Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শনিবার, ১৯ আগস্ট, ২০১৭

ঢাকা, শনিবার, ১৯ আগস্ট, ২০১৭
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ২ মার্চ, ২০১৭ ০০:০৫
টাইগারদের টার্গেট ২০ উইকেট
মেজবাহ্-উল-হক
টাইগারদের টার্গেট ২০ উইকেট
তোমরা এখন অনেক শক্তিশালী দল। খালেদ মাহমুদ সুজনকে সামনে রেখে শ্রীলঙ্কার অধিনায়ক রঙ্গনা হেরাথ কি এ কথাই বলছেন টাইগার অধিনায়ক মুশফিকুর রহিমকে —সৌজন্য

টেস্ট মর্যাদা পাওয়ার পর বাংলাদেশ দলের প্রধান টার্গেট ছিল বড় দলগুলোর সঙ্গে পাঁচ দিন পর্যন্ত টিকে থাকা। তারপর লক্ষ্য ছিল ড্র।

কিন্তু এখন যেকোনো দলের বিরুদ্ধে জয়ের টার্গেট নিয়েই খেলতে নামে বাংলাদেশ। কিন্তু টেস্ট জয়ের পূর্বশর্ত হচ্ছে প্রতিপক্ষের ২০ উইকেট নেওয়ার মতো বোলিং আক্রমণ থাকতে হবে! পাশাপাশি ব্যাটসম্যানদেরও রান করতে হবে।

অনেক সময় ব্যাটসম্যানরা কিছুটা খারাপ করলেও বোলিং লাইনআপ শক্ত হলে ম্যাচ জেতা সম্ভব। কিন্তু বোলিং লাইনআপ খারাপ হলে শুধুমাত্র ব্যাটিং নিয়ে কখনোই টেস্ট জেতা যায় না। সেক্ষেত্রে ড্র-র কথা চিন্তা করাই ভালো।

কিন্তু বাংলাদেশ যে বোলিং অ্যাটাক নিয়ে শ্রীলঙ্কা সফরে গেছে, তাদের কি সামর্থ্য আছে স্বাগতিক দলের ২০ উইকেট নেওয়ার? টাইগাররা শ্রীলঙ্কার যে দুই ভেন্যুতে টেস্ট দুটি খেলবে, দুটোর আচরণই ভিন্ন। যেমন প্রথম টেস্টের ভেন্যু গল আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামের উইকেট পেসবান্ধব। পিচে সবুজ ঘাস থাকে। আর দ্বিতীয় টেস্টের ভেন্যু কলম্বোর পি সারা স্টেডিয়ামে স্পিনাররা বাড়তি টার্ন পেয়ে থাকেন। তবে লাইনলেন্থ ঠিক রেখে বল করতে পারলে দুই মাঠেই স্পিনাররা ভালো করতে পারেন।

গলেতে বাংলাদেশ খেলবে ৯৯তম টেস্ট। এই ম্যাচে বোলিং আক্রমণে প্রধান ভরসা হতে পারেন তিন পেসার মুস্তাফিজুর রহমান, রুবেল হোসেন ও তাসকিন আহমেদ। কাটার মাস্টার সবেমাত্র ইনজুরি থেকে ফিরেছেন। কিন্তু তাকে নিয়ে ব্যাটসম্যানরা বাড়তি টেনশনে থাকেন। মুস্তাফিজ ওভারের কোন বলে কাটার দেবেন, কোন বলে ইয়র্কার দেবেন, আর কোন বলে কি দেবেন সেই জাদুকরি স্লোয়ার - তা নিয়ে রীতিমতো দুশ্চিন্তায় থাকেন ব্যাটসম্যানরা। তাই দলে মুস্তাফিজ থাকলে তাকে নিয়েই বেশি ব্যস্ত হয়ে পড়বেন লঙ্কান ব্যাটসম্যানরা। আর এই সুযোগটা কাজে লাগাতে হবে তাসকিন-রুবেলদের।

নিউজিল্যান্ডের মাটিতে অভিষেক হয়েছে তাসকিনের। গতি তারকাকে নিয়ে নির্বাচকদের মনে ভয় ছিল, দীর্ঘ সময় বোলিং করতে পারেন কিনা! কিন্তু তাসকিন দেখিয়ে দিয়েছেন তার ফিটনেস তত খারাপ নয়। ভারতের বিরুদ্ধে হায়দরাবাদ টেস্টেও ৩২ ওভার বোলিং করেছেন। তাসকিনের অভিজ্ঞতায় মাত্র তিনটি টেস্ট। উইকেট নিয়েছেন মাত্র ৫টি। যদিও ওয়ানডের তাসকিনকে এখনো টেস্টে খুঁজে পাওয়া যায়নি। তবে এবার নিজেকে নতুন করে চেনাতে শ্রীলঙ্কায় গেছেন।

রিভার্স সুইংটা ভালো করাতে পারেন রুবেল হোসেন। তা ছাড়া দারুণ ইয়র্কার করতে পারেন। গলের সবুজ উইকেটে তার বোলিংটাই সবচেয়ে বেশি কার্যকর হতে পারে। কিন্তু রুবেল একাদশে সুযোগ পাবেন কিনা, তা নিয়েই রয়েছে সংশয়।

তিন স্পিনার সাকিব আল হাসান, মেহেদী হাসান মিরাজ ও তাইজুল ইসলামের খুব বেশি কিছু করার উপায় নেই গলেতে। তবে রঙ্গনা হেরাথের বোলিং অনুসরণ করলে অনুপ্রেরণা পেতে পারেন বাংলাদেশের স্পিনাররা। এক জায়গায় বল ফেলতে পারলে ব্যাটসম্যানকে বোকা বানানো কঠিন কাজ হবে না।

কলম্বোতে এই তিন স্পিনারই বাংলাদেশের বোলিংয়ের প্রধান ভরসা। তাইজুল ইসলামের জন্য আদর্শ কন্ডিশন। এমন উইকেটে তার বোলিং দারুণ হয়। আর সাকিবের বড় শক্তি তার অভিজ্ঞতা। ব্যাটসম্যানের দুর্বলতা খুঁজে বের করে সে অনুযায়ী বোলিং করার বিকল্প নেই। মিরাজকে থাকতে হবে তত্পর। আর ওই ভেন্যুতে পেসারদের বোলিং করতে হবে লাইনলেন্থ ঠিক রেখে। উইকেট পাওয়ার চেয়ে রান কম দেওয়ার দিকে মনোযোগী হওয়াই ভালো।

এখন বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণের গভীরতা অনেক বেড়েছে। মুস্তাফিজ ও রুবেল ফেরায় দলকে বাড়তি আত্মবিশ্বাস জোগাবে। সেই সঙ্গে স্পিনাররা যদি নিজেদের সেরা বোলিং করতে পারেন তাহলে শ্রীলঙ্কাকে হারানো কঠিন হওয়ার কথা নয়। তবে ভুলে গেলে চলবে না যে, ঘরের মাঠে লঙ্কানরা সব সময় ভয়ঙ্কর। কিছুদিন আগেই তারা অস্ট্রেলিয়াকে হোয়াইটওয়াশ করেছে।

তবে এটাও ঠিক যে, উপমহাদেশের কন্ডিশনে বাংলাদেশকে হালকাভাবে নেবে না শ্রীলঙ্কা। যতই তারা অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ভালো খেলুক না কেন! টাইগাররা সব শেষ লঙ্কার মাটিতে দুই টেস্ট সিরিজের একটিতে ড্র করেছিল। আরেকটিতে হেরেছিল। তখন লঙ্কান দলে ছিল কুমার সাঙ্গাকারা ও তিলকারত্নে দিলশানের মতো ভয়ঙ্কর ব্যাটসম্যান। কিন্তু এখন ব্যাটিংয়ের দিক দিয়ে এই শ্রীলঙ্কা দলটি অনেকটাই তরুণ। তাই বাংলাদেশের বোলারদের একটুখানি সতর্ক থাকলেই লক্ষ্যে পৌঁছে যাওয়া কঠিন হওয়ার কথা নয়।

আরেকটি কথা বলে রাখা ভালো, বোলাররা যত ভালো বোলিংই করুক না কেন যদি ফিল্ডিং ভালো না হয় তাহলে কোনো লাভ হবে না। একের পর এক ক্যাচ পড়তে থাকলে এক সময় বোলিংও খারাপ হয়ে যাবে। তাই ফিল্ডিং ভালো করার বিকল্প নেই। সেই সঙ্গে নিজেদের দায়িত্ব সম্পর্কে সজাগ থাকতে হবে ব্যাটসম্যানদের। আর বোলারদের টার্গেট হবে একটাই- প্রতিপক্ষের ২০ উইকেট শিকার!

এই পাতার আরো খবর
up-arrow