Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শনিবার, ১৯ আগস্ট, ২০১৭

ঢাকা, শনিবার, ১৯ আগস্ট, ২০১৭
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ২ মার্চ, ২০১৭ ০০:০৬
৩২ বছর পর হকির বড় আসর ঢাকায়
ক্রীড়া প্রতিবেদক
৩২ বছর পর হকির বড় আসর ঢাকায়
মওলানা ভাসানী স্টেডিয়ামে গতকাল সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় হকি দলের কোচ অলিভার —বাংলাদেশ প্রতিদিন

১৯৮৫ সালে ঢাকায় এশিয়া কাপ হকির আসর বসেছিল। এক আসর করেই দেশে হকির জনপ্রিয়তা তুঙ্গে উঠেছিল।

শহর তো বটেই গ্রাম-গঞ্জে গাছের ডাল আর টেনিস বল দিয়ে হকি খেলার ধুম পড়ে গিয়েছিল। এরপর ঢাকায় হকির অনেক আসরই হয় কিন্তু এশিয়া কাপের মতো সাড়া পড়েনি। ৪ মার্চ মওলানা ভাসানী স্টেডিয়ামে ওয়ার্ল্ড হকি লিগের দ্বিতীয় রাউন্ডের পর্দা উঠবে। বিশ্ব হকিতে এই আসরও জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশে এটাই প্রথম আয়োজন। তাহলে কি ওয়ার্ল্ড হকি লিগ ঘিরেও দেশের এই জনপ্রিয় খেলা নতুনভাবে জেগে উঠবে?

১৯৮৫ আর ২০১৭ সালের মধ্যে অনেক পার্থক্য। বাংলাদেশ এখন ক্রিকেটপাগল দেশ। তাই অন্য খেলার গুরুত্ব ততটা নেই। ওয়ার্ল্ড হকি লিগ ঘিরে সেভাবে সাড়া পড়বে কি না তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। তবে সাড়া পড়ুক আর নাইবা পড়ুক এই টুর্নামেন্টে সাফল্য পাওয়াটা কম প্রাপ্তি নয়। বাংলাদেশকে তাহলে দ্বিতীয় রাউন্ডে চ্যাম্পিয়ন বা রানার্স আপ হতে হবে। এটা কি সম্ভব? ‘এ’ গ্রুপে বাংলাদেশ খেলবে ফিজি, ওমান ও মালয়েশিয়ার সঙ্গে। অপর গ্রুপে লড়বে চীন, মিসর, ঘানা ও শ্রীলঙ্কা। ফিজি দুর্বল হলেও মালয়েশিয়া ও ওমান শক্তিশালী প্রতিপক্ষ। মালয়েশিয়া সেমিতে যাবে এটা প্রায় নিশ্চিতই বলা যায়। লড়াই হবে বাংলাদেশ ওমানের মধ্যে। এই প্রতিপক্ষের বিপক্ষে বাংলাদেশ কখনো জিতে কখনো হারে। সুতরাং নিশ্চিত করে বলা যায় না। এই খেলার কি যে হবে?

ঘানার বিপক্ষে দুই প্রস্তুতি ম্যাচে বাংলাদেশ প্রথমটি হার ও দ্বিতীয়টি ড্র করেছে। তবু কোচ অলিভার কার্টেজ মনঃক্ষুণ্ন নন। তিনি বলেন, দেশের বাইরে শক্তিশালী দলের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলতে পারলে দল উপকৃত হতো। অন্য দলগুলো সেভাবে প্রস্তুতি নিয়েই মাঠে নামবে।

যাক টুর্নামেন্টে জিমিদের রেজাল্ট যাই হোক না কেন আসর শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করাটা বাংলাদেশের জন্য চ্যালেঞ্জেই বটে। কেননা নিরাপত্তা অজুহাত দেখিয়ে কানাডা ওয়ার্ল্ড হকি লিগ খেলতে ঢাকায় আসেনি। তাই শান্তিপূর্ণ আয়োজন করে কানাডাকে বুঝিয়ে দিবে এদেশের ক্রীড়াপ্রেমীরা কতটা শান্তিপ্রিয়। ঘানা তো আগেই এসেছে। গতকাল এসেছে মালয়েশিয়া ও ওমান। শ্রীলঙ্কা বাদে বাকি দলগুলো আজই এসে পড়বে। গতকাল সংবাদ সম্মেলনে হকি ফেডারেশনের সহসভাপতি খাজা রহমত উল্লাহ দৃঢ়ভাবে বললেন, সব দলকে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা দেওয়া হবে। শুধু মাঠ নয়, হোটেলেও থাকবে নিরাপত্তা রক্ষীরা। টুর্নামেন্টের জন্য মওলানা হকি স্টেডিয়াম আঙ্গিনায় ১৬টি সিসি ক্যামেরা বসানো হবে। নিরাপত্তার কোনো ঘাটতি থাকবে না। অক্টোবরে ঢাকায় আবার ৩২ বছর পর এশিয়া কাপ অনুষ্ঠিত হবে। সে কারণে আমরা এই টুর্নামেন্টে সতর্ক। অপ্রীতিকর কিছু ঘটলে এশিয়া কাপ আয়োজন অনিশ্চিত হয়ে পড়তে পারে। ওয়ার্ল্ড হকি লিগের জন্য ঢাকা এখন প্রস্তুত। টুর্নামেন্টে বাজেট ১ কোটি টাকা। এর মধ্যে আন্তর্জাতিক হকি ফেডারেশন দিচ্ছে মাত্র ১ হাজার মার্কিন ডলার। বাকি অর্থ দিচ্ছে দুই স্পন্সর প্রতিষ্ঠান এফএমসি ও ইনডেক্স গ্রুপ। এটিএন বাংলা সরাসরি ম্যাচ সম্প্রচার করবে।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ফেডারেশনের যুগ্ম ও টুর্নামেন্ট কমিটির সেক্রেটারি আনভীর আদেল খান, এফএমসির চেয়ারম্যান ইয়াসিন চৌধুরী, ইনডেক্স গ্রুপের প্রতিনিধি আরিফুল হক প্রিন্স।

বাংলাদেশের চূড়ান্ত স্কোয়াড

ওয়াসিম, জাহিদ (গোলরক্ষক), চয়ন, খোরশেদ, আশরাফুল, শিটুল, বাবু, পিন্টু, সারোয়ার, রানা, নাইম, কৃষ্ণা, মাহবুব, জিমি (অধিনায়ক), আরশাদ, মিথুন, কৌশিক ও রুম্মন।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow