Bangladesh Pratidin

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২২ আগস্ট, ২০১৭

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২২ আগস্ট, ২০১৭
প্রকাশ : বুধবার, ৮ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ৭ মার্চ, ২০১৭ ২৩:৫০
প্রথম দিনের আক্ষেপ নো-বল
মেজবাহ্-উল-হক
প্রথম দিনের আক্ষেপ নো-বল
৮৫ রান করে শেষ বিকালে আউট হয়ে ড্রেসিংরুমে ফিরে যাচ্ছেন গুণারত্নে। লঙ্কান ব্যাটসম্যানকে বোল্ড করে ১৯৬ রানের জুটি ভাঙেন তাসকিন —এএফপি

অন আ হ্যাটট্রিক! আগের বলে থারাঙ্গা এবং পরের বলে আউট কুশল মেন্ডিস! লিটন দাসের অসাধারণ ক্যাচের পর টাইগাররা সেলিব্রেশনও করে ফেলেছেন। প্রথম বলেই আউট হয়ে কিংকর্তব্যবিমূঢ় মেন্ডিস।

তবে রিপ্লেতে দেখা গেল বোলার শুভাশীষ ওভার স্টেপিং করেছেন। বোলিংয়ের সময় পা দাগের বাইরে পড়ায় আউটের সিদ্ধান্ত বদলে দেওয়া হলো ‘নো-বল’! হতাশ বাংলাদেশের ফিল্ডাররা। হতাশ শুভাশীষ রায়।

প্রথম বলে নতুন জীবন পাওয়া সেই মেন্ডিসই এখন ভোগাচ্ছে বাংলাদেশকে। গল টেস্টের প্রথম দিন শেষে ৪ উইকেট হারিয়ে ৩২১ রান করেছে শ্রীলঙ্কা। ১৬৬ রানে অপরাজিত রয়েছেন মেন্ডিস। ২৪২ বলে ১৮টি বাউন্ডারি ও দুটি বিশাল ছক্কায় এই রান করেছেন ২২ বছর বয়সী লঙ্কান তারকা ব্যাটসম্যান।

১৫ টেস্টের ক্যারিয়ারে এটি মেন্ডিসের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি। ঘরের মাঠে লঙ্কান এই তরুণ ক্রিকেটার যে কতটা ভয়ঙ্কর তা অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে সিরিজেই বুঝিয়ে দিয়েছেন। অসি বোলারদের পিটিয়ে পাল্লেকেলে টেস্টে ১৭৬ রান করেছিলেন। তা ছাড়া এই গলেও অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে তিনি ৮৬ রানের ইনিংস খেলেছিলেন।

টেস্ট ক্রিকেটে একটুখানি ভুল যে অনেক সময় মহাবিপদ ডেকে আনে তা হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছেন শুভাশীষ। যদি তিনি ওভারস্টেপিং না করতেন হয়তো দিন শেষে ম্যাচের চিত্র অন্যরকম দেখা যেত। এখন উল্টো মেন্ডিসের ব্যাটে সওয়ার হয়ে বাংলাদেশকে শাসাচ্ছে শ্রীলঙ্কা।

গতকাল শুরুটা দারুণ হয়েছিল বাংলাদেশের। মেন্ডিস নতুন জীবন পাওয়ার পরও স্বাগতিকদের রানে আটকে রেখেছিলেন বোলাররা। ১৫ রানে উপুল থারাঙ্গাকে বিদায় করে দেওয়ার পর দলীয় ৬০ রানে দিমুথ করুনারত্নাকে সাজঘরে পাঠিয়ে দেন মেহেদী হাসান মিরাজ। ৯২ রানের মাথায় দিনেশ চান্দিমাল ড্রেসিং রুমের পথ ধরিয়ে দেন মুস্তাফিজ। তখন পর্যন্ত ম্যাচে শক্ত হাতেই লাগাম টেনে ধরে রেখেছিল বাংলাদেশ। ১০০ রানের মধ্যে তিন উইকেট ফেলে দিয়ে সম্ভাবনার পথেই হাঁটছিলেন টাইগাররা। তিন পেসার দারুণ বোলিং করছিলেন।

কিন্তু গুণারত্নে উইকেটে যাওয়ার পরই গল্পটা পাল্টে যায়। চতুর্থ উইকেট মেন্ডিসকে সঙ্গে নিয়ে গড়েন ১৯৬ রানের জুটি। বাংলাদেশের বিরুদ্ধে চতুর্থ উইকেটে শ্রীলঙ্কার রেকর্ড জুটি এটি। এর আগে চতুর্থ উইকেটে সর্বোচ্চ জুটিটি ছিল ১৫০ রানের। ২০০২ সালে ডি সিলভা ও কুমার সাঙ্গাকারা মিলে গড়েছিলেন সেই জুটি।

গুনারত্নেকে ফিরিয়ে দিয়েছেন তাসকিন। বোল্ট হওয়ার আগে ৮৫ রান করেছেন। মাত্র ১৫ রানের জন্য সেঞ্চুরি মিস হলেও দলকে একটা শক্ত ভীতের ওপর দাঁড় করিয়ে দিয়ে গেছেন। মেন্ডিস ও গনারত্নে মিলে ওভার প্রতি ৪.৫৫ গড়ে রান তুলেছেন। টেস্টের মেজাজ ভুলে গিয়ে তারা যেন ওয়ানডে স্টাইলে ব্যাটিং করেছেন। গতকাল যে ৮৮ ওভার খেলা হয়েছে তার মধ্যে ৪৩ ওভারই খেলেছে এই জুটি। শেষ বিকালে রান উঠেছে যেন টি-২০র গতিতে। ডিকওয়েলার সঙ্গে মাত্র ২৫ বলে ৩৩ রানের পার্টনারশিপ গড়েছেন মেন্ডিস। বাংলাদেশের বোলারদের কোনো রকম সুযোগই দেননি। শূন্য রানেই যে ব্যাটসম্যানের ফিরে যাওয়ার কথা দিন শেষে সেই ব্যাটসম্যানই মাথা ব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছেন।

টেস্ট ১৫ সেশনের খেলা। তাই লড়াইটা হয়ে সেশন বাই সেশন। গতকাল প্রথম দুই সেশনে সমান তালে লড়াই করেছে বাংলাদেশ। শ্রীলঙ্কা ৩ উইকেট হারিয়ে করেছিল ১৫৫ রান। কিন্তু শেষ সেশনেই হয়ে গেছে সর্বনাশ। লঙ্কানরা এক উইকেটে করেছে ১৬৬ রান। শেষ সেশনেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ হাতে নিয়েছে স্বাগতিকরা।

প্রথম দিন শেষে গল টেস্টে ব্যাকফুটে চলে গেছেন মুশফিকরা। স্পিনাররা সুবিধা করতে পারেননি। মেহেদী হাসান মিরাজ ১২ ওভার বোলিং করে একটি উইকেট পেলেও ওভার প্রতি সাড়ে পাঁচ করে রান দিয়েছেন। সাকিব আল হাসান সবচেয়ে বেশি সময় বোলিং করেছেন। কিন্তু ২৪ ওভার বোলিং করেও কোনো উইকেট পাননি। গতকাল মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের হাতেও বল তুলে দিয়েছিলেন মুশফিক। কিন্তু কোনো লাভ হয়নি। তিন ওভার বোলিং করেছেন সৌম্য সরকারও। কিন্তু ব্রেক-থ্রু এনে দিতে পারেননি। গলেতে একে একে সাত বোলারকে দিয়ে বোলিং করিয়েছেন মুশফিক।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

শ্রীলঙ্কা ১ম ইনিংস: ৮৮ ওভারে ৩২১/৪ (মেন্ডিস ১৬৬*, গুণারত্নে ৮৫, করুণারত্নে ৩০; তাসকিন ১/৪৮, মুস্তাফিজ ১/৫০, শুভাশীষ ১/৫৮, মিরাজ ১/৬৬)

এই পাতার আরো খবর
up-arrow