ও মানাং মার্সিয়াংদির ফুটবলাররা —দিদারুল আলম

প্রথমবার খেলতে এসেই বাজিমাত করে মালদ্বীপের ক্লাব টিসি স্পোর্টস ক্লাব। শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্লাব ফুটবলের ফাইনালে উঠেছে দলটি।

গতকাল প্রথম সেমিফাইনালে ১-০ গোলে হারিয়েছে নেপালের মানাং মার্সিয়াংদি ক্লাবকে। ৩ মার্চ ফাইনালে টিসি ক্লাব খেলবে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন চট্টগ্রাম আবাহনী ও দক্ষিণ কোরিয়ার পোচন সিটিজেন এফসি’র জয়ী দলের বিপক্ষে।

ম্যাচের শুরু থেকেই সমানতালে খেলতে থাকে দুই দল। প্রথমার্ধে দুই দল সৃষ্টি করে একাধিক গোলের সুযোগ। কিন্তু দুর্বল ফিনিশিংয়ের জন্য গোলের দেখা পায়নি কোনো দলই। ম্যাচের তৃতীয় মিনিটে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিল নেপালের ক্লাব মানাং মার্সিয়াংদি। স্যামসনের ব্যর্থতায় বঞ্চিত হয় নেপালি ক্লাবটি। আফাজ অলাওয়ালের বাড়ানো বল ডি-বক্সে পেয়েও পা লাগাতে ব্যর্থ হন স্যামসন। ৮ মিনিটে আবার গোলের সুযোগ সৃষ্টি হয়। এবার গোল বঞ্চিত টিসি স্পোটর্স। সতীর্থের বাড়ানো বল পেয়েই গোলবারে শট নেন স্টুয়ার্ট। কিন্তু তার নেওয়া জোরালো শট ক্রসবার ঘেঁষে চলে যায় বাইরে। ১৮ মিনিটে আবার সুযোগ সৃষ্টি করে মানাং। এবার আফাজ অলাওয়ালের শট সাইডবার ঘেঁষে বাইরে চলে যায়। ২২ মিনিটে টিসির পরিকল্পিত আক্রমণ। ডানপ্রান্ত থেকে টিসির অধিনায়ক আলীর বাড়ানো শট ছোট বক্সে পেয়েও সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি ইব্রাহিম মাহমুদ। তার নেওয়া শট ক্রসবারের অনেক উপর দিয়ে গিয়ে গোলের সহজ সুযোগ নষ্ট হয় টিসি স্পোর্টসের। ২৮ মিনিটে এগিয়ে যেতে পারত মানাং। ডি-বক্সে অধিনায়ক অনিল গুরুর নেওয়া জোরালো শট মালদ্বীপের ক্লাবটির রক্ষণভাগের খেলোয়াড়দের গায়ে লেগে প্রতিহত হয়। বিরতির আগে অতিরিক্ত সময়ে ওয়াহেদ-ইব্রাহিম সমন্বয়ে দারুণ একটি সুযোগ সৃষ্টি হয় টিসি স্পোর্টসের। ওয়াহেদ-ইব্রাহিম দেওয়া-নেওয়া করে ডি বক্সে ঢুকে পড়ে। ওয়াহেদের নেওয়া শট ক্রসবার ঘেঁষে গেলে সুন্দর একটি সুযোগ নষ্ট হয় টিসির। গোলশূন্য থেকে বিরতিতে যায় দুই দল।

বিরতি থেকে এসে উজ্জ্বীবিত ফুটবল খেলতে থাকে মানাং মার্সিয়াংদি। পরিকল্পিত ফুটবল খেলে আক্রমণের বন্যা বয়ে দেয় টিসি শিবিরে। ৫৪ মিনিটে এগিয়ে যেতে পারত নেপালি ক্লাবটি। কিন্তু দুর্বল ফিনিশিংয়ের জন্য গোল পায়নি মানাং। সতীর্থ খেলোয়াড়ের কাছ থেকে বল পেয়ে ডি-বক্সে বল পান স্যামসন। কিন্তু তার শট ক্রসবারের অনেক উপর দিয়ে বাইরে যায়। পরের মিনিটে মানাংয়ের পরিকল্পিত আক্রমণ নস্যাৎ করে দেন টিসির গোলরক্ষক কিরণ কুমার। ৬৬ মিনিটে ফের মানাংয়ের আক্রমণ। এবার স্যামসনের ক্রস থেকে বল পেয়ে গোলবারে হেড করেন আফাজ। কিন্তু তার নেওয়া হেড চলে যায় ক্রসবারের উপর দিয়ে। অবশেষে ৮২ মিনিটে আসে ম্যাচের বহুল কাঙ্ক্ষিত সেই উদযাপন। টিসির অধিনায়ক আলীর হাত ধরে আসে সেই মুহূর্ত। ডানপ্রান্ত থেকে ক্রস করেন আজম মোহাম্মদ। সেই বল ক্লিয়ার করেন মানাং গোলরক্ষক ধীনেশ থাপা। কিন্তু তার ক্লিয়ার করা বল চলে যায় আলীর বুকে। বুকে থেকে সেই বল সরাসরি ঢুকে যায় জালে (১-০)। অন্তিম মুহূর্তে সমতায় ফেরার সুযোগ পায় মানাং। কামালের ফ্রি কিকে বল পেয়ে যান স্যামসন। তার নেওয়া শট অসাধারণ দক্ষতায় ফেরান কিরণ কুমার। ম্যাচে অসাধারণ খেলার জন্য সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হন টিসির গোলরক্ষক কিরণ কুমার।

জিতে শেখ কামালের দ্বিতীয় আসরে ফাইনালে যাওয়া উত্ফুল্ল টিসি স্পোর্টসের কোচ নিজাম মোহাম্মদ, ‘ম্যাচটি কঠিন ছিল। মানাং অসাধারণ খেলেছে। জিততে পেরে আমরা খুবই খুশি। এখন ফাইনাল ম্যাচে জিতে চ্যাম্পিয়ন হতে চাই। ’

up-arrow