Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৯ অক্টোবর, ২০১৭

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৯ অক্টোবর, ২০১৭
প্রকাশ : শুক্রবার, ১০ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ৯ মার্চ, ২০১৭ ২৩:৪৫
ঘুরেফিরে সেই একই দৃশ্য
মেজবাহ্-উল-হক
ঘুরেফিরে সেই একই দৃশ্য
টানা তৃতীয় সেঞ্চুরি করার রেকর্ড গড়া হলো না মুশফিকুর রহিমের। গলে গতকাল ব্যক্তিগত ৮৫ রানে বোল্ড হন শ্রীলঙ্কান অধিনায়ক রঙ্গনা হেরাথের বলে —এএফপি

একই পাণ্ডুলিপি, একই চিত্রনাট্য! সম্ভাবনা জাগিয়েও হতাশার চোরাবালিতে গড়াগড়ি! বিনা উইকেটে ১১৮ থেকে ৩১২ রানে অলআউট। শেষ স্কোর লাইনটা ৩০০ পেরিয়েছে কেবল সপ্তম উইকেট জুটির সৌজন্যে।

মুশফিকুর রহিম ও মেহেদী হাসান মিরাজ মিলে করেছেন ১০৬ রান। দারুণ ব্যাট করেও সেঞ্চুরি হলো না টাইগার দলপতির। সঙ্গীর অভাবে ৮৫ রানেই থামতে হয়েছে মুশফিককে। বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ে ঘুরেফিরে সেই একই দৃশ্য— মুশফিক একপ্রান্ত আগলে ধরে ব্যাটিং করবেন আরেক পাশে চলবে উইকেট পতনের উত্সব!

গতকাল মুশফিকুর রহিম নবম উইকেট হিসেবে আউট হয়েছেন। আগের টেস্টে ভারতের বিরুদ্ধে হায়দরাবাদেও একই ঘটনা ঘটেছে। শেষ উইকেট হিসেবে আউট হওয়ার আগে একাই লড়াই করেছেন। সেই ম্যাচে তবু সেঞ্চুরি হয়েছিল। কাল তো ১৫ রানের জন্য শতক মিস হয়ে গেল।

হায়দরাবাদ টেস্টে হাফ সেঞ্চুরি করেছিলেন মেহেদী হাসান মিরাজ।

মুশফিককে বেশি সময় সঙ্গ দিয়েছিলন। কিন্তু গতকাল মিরাজ আউট হয়ে যান ৪১ রান করে। হয় তো এ ম্যাচেও মিরাজের হাফ সেঞ্চুরি হলে ততক্ষণে সেঞ্চুরি পূরণ করে ফেলতে পারতেন মুশফিক। দলীয় সংগ্রহটাও আরও বড় হতো। তাই তো মিরাজ যখন লেগ বিফোর হয়ে যান তখন হতাশায় আকাশের দিকে তাকান টাইগার দলপতি।

চার নম্বরে ব্যাট করতে নেমেছিলেন মুশফিক। আগের দিন ১৪ বল থেকে করেছিলেন মাত্র ১ রান। আর গতকাল তাকে উইকেটে গিয়ে করতে হয়েছে সংগ্রাম। মুশফিক একপ্রান্ত আগলে রেখেছিলেন। কিন্তু অন্য পাশে একের পর এক উইকেটের পতন হয়েছে। তবে মেহেদী হাসান মিরাজ ভালোই সঙ্গ দিয়েছেন। এ ছাড়া অন্য কেউ তাকে ভরসা দিতে পারেনি। আর ক্রিকেটে একপ্রান্তে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট পড়তে থাকলে আরেক প্রান্তে ব্যাটিংয়ে মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন। কিন্তু মুশফিক কাল এই কঠিন কাজটি করছিলেন দারুণভাবে। তবে সপ্তম উইকেটে মিরাজের সঙ্গে তার জুটিটা জমে উঠেছিল। মুশফিকের নির্ভরতার ব্যাটিং দেখে মনে হচ্ছিল সেঞ্চুরি করা সময়ের ব্যাপার মাত্র। আর সেঞ্চুরিটা হয়ে গেলে টানা তিন টেস্টে শতক পূর্ণ করার অনন্য গৌরব অর্জন করতেন। কিন্তু মিরাজ আউট হওয়ার পর হতাশ হয়ে পড়েছিলেন মুশফিক। কেননা মিরাজই ছিল বাংলাদেশের শেষ স্বীকৃত ব্যাটসম্যান। তারপরও চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু সিঙ্গেলস না নিয়ে কেবল বাউন্ডারির ভরসায় একপ্রান্তে থেকে ব্যাটিং করে কতক্ষণই বা টিকে থাকা যায়! মুশফিকও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। তাই সেঞ্চুরি থেকে মাত্র ১৫ রান দূরে থাকতেই আউট হয়ে যান। মুশফিকের আউটের পর দলীয় খাতায় আর কোনো রান যোগ হয়নি। সেই ৩১২ রানেই ইনিংস শেষ। বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের শুরুটা হয়েছিল স্বপ্ন জাগানিয়া! দুই ওপেনার দারুণ শুরু করেছিলেন। কিন্তু তামিমের বোকামি দিয়ে উইকেট পতন শুরু হয়। তারপর সেই কাতারে যোগ দিয়েছেন মুমিনুল হক। বাকি আট উইকেটের পতন হয়েছে গতকাল।

টেস্ট ক্রিকেট হচ্ছে ‘মেন্টাল গেম’! প্রতিপক্ষকে ব্যাকফুটে পাঠিয়ে দিতে হলে কৌশলী হওয়ার বিকল্প নেই। গল টেস্টে কৌশলী হতে পারেননি বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা। শ্রীলঙ্কায় এখন প্রচণ্ড গরম। এমন সময় ফিল্ডিং করাই কঠিন। তবে বোলারদের কাজটা আরও কঠিন। তাই শুরুতে ব্যাট না চালিয়ে কিছুটা সময় নিলে দেখা যাবে এক সময় বোলাররা ক্লান্ত হয়ে বাজে বল দিয়ে দেবেন— এই সুযোগটাই নিতে পারেননি বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা! উল্টো শুরুতে বোকামি করে উইকেট বিলিয়ে দিয়েছেন।

আগের দিন দারুণ ব্যাটিং করেছেন সৌম্য সরকার। কাল ফ্রেশ হয়ে নতুন করে শুরু করেছিলেন। কিন্তু ধৈর্যহারা হয়ে শুরুতেই বড় শট খেলতে গিয়ে ক্যাচ আউট হয়ে যান। ৭১ রানেই থেমে যায় তার ইনিংস। সাকিব আল হাসানও ভালো খেলতে ছিলেন। কিন্তু শুরুতেই লঙ্কান বোলারদের ওপর চড়াও হয়ে যান। আর বেশি তাড়াহুড়া করতে গিয়ে বিপদ ডেকে আনেন। স্যান্ডাকনের করা বল লেগ স্ট্যাম্পের বাইরে দিয়ে যাচ্ছিল। অযথা খোঁচা দিতে গিয়ে কট-বিহাইন্ড। ১৯ বলে করেন ২৩ রান।

মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ উইকেটে গিয়ে ঠাণ্ডা মাথায় খেলছিলেন। কিন্তু বেশি সাবধান হতে গিয়েই ভুল করে বসেন। লঙ্কান পেসার লাহিরু কুমারার বলের মুভমেন্ট বুঝতে না পেরে ডিফেন্স করতে গিয়ে বোল্ড! সুযোগ হাতছাড়া করেছেন লিটন কুমার দাসও। অনেক দিন পর দলে ফিরে ৫ রানেই আউট। তবে গতকাল লঙ্কার বোলারদের ভালোই ভুগিয়েছেন মুশফিক ও মেহেদী হাসান মিরাজ। শুরুতে দুজনেই দিয়েছেন ধৈর্যশীলতার পরিচয়। তারপর বাজে বল থেকে রান করেছেন। কিন্তু দিলরুয়ান পেরেরার একটি দুর্দান্ত ডেলিভারিতে লেগ বিফোর হয়ে যান মিরাজ। এরপর বাংলাশের ইনিংসটাও আর বেশি দূর যায়নি। শেষ ১৪ রানেই ৪ উইকেট হারায় বাংলাদেশ।

বৃষ্টির কারণে গতকাল শেষ সেশনে খেলা হয়নি। সব মিলে খেলা হয়েছে ৫১.২ ওভার। তৃতীয় দিন শেষে গল টেস্টে ব্যাটফুটে চলে গেছে বাংলাদেশ। মুশফিকদের চেয়ে ১৮২ রানে এগিয়ে শ্রীলঙ্কা। জাদুকরী পারফরম্যান্স দেখাতে না পারলে এই টেস্ট বাঁচানো কঠিন।

up-arrow