Bangladesh Pratidin

ঢাকা, সোমবার, ২৩ অক্টোবর, ২০১৭

ঢাকা, সোমবার, ২৩ অক্টোবর, ২০১৭
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২০ জুন, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ১৯ জুন, ২০১৭ ২৩:৫৪
ইমরানের পর সরফরাজ
রাশেদুর রহমান
ইমরানের পর সরফরাজ
স্বপ্নের ট্রফি হাতে সরফরাজ আহমেদ

আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির চ্যাম্পিয়ন পাকিস্তান। অধিনায়ক সরফরাজ আহমেদকে নিয়ে ‘ভিক্টরি ল্যাপ’ দিচ্ছে বিজয়ী দলের সদস্যরা।

গ্যালারিতে তখন ‘দিল দিল পাকিস্তান’ গানের কোরাস চলছে দর্শকদের কণ্ঠে। ভিক্টরি ল্যাপ শেষ করে অধিনায়ক সরফরাজ আহমেদ সংবাদ সম্মেলনে এসেই ঘোষণা করলেন, এবার তবে ক্রিকেটটা পাকিস্তানে ফিরুক। চ্যাম্পিয়ন সরফরাজ আহমেদের আহ্বানে ক্রিকেট পাকিস্তানে ফিরবে কি না তা ভবিষ্যতই বলতে পারে। তবে দীর্ঘদিন ক্রিকেট থেকে নির্বাসনে থেকেও পাকিস্তান যে ক্রিকেট ভুলে যায়নি বরং শান দিয়ে দিয়ে নিজেদের দুইধারী তলোয়ারে পরিণত করেছেন চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জিতে তাই যেন প্রমাণ করলেন সরফরাজরা। ব্যাটিং আর বোলিংয়ে কী দারুণ ভারসাম্য দেখাল পাকিস্তান!

ইমরান খানই শেষ অধিনায়ক। এরপর ওয়াসিম আকরাম, ইনজামাম উল হক, ওয়াকার ইউনুস, মিসবাহদের মতো কত জাঁদরেল সেনাপতিরা নেতৃত্ব দিয়েছে পাকিস্তানকে। একদিনের ক্রিকেটে সাফল্য ছিল শূন্যে। মিসবাহর নেতৃত্বে ২০০৯ সালে টি-২০ বিশ্বকাপ জয়টাই ছিল পাকিস্তানের বলার মতো কিছু একটা। কিন্তু ক্রিকেটে এখনো ৫০ ওভারের খেলাটার গুরুত্ব অপরিসীম।

পাকিস্তানকে এখানে সফলতা এনে দিলেন প্রায় অজানা-অখ্যাত সরফরাজ! ২০০৭ সালে ভারতের বিপক্ষেই অভিষেক চ্যাম্পিয়ন এ অধিনায়কের। জয়পুরের সেই ম্যাচে শোয়েব মালিকের পাকিস্তান ৩১ রানে হারিয়েছিল ভারতকে। সরফরাজ সেই ম্যাচে ব্যাটিংয়েরই সুযোগ পাননি। তবে উইকেটের পিছনে দাঁড়িয়ে দুটি দুরন্ত ক্যাচ নিয়েছিলেন। তখন পাকিস্তান দলে ছিলেন মোহাম্মদ ইউসুফ, ইমরান নাজির, সালমান বাটরা। ইতিহাস মোহাম্মদ ইউসুফদের মতো ক্রিকেটারদের কমই পেয়েছে। আর এই পাকিস্তান! এখানে পুরনোদের দুয়েকটা কঙ্কাল আর শিক্ষানবীস ছাড়া কিই বা আছে! কিন্তু সোনা চিনেছিলেন সরফরাজ। অধিনায়ক হওয়ার পরই তাই নৌবাহিনীর সৈনিক ফখর জামানকে ক্রিকেটের আন্তর্জাতিক প্রাঙ্গণে নিয়ে আসেন। যেন তুরুপের শেষ তাস হিসেবেই তাকে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে ব্যবহার করেন সরফরাজ। আর কী অবাক কাণ্ড। সেই ফখর জামানই পাকিস্তানের জয়ের নায়ক হয়ে উঠেন! নাহ, কেবল ফখর জামান নয়। পাকিস্তানের এই দলটার নায়ক অনেকেই। হাসান আলি আর মোহাম্মদ আমিরের নাম না নিলে অন্যায় হবে। অবশ্য সব ছাপিয়ে অধিনায়ক সরফরাজ আহমেদের ছবিটাই সামনে এসে যায়। পাঁচ ফুট আট ইঞ্চি উচ্চতার ৩০ বছরের এই ক্রিকেটার মাত্র ৭৫টা ওয়ানডে ম্যাচ খেলেছেন। তাকে সাহায্য করার মতো দলে সিনিয়র বলতে মৃদুভাষী শোয়েব মালিক। বাকিরা তরুণ। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের প্রথম পাঠটাই এখনো অনেকের বাকি। আর অন্যদিকে তিনটা আইসিসি টুর্নামেন্টজয়ী ধোনি সর্বক্ষণ নজর রাখছেন বিরাট কোহলির উপর। একটু এদিক-ওদিক হওয়ার সুযোগ নেই। তাছাড়া কোহলির নিজেরও তো অভিজ্ঞতা কম হলো না। ভারতের যোগ্য নেতা হিসেবে সবখানেই স্বীকৃতি পেয়েছেন কোহলি। প্রয়োজনে ব্যাট হাতে একাই সামলে নিতে পারেন পুরো একটা দলকে। সবমিলিয়ে দুর্দান্ত একটা দল ভারত। চ্যাম্পিয়ন হওয়ার মতো প্রয়োজনীয় সব রসদই ছিল তাদের। এমন একটা দলের বিপক্ষে নেতৃত্ব দিয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার মতো গুণাবলী দেখিয়েছেন সরফরাজ আহমেদ। ইতিহাস এ কারণেই হয়ত তাকে মনে রাখবে সবচেয়ে বেশি!

ইমরান খানের দলটার সঙ্গে সরফরাজ আহমেদদের মিল অনেক। ১৯৯২ সালের বিশ্বকাপে পাকিস্তান যাত্রা করেছিল অগোছালোভাবে। পরাজয় দিয়ে শুরু। এরপরও ধুঁকে ধুঁকে পথ চলা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তরুণ ওয়াসিম-ইনজামামদের নিয়ে একটা বিশ্বকাপই জয় করেছিলেন ইমরান খান। সরফরাজ যেন ইমরানের পরিপূর্ণ উত্তরাধিকার পেলেন। ভারতের কাছে পরাজয়ে শুরু। পাকিস্তানের টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে পড়ার অপেক্ষায় ক্রিকেট দুনিয়া। গ্রুপপর্বটাই পার হতে পারবে না সরফরাজরা! ভক্তরা এক ধাপ এগিয়ে ‘পাকিস্তান ক্রিকেটে’র জানাজাই (?) পড়ে নেয়। সেই পাকিস্তানকে কী দুরন্ত সাহসে ভর করেই না চ্যাম্পিয়নের খেতাব জিতিয়ে দিলেন সরফরাজ আহমেদ। এমন একটা টুর্নামেন্ট জয়ের পর নিজ দেশে ক্রিকেটকে ফিরে আসার আহ্বান জানাতেই পারেন এ পাকিস্তানি অধিনায়ক।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow