Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮

প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০ টা আপলোড : ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:১২
ইনজুরি খড়গে টাইগার শিবির
ক্রীড়া প্রতিবেদক
ইনজুরি খড়গে টাইগার শিবির
অনুশীলন করলেও মাঠে নামা নিশ্চিত নয় মুশফিকের

সকালে অনুশীলন শেষ করে বেশ লম্বা মিটিং সারলেন ক্রিকেটাররা। নতুন অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। দিন দুই আগে মিডিয়ার মুখোমুখিতে মনের অর্গল খুলে নানান কথা বলে কিছুটা চাপে খালেদ মাহমুদ সুজন। মিরপুরে আড়াই দিনে টেস্ট হেরে সমালোচনার তরবারির নিচে থাকা টাইগারদের মসৃণ পথে টেনে তুলতে দীর্ঘ মিটিং। তিন সপ্তাহের ব্যর্থতার জাঁতাকলে পিষ্ট এখন বাংলাদেশের সাজঘর। সেখান থেকে উদ্ধার হয়ে ফের উৎসব, উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠার পথ খুঁজছেন ক্রিকেটাররা। মসৃণ পথের সন্ধানে নেমে টাইগাররা কিন্তু বেশ গোছানো তা বলা যাচ্ছে না। কারণ পারফরম্যান্স নয়, দলের সেরা তিন ক্রিকেটারই যে ইনজুরিতে। এমন জটিল পরিস্থিতির মুখোমুখি এর আগে কখনো বাংলাদেশ শিবির পড়েছে কিনা, ইতিহাসের পাতা ঘাঁটাঘাঁটি করে পাওয়া যায়নি। সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবাল ও মুশফিকুর রহিমের ইনজুরি দলকে শঙ্কায় ফেলে দিয়েছে। অবশ্য তিন তারকার ইনজুরি নতুন এক পথও খুলে দিয়েছে বাংলাদেশের ক্রিকেটে। তিন তারকার অনুপস্থিতি যেমন সাফল্যের পাতাকে সংশয়াচ্ছন্ন করেছে, তেমনি পাঁচ তরুণের অন্তর্ভুক্তিও ভবিষ্যতের পাইপলাইনকে সমৃদ্ধ করেছে। বিশেষ করে শেষ বেলায় মুশফিক ও তামিমের ইনজুরিতে হঠাৎ করে ডেকে আনা হয়েছে মোহাম্মদ মিথুনকে।

ইনজুরি সার্বক্ষণিক সদস্য বাংলাদেশ শিবিরে। ইনজুরি ক্যারিয়ারকে প্রলম্বিত করতে দেয়নি মাশরাফি বিন মর্তুজার। দেশের অন্যতম সেরা ক্রিকেটার ইনজুরিকে হারালেও হেরেছেন আবার তিন ফরম্যাচের ক্রিকেট খেলার লড়াইয়ে। ইনজুরির জন্য তিনি খেলতে পারছেন না টেস্ট, ওয়ানডে ও টি-২০ ফরম্যাটে। সেই পথে না হাঁটলেও বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানের ক্যারিয়ারও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বার বার। ২৭ জানুয়ারি ত্রি-দেশীয় টুর্নামেন্টের ফাইনালে ফিল্ডিংয়ের সময় আঙ্গুলে আঘাত পান। সেই আঘাতে ছিটকে পড়েন টেস্ট সিরিজ থেকে। শুধু খেলা থেকে বিরতই থাকতে হয়নি, নতুন করে অধিনায়কত্বের পথ চলাও বাধাগ্রস্ত হয়েছে। অধিনায়ক হিসেবে দ্বিতীয় ক্যারিয়ার শুরুর কথা ছিল সাকিবের। টেস্ট খেলতে না পারার ব্যথা ভোলার আগেই আবারও ধাক্কা। পুরোপুরি সুস্থ হতে না পারায় টি-২০ সিরিজ থেকে নিজেই সরে দাঁড়ান। তার জায়গায় নেওয়া হয়নি কাউকে। কিন্তু নেতৃত্ব তুলে দেওয়া হয় মাহমুদুল্লাহর হাতে। সেই মাহমুদুল্লাহ দায়িত্ব পেয়েই সাকিবের অভাব পূরণ হওয়ার নয় বলতে দ্বিধা করেননি, ‘সাকিব না থাকলে দলের ব্যালেন্স কমে যায়। তাকে আমরা মিস করব এটাই স্বাভাবিক। তাকে ছাড়া যখন খেলতেই হবে, তখন অন্যদের আরও দায়িত্বশীল হতে হবে।’ সাকিবের শূন্যতা পূরণের যখন চেষ্টা চলছে, তখন ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’ হয়ে দেখা দিয়েছে তামিম ও মুশফিকের ইনজুরি।

সাকিবের মতো সিরিয়াস ইনজুরি নয় দুই তারকা ক্রিকেটারের। কিন্তু সংশয়ে ফেলে দেওয়ার মতো বিষয়। সকালে অনুশীলনে গ্রানাইট পাথরে ব্যাটিং অনুশীলন করার সময় হাতের পেশিতে চোট পান। চোট পাওয়া জায়গাটা ফুলে গেছে বেশ। সেখানে ব্যান্ডেজ বেঁধে রেখেছেন দেশসেরা বাঁহাতি ওপেনার। যদিও হাঁটা-চলাফেরা করতে কোনো সমস্যা হচ্ছে না। তারপরও না খেলার একটি সুপ্ত সম্ভাবনা রয়েছে। তামিমের ইনজুরিই টিম ম্যানেজমেন্টকে একাদশ সাজাতে অপেক্ষায় রেখেছে। গতকাল অনুশীলনে অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ অবশ্য তামিমের খেলার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন, ‘আগামীকাল সকালে জানা যাবে তামিমের প্রকৃত অবস্থা। আশা করছি সে খেলতে পারবে।’ যদি তামিম খেলতে না পারেন, তাহলে সৌম্য সরকারের সঙ্গে নতুন বল সামলাবেন কে? তরুণ জাকির হোসেনকে দেখা গেলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। তবে হঠাৎ ডাক পাওয়া মিথুনকেও দেখা যেতে পারে। মুশফিক ব্যথা পেয়েছেন কব্জিতে।

 খুব বেশি সমস্যা নয়। কিন্তু ব্যাট ধরা এবং কিপিং করার জন্য সমস্যা। মুশফিক যদি খেলেন, তাহলে হয়তো স্পেশালিস্ট ব্যাটসম্যান হিসেবেই খেলবেন। তারপরও সমস্যা যখন রয়েছে, তখন টিম ম্যানেজমেন্টকে আলাদা করে ভাবতেই হচ্ছে। সাকিবের অভাবটা পূরণ করার নয়। তারপরও তার জায়গা অন্য কোনো ক্রিকেটার বিশেষ করে তরুণ আফিফ হোসেনকে দিয়ে পূরণ করার চেষ্টা করছে ম্যানেজমেন্ট। কিন্তু শেষ মুহূর্তে ইনজুরিতে পড়া তামিম ও মুশফিকের জায়গা ভরাট করবে কীভাবে? ভরসা তরুণ ক্রিকেটাররা। জাকির, আফিফ, মেহেদি, আরিফুলরা কি পারবেন নবীনের লড়াকু মেজাজ দিয়ে অভিজ্ঞতাকে পূরণ করতে?

এই পাতার আরো খবর
up-arrow