Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০ টা প্রিন্ট ভার্সন আপলোড : ১ জানুয়ারি, ২০১৮ ২২:৫২
দুই কোচের ইতিহাস গড়ার হাতছানি
ক্রীড়া প্রতিবেদক
দুই কোচের ইতিহাস গড়ার হাতছানি
শেখ জামাল ধানমন্ডি ও ঢাকা আবাহনী শিরোপা রেসে টিকে আছে। ৫ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে হাই ভোল্টেজ ম্যাচে দুই দল মুখোমুখি হবে —ফাইল ফটো

এখন অপেক্ষা একটাই। ঢাকা আবাহনী না শেখ জামাল ধানমন্ডি চ্যাম্পিয়ন হবে? কোচ আতিক ও রক্সি ইতিহাস গড়ার অপেক্ষায় । সব জল্পনা অনেকটা শেষ হয়ে যাবে ৫ জানুয়ারিই। সেদিন সন্ধ্যায় ঢাকা আবাহনী ও শেখ জামাল মুখোমুখি হবে। ঢাকা আবাহনী জিতে গেলে এক ম্যাচ আগেই চ্যাম্পিয়ন হয়ে যাবে। এ অবস্থায় তারা যদি ১১ জানুয়ারি চট্টগ্রাম আবাহনীর কাছে হেরে যায় তবুও শিরোপা অক্ষুণ্ন্ন থাকবে। একই অবস্থা শেখ জামালেরও বলা যায়। তারা ঢাকা আবাহনীকে হারাতে পারলেই শিরোপা প্রায় নিশ্চিত করে ফেলবে। কেননা শেষ ম্যাচে শেখ জামাল লড়বে ফরাশগঞ্জের বিপক্ষে। দুর্বল প্রতিপক্ষ বলে তখন এই ম্যাচ আত্মবিশ্বাসী সলোমন কিংদের বাধা হয়ে দাঁড়াবে বলে মনে হয় না। ৫ জানুয়ারি ম্যাচ ড্র হলেও দুই দলেরই সম্ভাবনা থাকবে। চট্টগ্রাম আবাহনীকে তখন হারাতেই হবে ঢাকা আবাহনীকে। এই ম্যাচ ড্র হলে তখন আবার ফরাশগঞ্জকে হারাতে পারলে শেখ জামাল চ্যাম্পিয়ন হয়ে যাবে।

ঢাকা আবাহনী ২০ ম্যাচে ৪৮ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে রয়েছে। ৪৭ পয়েন্ট নিয়ে শেখ জামালের অবস্থান দুইয়ে। মাত্র ১ পয়েন্ট ব্যবধান। কে যে চ্যাম্পিয়ন হবে বলা মুশকিল। চট্টগ্রাম আবাহনী ৪৩ পয়েন্টে তৃতীয় স্থানে থাকায় তারা এখন শিরোপা রেসের বাইরে চলে গেছে। অথচ এক সময়ে বন্দরনগরীর দলটির সম্ভাবনা ছিল উজ্জ্বল। পেশাদার লিগের শুরু থেকেই তারা শীর্ষে অবস্থান করছিল। ঢাকা আবাহনীর চেয়ে ৭ ও শেখ জামালের চেয়ে একপর্যায়ে ৫ পয়েন্টে এগিয়ে থাকে মামুনুলরা। এখন সেই ঢাকা আবাহনী বা শেখ জামালের মধ্যে যেকোনো একটি দল চ্যাম্পিয়ন হতে যাচ্ছে। ছিটকে গেছে চট্টগ্রাম আবাহনী। ঢাকার বাইরে প্রথম দল হিসেবে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার ইতিহাস গড়ার স্বপ্ন বিলীন হয়ে গেছে।

হিসাব এখন একটাই ঢাকা আবাহনী না শেখ জামাল। গ্যালারিতে দর্শক নেই। তবু এবারে শিরোপা লড়াই ছিল তুঙ্গে। যা আশি দশকের কথা মনে করিয়ে দেয়। শেখ রাসেল ক্রীড়াচক্র ও ঢাকা মোহামেডানও ব্যালেন্সড দল গড়ে। পারফরম্যান্স ধরে রাখতে না পারায় শিরোপা রেস থেকে দুদলই আগেই সরে গেছে। মোহামেডান ও শেখ রাসেল এখন টপ ফাইভে জায়গা করে নিতে লড়ছে। নবাগত সাইফ স্পোর্টিংও শক্তিশালী দল গড়েছিল। দ্বিতীয় পর্বে ওয়েডসন ও শেরিংহ্যামকে অন্তর্ভুক্ত করে দলের শক্তি বাড়ায়। ভালোই লড়ছিল তারা। টানা পয়েন্ট নষ্ট করায় সাইফেরও শিরোপার স্বপ্ন শেষ হয়ে যায়। পেশাদার লিগে ট্রফি জেতাটা ঢাকা আবাহনী ও শেখ জামালের জন্য নতুন নয়। আবাহনী হ্যাটট্রিকসহ পাঁচবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। শেখ জামাল তিনবার। আর একটি আসরে শিরোপা জিতেছিল শেখ রাসেল ক্রীড়াচক্র। লক্ষণীয় ব্যাপার হচ্ছে ঢাকা আবাহনী ও শেখ জামাল এর আগে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পেছনে বিদেশি কোচের অবদানই ছিল বেশি। প্রথমদিকে অমলেশ সেন দায়িত্ব পালন করলেও ঢাকা আবাহনীতে মূলত বিদেশি কোচেরই প্রাধান্য ছিল। শেখ জামালেরও একই অবস্থা।

এবারও মৌসুমের শুরুতে ঢাকা আবাহনী ও শেখ জামাল বিদেশি কোচ নিয়োগ দিয়েছিল। ক্রোয়েশিয়ার দ্রাগো মাভিচ আবাহনীর। জোসেফ আফুসি শেখ জামালের কোচ হন। দ্বিতীয় পর্বে তাদের আর দেখা মেলেনি।

মাভিচ আবাহনী থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় নিলেও আফুসি কাউকে না জানিয়ে ঢাকা ছেড়ে চলে যান। অনেকের ধারণা ছিল কোচ বিদায়ে দুই দলের খেলায় ছন্দপতন ঘটবে।

না, তা আর হয়নি। শেখ জামাল কোচের দায়িত্ব দেন মাহবুব হোসেন রক্সিকে। আবাহনী বেছে নেয় আতিকুর রহমান আতিককে। রক্সির প্রশিক্ষণে অনূর্ধ্ব-১৮ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে যুবারা অসাধারণ পারফরম্যান্স প্রদর্শন করে। বাফুফের বেতনভুক্ত কোচ আবার কোনো ক্লাবের দায়িত্ব পালন করতে পারেন না। রক্সি বাফুফের অনুমতি নিয়ে দ্বিতীয় পর্বে শেখ জামালের দায়িত্ব নেন। ফুটবলার হিসেবে গোলরক্ষক আতিকের খ্যাতি থাকলেও কোচ হিসেবে নন। তারপরও দুজনার প্রশিক্ষণে দুই দল ভালোই খেলছে। সাইফের কাছে হারের পর দ্বিতীয় পর্বে আবাহনী আর হোঁচট খায়নি। শেখ জামাল শুধু সাইফের সঙ্গে ড্র করেছে। ফুটবলার হিসেবে আতিক ও রক্সি অনেক শিরোপার অংশীদার হয়েছেন। কোচিং ক্যারিয়ারে বড় কোনো সদস্য নেই। ঘরোয়া ফুটবলে প্রশিক্ষক হিসেবে ট্রফি জিততে পারেননি।

সময় এসেছে নতুন ইতিহাস গড়ার। কে গড়বেন ইতিহাস? আতিক না রক্সি। দেশীয় কোচের ওপর আস্থা রাখতে পারছে না বাফুফে। বার বার তাই বিদেশি কোচ উড়িয়ে আনছে। পেশাদার লিগ ঘরোয়া আসরে সেরা আয়োজন। দুই দেশি কোচের লড়াই। যিনিই চ্যাম্পিয়ন হোক না কেন দেশের কোচদের কদর ও গুরুত্ব বাড়বে এ নিয়ে সংশয় নেই।

 

এই পাতার আরো খবর
up-arrow