Bangladesh Pratidin

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২১ নভেম্বর, ২০১৭

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২১ নভেম্বর, ২০১৭
প্রকাশ : শনিবার, ১১ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ১০ মার্চ, ২০১৭ ২৩:৩৬
ব্যাটিং স্কিল পরীক্ষার দিন
মেজবাহ্-উল-হক
ব্যাটিং স্কিল পরীক্ষার দিন
তামিম ও সৌম্য সরকারের রানিং বিটুইন দি উইকেট। এ দুজনের বড় জুটিই বাংলাদেশকে পথ দেখিয়েছে —এএফপি

‘মাই গুডনেস! ক্যাচ অব দ্য ইয়ার!’ —চিৎকার করে বললেন ধারাভাষ্যকার! বলটি যে গ্লাভসে আটকে গেছে তা অবিশ্বাস্য লাগছে উইকেটরক্ষক লিটন কুমার দাসের কাছেও। তাই বার বার দেখছেন।

বোলার মেহেদী হাসান মিরাজের মুখে তখন ভুবন ভুলানো হাসি। যাকে সরিয়ে দিয়ে উইকেটের পেছনে দায়িত্ব পেয়েছেন সেই মুশফিকও পীঠ চাপড়ে অভিভাদন জানালেন লিটনকে।

আগের বলে রিভার্স সুইপ খেলে বাউন্ডারি হাঁকিয়েছেন লঙ্কান ব্যাটসম্যান ডিকওয়েলা। তাই ইশারায় মিরাজকে আবারও একই রকম ডেলিভারি দিতে বললেন লিটন। নিজেও কিছুটা অন-সাইডে সরে দাঁড়ালেন। ফাঁদে পা দিয়ে একই রকমভাবে রিভার্স সুইপ করতে গিয়েই আউট হয়ে গেলেন ডিকওয়েলা।

ঠিকই একই ওভারে আবার ক্যাচ মিস করেছেন মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। ডিপ মিড উইকেটে বল হাতে লেগে ছক্কা হয়ে যায়। উইকেট বঞ্চিত হলেন মিরাজ।

এক বল আগেই দারুণ একটি উইকেট পাওয়ায় হয়তো এটি নিয়ে কোনো আক্ষেপ নেই। মিরাজের করা ওই ওভারটি আসলে টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের প্রতিচ্ছবি! এই ভালো তো এই মন্দ। ধারাবাহিকতার অভাব।

কালকের প্রথম দুই সেশন যদি শ্রীলঙ্কার হয়, তবে শেষের সেশনটি অবশ্যই বাংলাদেশের। যদিও আলোক স্বল্পতার কারণে ১০.৫ ওভার আগেই দিনের খেলা পরিসমাপ্তি ঘোষণা করেন মাঠের দুই আম্পায়ার।

কাল ৪৫৭ রানের জয়ের অসম টার্গেট তাড়া করতে নেমে শেষ বিকালে মাত্র ১৫ ওভারে কোনো উইকেট না হারিয়ে ৬৭ রান করেছে বাংলাদেশ। ওপেনার সৌম্য সরকার যেন রীতিমতো তাণ্ডব চালিয়েছেন। মাত্র ৪৪ বলে তুলে নিয়ে গল টেস্টে টানা দ্বিতীয় হাফ সেঞ্চুরি। শেষ পর্যন্ত ৫৩ রানে অপরাজিত রয়েছেন তিনি।

আগের দিনের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে গতকাল অত্যন্ত ঠাণ্ডা মাথায় ব্যাটিং করেছেন তামিম ইকবাল। ৪৪ বল থেকে করেছেন মাত্র ১৩ রান। যত কম রানই হোক না কেন উইকেটে আঁকড়ে থাকার দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে বাইশগজে গিয়েছিলেন ড্যাসিং ওপেনার। সফলও হয়েছেন।

সৌম্য সরকারের ব্যাটে ছিল আলোর ঝলকানি! হাফ সেঞ্চুরি করতে ছয়টি চার ও একটি ছক্কা হাঁকিয়েছেন তিনি। স্টাইকরেট ১১২.৭৬। যেন টি-২০ স্টাইলে ব্যাটিং করছেন তিনি। প্রথম ইনিংসেও ৭১ রানের দারুণ এক হাফ সেঞ্চুরি ছিল সৌম্যর। তবে সেটি ছিল আদর্শ টেস্ট ইনিংস। ১৩৭ বল খেলেছিলেন। কিন্তু শ্রীলঙ্কাকে টেনশনে ফেলতে দ্বিতীয় ইনিংসে এমন একটি ঝড়ো ইনিংস খুবই দরকার ছিল।

এখনো জয়ের জন্য বাংলাদেশের দরকার আরও ৩৯০ রান। ড্র করতে চাইলে ব্যাটিং করতে হবে সারাদিন। তবে সৌম্যর ব্যাটিং দেখে মনে হয়েছে কোচ হাতুরাসিংহে তাকে জয়ের মন্ত্রই কানে ঢুকিয়ে দিয়েছেন! যদিও ৫ দিনের টেস্টে চতুর্থ ইনিংসে ৪৫৭ রান করার রেকর্ড আর নেই। তবে টেস্টে চতুর্থ ইনিংসে ১৯৩৯ সালে একবার ডারবান টেস্টে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ৫ উইকেটে ৬৫৪ রান করে ম্যাচ ড্র করেছিল ইংল্যান্ড। সেটা ছিল টাইমলেস যুগের টেস্ট। ওই ম্যাচটি ১০ম দিনে গিয়ে ড্র হয়েছিল।

৫ দিনের টেস্টে চতুর্থ ইনিংসে সর্বোচ্চ ৪৫১ রান করার ইতিহাস আছে। সেটা খুব দূরের ঘটনা নয়। ২০০২ সালে ক্রাইস্টচার্চ টেস্টে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে করেছিল নিউজিল্যান্ড। ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত ড্র হয়েছিল। তবে চতুর্থ ইনিংস লক্ষ্য তাড়া করে জয়ের রেকর্ড ৪১৮ রানের। অ্যান্টিগায় অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তাই আজ জিতলে হলে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করতে হবে বাংলাদেশকে।

বাস্তবতার কথা চিন্তা করলে এই ম্যাচে জয়ের ভাবনাটা মনে হবে ‘অলীক কল্পনা’! যদিও লঙ্কানদের বিরুদ্ধে চতুর্থ ইনিংসে ৪১৩ রান করার রেকর্ড আছে বাংলাদেশের। তবে গল আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে চতুর্থ ইনিংসে তাড়া করে জয়ের রেকর্ডটা মাত্র ৯৯ রানের। তা ছাড়া এই মাঠে চতুর্থ ইনিংসে ২০০ প্লাস উইকেট রয়েছে মাত্র সাতটি। তাই রেকর্ড মুশফিকদের পক্ষে কথা বলছে না। এমন পরিস্থিতিতে ড্র-ই হবে টাইগারদের জন্য জয়ের সমান। আর টেস্টের পঞ্চম দিনে পুরো সময় ব্যাটিং করে ড্র করা নিঃসন্দেহে অনেক বড় প্রাপ্তি।

আজ বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের স্কিল পরীক্ষার দিন। কোনো দল ব্যাটিংয়ে কতটা বেশি দক্ষ বা পারদর্শী তার বড় পরিচয় পাওয়া যায় টেস্টের পঞ্চম দিনের ব্যাটিং দেখে। উইকেট থাকে ভাঙাচোরা। এমন উইকেটে ব্যাটসম্যানকে বিভ্রান্ত করা খুবই সোজা। কিন্তু দক্ষ ব্যাটসম্যানরা এমন উইকেটেও বুক চিতিয়ে লড়াই করেন।

up-arrow