Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শুক্রবার, ১৮ আগস্ট, ২০১৭

ঢাকা, শুক্রবার, ১৮ আগস্ট, ২০১৭
প্রকাশ : সোমবার, ১৩ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ১২ মার্চ, ২০১৭ ২৩:৫৪
শততম টেস্ট নিয়ে নানা আয়োজন
আসিফ ইকবাল
শততম টেস্ট নিয়ে নানা আয়োজন

গোটা শ্রীলঙ্কা যেন সমুদ্র সৈকত! ২৫ হাজার বর্গমাইলের দ্বীপরাষ্ট্রটিকে দুর্গের মতো ঘিরে রেখেছে ভারত মহাসাগর। গল স্টেডিয়াম যেমন সমুদ্রের পাড়ে, ঠিক একইভাবে পি সারাভানামুত্তু স্টেডিয়ামও (পি সারা ওভাল) ভারত মহাসাগরের তীর লাগোয়া।

শ্রীলঙ্কার সবচেয়ে পুরনো ক্রিকেট ভেন্যু পি সারা। তামিল ক্রিকেটারদের ক্রিকেট ভেন্যু পি সারা ওভাল। শ্রীলঙ্কান ক্রিকেট ইতিহাসের ঐতিহাসিক ভেন্যুও এই পি সারা। ভারতকে হারিয়ে শ্রীলঙ্কা নিজেদের টেস্ট ক্রিকেটের প্রথম জয় পায় এখানেই। ঘরের মাঠে নিজেদের প্রথম টেস্টটিও খেলেছে এখানে। ঐতিহাসিক ভেন্যুটি আবারও ইতিহাসের সোনালি খাতায় নাম লেখাতে যাচ্ছে আলাদাভাবে। ১৫-১৯ মার্চ, এখানেই বাংলাদেশ খেলতে নামছে নিজেদের ১০০তম টেস্ট। প্রতিপক্ষ শ্রীলঙ্কা তাই আলাদাভাবে জায়গা করে নিচ্ছে বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসেও। বাংলাদেশের শততম টেস্ট ম্যাচটিকে ঘিরে বর্ণাঢ্য না হলেও ঘটা করেই আয়োজন করছে শ্রীলঙ্কান ক্রিকেট বোর্ড। টেস্টটিকে স্মরণীয় করে রাখতে বেশ কিছু পদক্ষেপও নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। শততম টেস্ট উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন দুই দেশের ক্রিকেট বোর্ড সভাপতি। থাকবেন দুই বোর্ডের কর্মকর্তারাও।  

পি সারা ওভাল শ্রীলঙ্কার ক্রিকেট ইতিহাসে প্রথম আলোচনায় আসে ১৯৪৮ সালে। ইংল্যান্ড সফরে যাওয়ার পথে কলম্বোয় যাত্রা বিরতি করেছিল স্যার ডন ব্রাডম্যানের অস্ট্রেলিয়া। শুধু বিরতি নয়, এখানে একটি চারদিনের প্রস্তুতি ম্যাচও খেলেছিল। সেই থেকে ক্রিকেট মাঠটিকে আলাদা চোখে দেখেন শ্রীলঙ্কানরা। ১৯৮২ সালে এই মাঠে প্রথম টেস্টে ইংল্যান্ডের কাছে হেরে যায় দ্বীপরাষ্ট্র। এরপর ১৯৯৪ সাল পর্যন্ত টানা টেস্ট হয়েছে। পরের ৮ বছর এখানে কোনো ধরনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট হয়নি। ২০০২ সালে বাংলাদেশ ম্যাচ দিয়ে ফের টেস্ট ক্রিকেট ফেরে পি সারা ওভালে। এই মাঠে টাইগারদের ওটাই প্রথম টেস্ট এবং টেস্টটি হেরেছিল ইনিংস ও ১৯৬ রানে। অরবিন্দ ডি সিলভার ২০৬ ও সনৎ জয়সুরিয়ার ১৪৫ রানে ভর করে স্বাগতিকদের সংগ্রহ ছিল ৫৪১ রান। প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের সংগ্রহ ছিল ১৬১ ও দ্বিতীয় ইনিংসে ১৮৪। ২০০৫ সালে দ্বিতীয় বারের মতো খেলতে নামে বাংলাদেশ। এবারও হেরে যায় ইনিংস ও ৬৯ রানে। শ্রীলঙ্কার ৪৫৬ রানের জবাবে বাংলাদেশের দুই ইনিংসের সংগ্রহ ছিল ১৯১ ও ১৯৭। ২০০৭ সালে সর্বশেষ এই মাঠে টেস্ট খেলেছিলেন মুশফিকরা। এবারও হার যথারীতি ইনিংস ও ৯০ রানে। মুশফিক টেস্টটি খেলেছিলেন এবং প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ অলআউট হয়েছিল মাত্র ৬২ রানে। ইনিংসের স্থায়িত্ব ছিল মাত্র ২৫.২ ওভার। রাজিন সালেহ একমাত্র দুই অঙ্কের (২১) রান করেছিলেন। শ্রীলঙ্কার ৪৫১ রানের জবাবে দ্বিতীয় ইনিংসে টাইগারদের সংগ্রহ ছিল ২৯৯ রান। এই মাঠে বাংলাদেশের এটাই সর্বোচ্চ। ইনিংসে সেঞ্চুরি করেছিলেন মোহাম্মদ আশরাফুল (১২৯*) এবং ৮০ রানের ইনিংস খেলেছিলেন বর্তমান অধিনায়ক মুশফিক। পি সারা ওভালের পরিসংখ্যান বলে ২০ টেস্টের ৯টিতে জিতেছে স্বাগতিকরা এবং হেরেছে ৭টিতে। ড্র মাত্র ৪টি। এই মাঠে যে তিনটিই ইনিংস ব্যবধানের ফল হয়েছে, সবগুলোই বাংলাদেশের। এমন পরিসংখ্যান কতটা আত্মবিশ্বাস জোগাবে মুশফিকের শততম টেস্টে? সেটা নিয়ে বিশাল প্রশ্ন থাকতেই পারে।

প্রশ্ন যাই থাকুক না কেন, টেস্টটি ঘিরে ব্যাপক আগ্রহ বাংলাদেশ জুড়ে। টেস্টটিকে স্মরণীয় করে রাখতে সুভেনির করে রাখতে বিসিবি স্কোয়াডের ক্রিকেটারদের ব্লেজার দিচ্ছে। এ ছাড়া ক্যাপও দিচ্ছে। ক্যাপ ও ব্লেজারে ১০০ নম্বর লেখা থাকবে বলে জানান বিসিবি পরিচালক আকরাম খান, ‘আমাদের আরও আগে ১০০ টেস্ট খেলা উচিত ছিল। তারপরও আমরা ১০০ নম্বর টেস্ট খেলতে যাচ্ছি কলম্বোয়, এটা আমাদের ক্রিকেট ইতিহাসে অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত। টেস্টটিকে স্মরণীয় করে রাখতে আমরা স্কোয়াডের প্রতিটি ক্রিকেটারকে ব্লেজার ও ক্যাপ দিচ্ছি। ’ শ্রীলঙ্কান ক্রিকেট বোর্ডও বাংলাদেশের ১০০ নম্বর টেস্টটিকে স্মরণীয় করে রাখার আলাদা পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। দুই দলের ক্রিকেটার ও সভাপতির সম্মানার্থে ডিনার দিচ্ছে।

গল টেস্টে ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতায় হেরেছে ২৫৯ রানে। ঐতিহাসিক টেস্টটিকে স্মরণীয় করে রাখতে মুশফিকরা নির্ধারিত সময়ের একদিন আগেই কলম্বোয় পা রাখে। গতকাল ঐচ্ছিক অনুশীলনও করেন পি সারা ওভালের কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

up-arrow