Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শনিবার, ১৯ আগস্ট, ২০১৭

ঢাকা, শনিবার, ১৯ আগস্ট, ২০১৭
প্রকাশ : শনিবার, ৪ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ৩ মার্চ, ২০১৭ ২৩:৪২
টিসি স্পোর্টস চ্যাম্পিয়ন
মুহাম্মদ সেলিম, চট্টগ্রাম
টিসি স্পোর্টস চ্যাম্পিয়ন
শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্লাব টুর্নামেন্ট চ্যাম্পিয়ন টিসি স্পোর্টস —দিদারুল আলম

আদনানের শটটি জাল স্পর্শ করতেই উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠেন মালদ্বীপের টিসি স্পোর্টস ক্লাবের ফুটবলাররা। টাইব্রেকারে আদনানের নেওয়া ওই শটেই শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্লাব ফুটবলে দক্ষিণ কোরিয়ার পোচন সিটিজেনকে ৪-২ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় মালদ্বীপের টিসি স্পোর্টস।

নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময়ে ফাইনালটি ২-২ গোলে সমতায় ছিল। ১২০ মিনিটে হারজিত নির্ধারিত না হওয়ায় টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় আসরের ফাইনাল গড়ায় টাইব্রেকারে। তাতেই বাজিমাত করে মালদ্বীপের ক্লাবটি। ক্লাবটি এই প্রথম দেশের বাইরে কোনো টুর্নামেন্ট খেলতে আসে।

টান টান উত্তেজনার টাইব্রেকারে প্রথম শট নেন পোচনের অধিনায়ক চু ট্রি। কিন্তু তার নেওয়া শট ঠেকিয়ে দেন টিসির গোলরক্ষক কিরণ কুমার। পোচনের জি কিউং এবং কিম জিং গোল করলেও জি ম্যান ব্যর্থ হন। তার নেওয়া শট ফের ঠেকিয়ে ফাইনালের নায়ক বনে যান কিরণ কুমার। টিসির পক্ষে টানা চার শটে চার গোল  করেন ঈসা, স্টুয়ার্ড, ইব্রাহিম এবং আদনান। আদনানের গোলেই চ্যাম্পিয়ন হয় মালদ্বীপের ক্লাবটি। শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্লাব কাপে পোচন সিটিজেন এবং টিসি স্পোর্টস যাত্রা শুরু করেছিল জয় দিয়ে। তাই ‘শেষ ভালো যার, সব ভালো তার’— প্রবাদ বাক্যটির সার্থকতা প্রমাণের মিশনে নামে দুই দল। প্রমাণের মিশনে চ্যাম্পিয়ন হয়ে টিসি স্পোর্টস ক্লাবটি ৩০ হাজার ডলার পুরস্কার জিতে নেয় ট্রফির সঙ্গে।

গ্রুপ ম্যাচে হারেনি কোনো দলই। ওই ম্যাচে পোচন এক গোলে পিছিয়ে থেকেও ১-১ গোলে ড্র করেছিল। তাই ফাইনাল ম্যাচে কাগজে কলমে এগিয়ে ছিল না কেউই। দেশের কোনো ক্লাব না থাকলেও ১৫ হাজারের মতো দর্শক উপস্থিত থেকে ফাইনাল উপভোগ করেন। টুর্নামেন্টে প্রথম বারের মতো স্টেডিয়ামমুখী দর্শকদের ফাইনালের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে দুই দল। নান্দনিক ফুটবল খেলে একে অপরের রক্ষণ দুর্গে আক্রমণের বন্যা বয়ে দেয়। প্রথম গোলের সুযোগ সৃষ্টি করে টিসি। ৭ মিনিটে স্যামুয়েল কাসিমের থ্রু পাস থেকে বক্সের ওপর থেকে ফরোয়ার্ড মেহেদী হোসেনের সাইড ভলিটি সাইডবার ঘেঁষে বাইরে চলে যায়। ১৭ মিনিটে উল্লাসের উপলক্ষ আসে টিসি স্পোর্টসের। ডানপ্রান্ত থেকে হাসানের কর্নারে ডিফেন্ডার হানিফ আবদুল্লাহর জোরালো হেড পোচেনের জালে প্রবেশ করলে ১-০ গোলে এগিয়ে যায় টিসি। এরপর থেকে দুই প্রান্ত দিয়ে আক্রমণের পর আক্রমণ করে গোল শোধে মরিয়া হয়ে ওঠে কোরিয়ান ক্লাবটি। ২৪ মিনিটে জিন সানের দূরপাল্লার শট মালদ্বীপের গোলরক্ষক কিরণ কুমার অসাধারণ দক্ষতায় নিজ আয়ত্তে নেন। ৩১ মিনিটে পাল্টা আক্রমণে একটি সুবর্ণ সুযোগ নষ্ট করে টিসির। মিডফিল্ডার কাসিমের কাছ থেকে বল পেয়ে ইব্রাহিম মাহমুদি হোসাইন দ্রতগতিতে একক প্রচেষ্টায় বক্সে ঢুকে পড়েন পোচন রক্ষণ দুর্গে। কিন্তু গোলরক্ষককে একা পেয়েও সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি। ৩৫ মিনিটে পাল্টা আক্রমণে যায় পোচন। পার্ক সিয়ং রয়েলের স্কয়ার পাস বল পেয়ে মিডফিল্ডার পার্ক জং চুর নেওয়া শটটি ক্রস বার উঁচিয়ে বাইরে চলে যায়। টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই প্রথম গোল হজম করে ঘুরে দাঁড়ানোটা যেন অভ্যাসে পরিণত হয়েছিল পোচেনের। গ্রুপ পর্বের পর সেমিফাইনালে চট্টগ্রাম আবাহনীর বিপক্ষে গোল খেয়ে অসাধারণভাবে ফিরে আসে ম্যাচে। ফাইনালেও ঠিক একইভাবে ম্যাচে ফিরল পোচন। ৪৪ মিনিটে গিয়ে কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পায় কোরিয়ান ক্লাবটি। জি কিয়ং ডিউকের কর্নার থেকে ফরোয়ার্ড জাং ইয়ং ইকের হেডটি গোলকিপারকে ফাঁকি দিয়ে টিসির জালে প্রবেশ করে সমতায় ফিরে কোরিয়ান পোচেন ১-১। বিরতি থেকে ফিরে টিসি দুর্গে আক্রমণ বয়ে দেয় পোচন। ৫৪ মিনিটে সাফল্য পায় পোচন। ডানপ্রান্ত থেকে কর্নার নেন পার্ক। তার নেওয়া কর্নার টিসির রক্ষণভাগের খেলোয়াড় ফারাহ আহমদের মাথায় লেগে চলে যায় জালে। ২-১ গোলে এগিয়ে যায় পোচন। উল্লাসে মেতে ওঠে দর্শকরা। ৮৩ মিনিটে ২-২ গোলে সমতায় ফেরে টিসি। ডি বক্সের বাইরে থেকে আজমের নেওয়া ভলি শট পোচন রক্ষণ ভাগের খেলোয়াড় চু ট্রি পায়ে লেগে জড়িয়ে যায় জালে। এবার উচ্ছ্বাস করেন টিসির ফুটবলাররা। নির্ধারিত সময়ে দুই দল একাধিক আক্রমণ করলেও কোনো দলই গোলের দেখা করতে পারেনি। নির্ধারিত সময়ে ২-২ গোলে সমতা থাকায় অতিরিক্ত সময়ে গড়ায় ম্যাচ।

up-arrow