Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২১ জুন, ২০১৮ ০০:০০ টা প্রিন্ট ভার্সন আপলোড : ২০ জুন, ২০১৮ ২৩:৪৭
বিশ্বকাপে রুশ বিপ্লব ঘটবে কি?
বিশ্বকাপে রুশ বিপ্লব ঘটবে কি?
bd-pratidin

রাতে আর বাড়ি ফিরল না রাশিয়ানরা। সেন্ট পিটার্সবার্গে রাতই হয় না। আজ তো আরও হবে না। ২১ জুন সেন্ট পিটার্সবার্গেই হবে দীর্ঘতম দিন। সারা দিনই তাই উৎসব করে তারা। রাশিয়া, রাশিয়া, রাশিয়া— চিৎকারে কাঁপন ধরিয়ে দেয়। আর কিছুটা আলাপ জমালেই উপহার দেয় তাদের জাতীয় পতাকা। বিনিময়ে তাদের উপহার দিতে হয়। তাও যেনতেন নয়, বাংলাদেশি স্যুভেনির। সে যাই হোক। হতে পারে একটা কলমও। কিংবা কোনো ছোট্ট নোটবুক! রাশিয়ায় এই উপহার দেওয়া-নেওয়ার অভ্যাসটা দারুণ। মেট্রোতে বসে পতাকা গিফট দিয়ে তাই বিনিময়ে স্যুভেনির পেতে হাত বাড়িয়ে দিয়েছিল গিওর্গি। রাশিয়ানরা খুব উৎসবপ্রিয়। এমনিতেই উৎসব করে রাত-বিরাতে। আর উপলক্ষ পেলে!

বিশ্বকাপটাই একটা উপলক্ষ। উৎসব করার জন্য আর কিছুর প্রয়োজন ছিল না ওদের। রাশিয়া নকআউট পর্ব নিশ্চিত করায় সেই উপলক্ষও যোগ হলো। এবার আর যায় কোথায়! মেট্রোতে চড়ে ‘রাশিয়া, রাশিয়া, রাশিয়া’— কোরাস গায় ওরা। যাদের গলায় সুর আছে, অপেরা শোনাতে থাকে ফ্রিতে। ওদের অপেরার সুর শুনে মনে পড়ে রুশ বিপ্লবের কথা। বলশই থিয়েটারে বিপ্লবের সময় কত অপেরা শিল্পীই না বিপ্লবকে তাতিয়ে দিয়েছেন। লাল বিপ্লবের সেই ধারাটাই যেন এখনো রয়ে গেছে। ফুটবলে তো একটা বিপ্লবই করছেন ডেনিশ চেরিসভ, স্মলভ, সমেদভ, গলোভিনরা! ওদের কে জানত? ফুটবল দুনিয়ার মোটামুটি খবর রাখে, এমন অনেকেই জানত না রাশিয়ানরা তাদের অস্ত্রাগারে কেবল যুদ্ধ বিমান আর রণতরীই বানায় না, পাশাপাশি ফুটবলারও তৈরি করে। চেরিসভ ছিলেন প্রায় অপরিচিত এক ফুটবলার। অথচ সেই তিনিই এখন বিশ্বব্যাপী পরিচিত মুখ। রোনালদোর সমান গোল নিয়ে তিনি বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতা। ফুটবলে এই রাশিয়ান বিপ্লব কি সহসাই থেমে যাবে? কতদূর যাবে রাশিয়া? চ্যাম্পিয়ন হতে পারবে কি? রাশিয়া না হলে চ্যাম্পিয়ন হবে কারা?

রুশরা চায় ওদের দল চ্যাম্পিয়ন হোক। কোচ চেরচেসভকে পছন্দ না করলেও তার প্রতি আস্থা বাড়ছে তাদের। সংবাদ সম্মেলনে তিনি নাটুকে ভঙ্গিতে কথা বলেন। অনেক সময়ই পাল্টা প্রশ্ন করে বসেন। এ কারণে রাশিয়ান সাংবাদিকরাও খুব একটা পছন্দ করেন না তাকে। কিন্তু চেরচেসভই তো ফুটবলে রুশ বিপ্লবের নেতৃত্ব দিচ্ছেন! মিসরের বিপক্ষে কি দুর্দান্তই না খেলল তার দল। প্রথমার্ধটা মিসর একতরফা ফুটবল খেলেছিল। কিন্তু চেরচেসভ দুর্দান্ত কোচ। তিনি বুঝে নিয়েছিলেন মিসরের দুর্বলতা। বিরতিতে দলকে এমন মন্ত্র শেখালেন যে নেমে কয়েক মিনিটের মধ্যেই তারা তিন তিনটা গোল দিয়ে দেয় মিসরের জালে। প্রতিপক্ষের ফাঁকফোকরগুলো খুব ভালো ধরতে পারেন চেরচেসভ। এ কারণে পছন্দ না করলেও তাকে বাহবা দেয় রাশিয়ানরা। কিন্তু রাশিয়ানরা এখনো বিশ্বাস করে না, তারা চ্যাম্পিয়ন হতে পারে। ফ্যানজোনে দেখা হওয়া একদল রাশিয়ান সমর্থককে জিজ্ঞেস করতেই বলল, আমরা চাই চ্যাম্পিয়ন হতে। কিন্তু এটা আমরাই বিশ্বাস করি না। এটা চেরচেসভের মতো কৌশলী উত্তর। রাশিয়ানরা সবাই যে কীভাবে এক ধরনের চিন্তা করে! ওরা স্টেডিয়ামে এসে ‘রাশিয়া, রাশিয়া, রাশিয়া’— চিৎকার করে এক সুরে। কোনো ব্যতিক্রম হয় না। কান ফাটানো সেই চিৎকারে মনে শিহরণ জাগে। বিপ্লবের বাণী শোনা যায়। ফুটবলে রুশ বিপ্লব। রাশিয়ানরা বিশ্বাস করে, এবার ফুটবলে চ্যাম্পিয়ন হবে নতুন কোনো দল। সম্ভবত বেলজিয়াম! অনেকেই আবার বলেন, ইংল্যান্ডের কথা। কিন্তু ইংল্যান্ডকে মোটেও সহ্য হয় না তাদের। তাই রাশিয়ানদের বাজি হয় রাশিয়া, নয় বেলজিয়াম।

রুশদের এই আশা পূরণ হবে কি না তা সময়ই বলে দেবে। আপাতত দেখা যাচ্ছে, প্রথম দল হিসেবে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে রাশিয়া। বেলজিয়ামও প্রথম ম্যাচটা জিতেছে। আর একটা ম্যাচ জিতলেই তাদেরও নকআউট পর্ব নিশ্চিত হবে। কিন্তু সামনের কঠিন পথ পাড়ি দিয়ে গন্তব্যের শেষ সীমায় পৌঁছতে পারবে কি রাশিয়া! বেলজিয়াম! বিপ্লব সফল করার জন্য তো কঠিন পথ পাড়ি দিতেই হয়! দুই ম্যাচে দুর্দান্ত খেলেছে রাশিয়া। প্রথম ম্যাচে ৫-০, পরের ম্যাচ ৩-১। ফেবারিটরা যেখানে গোল খরায় ভুগছে, সেখানে কিনা দুই ম্যাচে ৮ গোল। যা ১৯৩৮ সালের বিশ্বকাপের পর এই প্রথম। ১৯৬৬ সালে বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে খেলেছিল রাশিয়া। এটাই বড় প্রাপ্তি। এবার সেই ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটবে কিনা তা সময়ই বলে দেবে।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow