Bangladesh Pratidin

ঢাকা, সোমবার, ২৩ অক্টোবর, ২০১৭

ঢাকা, সোমবার, ২৩ অক্টোবর, ২০১৭
প্রকাশ : বুধবার, ১৫ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ১৪ মার্চ, ২০১৭ ২২:৫৩
টেস্টে এক পরিবারের তিনজন
আসিফ ইকবাল
টেস্টে এক পরিবারের তিনজন
আকরাম খান এবং দুই ভাতিজা তামিম ইকবাল ও নাফিস ইকবাল — ফাইল ফটো

অভিষেক টেস্টের আগের রাত ঘোরের মধ্যে ছিলেন আকরাম খান। ক্রিকেট ক্যারিয়ারে কখনোই এমন নির্ঘুম রাত কাটাননি।

টেস্ট খেলবেন এবং সেটা অভিষেক টেস্ট; দেশের ক্রিকেট ইতিহাসে চিরস্থায়ী হয়ে যাবেন- সেই ভাবনাতেই হয়তো অস্থির থেকে নির্ঘুম রাত পার করেছিলেন বাংলাদেশ ক্রিকেটের অন্যতম জনপ্রিয় ও সেরা তারকা আকরাম খান। রাত কাটিয়ে সকালে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে পা রাখতেই সব টেনশন কোথায় যেন উড়ে গিয়েছিল। ক্রিকেটপ্রেমীতে ঠাসা পুরো স্টেডিয়াম। এমন মুহূর্তটিকে স্মরণীয় করে রাখতে নিজের সঙ্গে কথা বলে নিজেকে তৈরি করে নেন। অভিষেকেই খেলেন ৩৫ রানের ছোট্ট অথচ কার্যকরী ইনিংস। ১৭ বছর আগের কথা। এখনো অভিষেক টেস্টের সেই মুহূর্তটা জ্বলজ্বল করছে হৃদয়পটে। অভিষেক টেস্টের স্মৃতিকে বুকে লালন করে কলম্বো যাচ্ছেন। কলম্বোর ঐতিহাসিক পি সারা ওভাল স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ খেলবে নিজেদের ১০০ নম্বর টেস্ট। সেই ইতিহাসেরও সাক্ষী হতে চাচ্ছেন বর্তমান বাংলাদেশ ক্রিকেটের কারিগর আকরাম খান।  

টেস্ট ক্রিকেটে একই পরিবারের একাধিক সদস্যের খেলার বহু ইতিহাস আছে। কিন্তু তিন জনের বাংলাদেশের এই রেকর্ডটি রয়েছে একমাত্র আকরাম পরিবারের। ভারতের মাঞ্জারেকার পরিবার, পাকিস্তানের মোহাম্মদ পরিবার, নিউজিল্যান্ডের হ্যাডলি পরিবার, দক্ষিণ আফ্রিকার পোলক পরিবার, অস্ট্রেলিয়ার চ্যাপেল পরিবারের একাধিক ক্রিকেটারের রয়েছে টেস্ট খেলার রেকর্ড। আকরামের বড় ভাই ইকবাল খানের দুই ছেলে চাচার পথ ধরে নাফিস ইকবাল ও তামিম ইকবাল টেস্ট খেলেছেন বাংলাদেশের পক্ষে। আকরাম ও নাফিস এখন সাবেক টেস্ট ক্রিকেটার। তামিম এখনো খেলছেন এবং টেস্ট দলের সহ অধিনায়ক। পরিবারের তিনজন বাংলাদেশ ক্রিকেটের প্রতিনিধিত্ব করায় নিজেকে গর্বিত মনে করেন আকরাম, ‘আমার রক্তের তিনজন আমরা বাংলাদেশের পক্ষে টেস্ট খেলেছি। এটা একেবারেই অন্যরকম অনুভূতি। এই অসাধারণ কৃতিত্বের জন্য আমি গর্ববোধ করি। বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে আমাদের পরিবারই প্রথম ও এখন পর্যন্ত একমাত্র, যে পরিবারের তিনজন টেস্ট ক্রিকেট খেলেছে। আমি মনে করি এটা আমাদের অনেক বড় প্রাপ্তি। ’ আকরামকে বলা হয় আজকের বাংলাদেশ ক্রিকেটের ‘কারিগর’। ১৯৯৭ সালে আইসিসি ট্রফিতে কোয়ার্টার ফাইনালে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ৬৪ রানের অপরাজিত ইনিংসটিকে বলা হয় বর্তমান বাংলাদেশের      ‘ক্রিকেটের ভিত’। সেদিন যদি ইনিংসটি না খেলতেন আকরাম, তাহলে বাংলাদেশের ১৯৯৯ সালের বিশ্বকাপ খেলা হতো না। টেস্ট স্ট্যাটাসও পেতো না। ওই ইনিংসটির কথা আজীবন স্মরণ রাখবে বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীরা। ১৯৯৯ সালের বিশ্বকাপে খেলেন আকরাম। অভিষেক টেস্টেও খেলেন। ঐতিহাসিক অভিষেক টেস্টের সদস্য হলেও ক্যারিয়ারে মাত্র ৮টি টেস্ট খেলেছেন। ওয়ানডে ৪৬টি। নিজে বেশি টেস্ট না খেললেও বাংলাদেশ শততম টেস্ট খেলতে যাচ্ছে, এতেই তিনি উচ্ছ্বসিত। আকরাম বলেন, ‘খুব ভালো লাগছে বাংলাদেশ ১০০তম টেস্ট খেলতে যাচ্ছে। আমি মনে করি আরও আগেই শততম টেস্ট খেলা উচিত ছিল আমাদের। যাই হউক টেস্টটি বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সেরা মুহূর্ত হয়ে থাকবে। আমি জানি বাংলাদেশের কোটি কোটি ক্রিকেটপ্রেমী টেস্টটির জন্য অধীর অপেক্ষায় তাকিয়ে আছেন। আমার বিশ্বাসও ক্রিকেটাররাও প্রস্তুত টেস্ট ম্যাচটিকে স্মরণীয় করে রাখতে। ’

১৫-১৯ মার্চ ১০০ নম্বর টেস্ট। টেস্টটিকে স্মরণীয় করে রাখতে বিসিবি স্কোয়াডের ক্রিকেটারদের ১০০ লেখা ব্লেজার দিচ্ছে। দিচ্ছে ক্যাপও। মুহূর্তটির সঙ্গী হয়ে থাকতে আকরাম খান থাকছেন ঐতিহাসিক পি সারা ওভালে।             

এই পাতার আরো খবর
up-arrow