Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বুধবার, ২৩ আগস্ট, ২০১৭

ঢাকা, বুধবার, ২৩ আগস্ট, ২০১৭
প্রকাশ : সোমবার, ৬ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ৫ মার্চ, ২০১৭ ২২:৫২
ফুটবলে একই ভুলের পুনরাবৃত্তি
২৩ মিনিটে জামাল ভূঞার গোলে এগিয়ে যায় আবাহনী। ব্যস্ কিছুক্ষণ পরই ডিফেন্সশিপ হয়ে পড়ে মামুনুলরা। মনে করেছিল এতেই জয় ধরে রাখা যাবে।
ক্রীড়া প্রতিবেদক
ফুটবলে একই ভুলের পুনরাবৃত্তি

শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্লাব কাপের ট্রফিও হাত ছাড়া হয়ে গেল। ২০১৫ সালে চট্টগ্রাম আবাহনী আয়োজিত এই টুর্নামেন্টে প্রথমবার শিরোপা জিতেছিল চট্টগ্রাম আবাহনী।

ফাইনালে তারা ভারত বিখ্যাত ইস্ট বেঙ্গলকে ৩-১ গোলে উড়িয়ে দেয়। এবার চ্যাম্পিয়নরা সেমিফাইনাল খেলেই বিদায় নেয়। দক্ষিণ কোরিয়ার পোচন সিটিজেন ক্লাবের বিপক্ষে প্রথমে এগিয়ে গিয়েও ২-১ গোলে হেরে যায়। দেশের অন্য দুই ক্লাব পেশাদার লিগ চ্যাম্পিয়ন ঢাকা আবাহনী ও ঢাকা মোহামেডান গ্রুপ পর্ব খেলেই বিদায় নেয়। জাতীয় দলের ভরাডুবির পরও শেখ কামাল ট্রফি দেশের ফুটবলকে জাগিয়ে রেখেছিল। ট্রফি হাত ছাড়া হয়ে যাওয়ায় হতাশা নেমে এসেছে। এবারের টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে মালদ্বীপ টিসি স্পোর্টস ক্লাব। ফাইনালে তারা পোচনকে টাইব্রেকারে ৪-২ গোলে পরাজিত করে। পাঁচটি বিদেশি ক্লাব টুর্নামেন্টে অংশ নেয়। কিরগিজস্তানের আলগা ও আফগানিস্তানের আসমাই গ্রুপ পর্ব খেলে বিদায় নেয়। অর্থাৎ সেমিফাইনালে চট্টগ্রাম আবাহনী ছাড়া বাকি তিন দলই ছিল দেশের বাইরের। ফুটবলে যে কি করুণ হাল এতেই স্পষ্ট হয়ে উঠে। টিসি স্পোর্টস চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় অতীত স্মৃতিটা আবারও জেগে উঠল। যে মালদ্বীপ জাতীয় বা ক্লাব ফুটবলে বাংলাদেশের কাছে গোলের বন্যায় ভেসে যেত তারাই কিনা আন্তর্জাতিক ট্রফি দেশে নিয়ে যাচ্ছে। বেশি দিনের কথাও নয়, ১৯৮৯ সালে মালদ্বীপ চ্যাম্পিয়ন রেডিয়ান্ট ক্লাব ঢাকায় এশিয়ান ক্লাব ফুটবলে বাছাইপর্ব খেলতে আসে। প্রতিপক্ষ ছিল ঢাকা মোহামেডান। ম্যাচের আগে রেডিয়ান্টের কর্মকর্তারা মোহামেডানের কাছে অনুরোধ রাখে গোল যেন কম দেওয়া হয়। অতিথি দলের অনুরোধ রাখলেও মোহামেডান সেই ম্যাচ জিতেছিল ৮-০ গোলে।

অনেকে বলছেন, যোগ্য দল হিসেবেই টিসি স্পোর্টস এবার শেখ কামাল ট্রফি জিতেছে। কোনো সন্দেহ নেই শুরু থেকেই তাদের পারফরম্যান্স চোখে পড়ার মতো। কিন্তু এত সুন্দর খেলল কীভাবে? যে দল এবার দ্বিতীয় বিভাগ চ্যাম্পিয়ন হয়ে প্রথম বিভাগে উঠেছে তারাই কিনা বাজিমাত করল। বাংলাদেশের ফুটবলে যা অবিশ্বাস্যই বলা যায়। ঢাকা আবাহনীরই কথা ধরি, তারা এবার ফেডারেশন কাপ ও পেশাদার লিগে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন। পেশাদার লিগে শিরোপা জেতা মানে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন। অথচ সেই ঢাকা আবাহনী যেন চট্টগ্রামে এলো আর গেল? টিসি কেন এবার যে পাঁচটি বিদেশি দল শেখ কামাল টুর্নামেন্টে অংশ নিয়েছে তাদের কি খুব শক্তিশালী বলা যাবে? সে তুলনায় দেশের দুই আবাহনীই ছিল ফেবারিট। সামর্থ্য থাকার পরও চট্টগ্রাম আবাহনী সেমি আর ঢাকা আবাহনী গ্রুপ পর্ব খেলেই বিদায়।

বিশেষ করে চট্টগ্রাম আবাহনীর শিরোপা ধরে রাখাটা কঠিন কিছু ছিল না। অথচ নিজেদের ভুলে এগিয়ে থেকেও সেমিফাইনালে হেরে গেছে। প্রশ্ন উঠতে পারে ভুলটা আবার কি? আসলে ভুলটা এমনি, যে কারণে বাংলাদেশের ফুটবল অন্ধকারে হাবুডুবু খাচ্ছে। শেখ কামাল টুর্নামেন্টে সেমিতে ২৩ মিনিটে জামাল ভূঞার গোলে এগিয়ে যায় আবাহনী। ব্যস্ কিছুক্ষণ পরই ডিফেন্সশিপ হয়ে পড়ে মামুনুলরা। মনে করেছিল এতেই জয় ধরে রাখা যাবে। কিন্তু নিজেদের ফাঁদে নিজেরাই আটকে গেল। ডিফেন্সশিপ হওয়ায় প্রতিপক্ষ একের পর এক আক্রমণ চালায়। গোলও পেয়ে যায়। দ্বিতীয়ার্ধে শুরুতেই গোল। সেই গোলেই ফাইনালে উঠে যায় পোচন। ৯০ মিনিটের লড়াইয়ে ২৩ মিনিটে গোল করে কেন যে ডিফেন্সশিপ খেলল এটাই প্রশ্ন। কই পোচন তো ২-১ গোলে এগিয়ে থাকার পরও স্বাভাবিক খেলাটা খেলেছে। ফাইনালের কথা বলি এগিয়ে গিয়ে টিসি কি ডিফেন্সশিপ হয়ে পড়েছিল।   একটা দল কখন ডিফেন্সশিপ খেলে, যখন এগিয়ে থেকে ম্যাচের বাকি থাকে মিনিট পাঁচেক। এই ডিফেন্সশিপই বাংলাদেশের ফুটবলকে ডুবাচ্ছে। বার বার একই ভুলের পুনরাবৃত্তি। আফসোস লাগে যে মালদ্বীপ পাত্তাই পেত না তারা এখন ফুটবলে কতটা এগিয়ে গেছে তা বার বার প্রমাণ দিচ্ছে। একটা দল প্রথম বিভাগে উঠেই আন্তর্জাতিক ট্রফি জিতে নিল সেখানে কিনা জাতীয় দলের একাধিক খেলোয়াড় নিয়ে ব্যর্থ চট্টগ্রাম আবাহনী ও ঢাকা আবাহনী।

up-arrow