Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : শুক্রবার, ১৩ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০ টা প্রিন্ট ভার্সন আপলোড : ১৩ জুলাই, ২০১৮ ০১:০৪
হাসি-কান্নার মিক্সড জোন
হাসি-কান্নার মিক্সড জোন
স্বপ্ন পূরণের পথে ক্রোয়েশিয়া। বিশ্বকাপ জিততে দেশটি বাকি এক ধাপ। ইংল্যান্ডকে হারিয়ে স্বপ্নের ফাইনালে জায়গা নেওয়ার পর রেড স্কোয়ারে উচ্ছ্বসিত ক্রোয়াট সমর্থকরা —এএফপি
bd-pratidin

এই পথ দিয়ে অশ্রুসিক্ত নয়নে হেঁটে গেছেন জার্মান প্লেয়াররা। মেক্সিকোর কাছে পরাজয়ের বেদনা ছিল খুবই কষ্টদায়ক। তারপর কোরিয়ার কাছে হেরে বিদায় নেওয়ার পথে দু-ফোঁটা অশ্রু জার্মানরা নজরানা দিয়েছিল মিক্সড জোনের আঁকা-বাঁকা কংক্রিটের পথে। এই পথেই কাঁদতে কাঁদতে হেঁটে গেছেন আন্দে স ইনিয়েস্তা। রাশানদের কাছে শেষ ষোলোর ম্যাচে পরাজয়েই শেষ হলো একজন স্প্যানিশ কিংবদন্তির আন্তর্জাতিক ফুটবল। লুঝনিকি স্টেডিয়ামের মিক্সড জোন দিয়ে এবার অশ্রু ঝরা চোখ নিয়ে হেঁটে গেলেন ইংলিশ তারকারাও।

বিশ্বকাপ কতটা আবেগের! কতটা গৌরবের! এই আবেগ, এই গৌরব কেবল একজন ফুটবলারই অনুভব করতে পারেন। জাতীয় পতাকাকে বহন করে বিশ্ববাসীর সামনে নিজ দেশের ভাবমূর্তি তুলে ধরার গৌরব কী সবার হয়! কিন্তু এই গৌরব যখন শেষ হয়ে যায়। কোটি কোটি মানুষের আশা যদি ভঙ্গ হয়। আবেগের নদীটি যদি শুকিয়ে যায়। ভাঙা মন নিয়ে এই ফুটবলাররাই মাথা নিচু করে অশ্রু লুকাতে লুকাতে মাঠ ছাড়েন। এই অশ্রু ড্রেসিং রুমে গিয়ে হয়ত শুকিয়ে যায়। কিন্তু মিক্সড জোনে দাঁড়িয়ে থাকা স্বদেশি সাংবাদিকদের দেখলে, তাদের শুকনো মুখ দেখলে, তাদের আবেগী প্রশ্নগুলো শুনলে, কোনো ফুটবলারই আর ঠিক থাকতে পারেন না। ইংলিশদের কাছে হেরে মিক্সড জোন দিয়ে যাওয়ার সময় কেঁদেছিলেন সুইডিশ ফুটবলাররা। চেনামুখ পেলেই জড়িয়ে ধরে সান্ত্বনা খুঁজছিলেন। দুয়েকজনের চোখ ফেটে বেরিয়ে এসেছিল অশ্রুরাশি। সামারা অ্যারিনার আঁকা-বাঁকা মিক্সড জোনে সেদিন সুইডিশদের ঠিক বিপরীত দৃশ্য ছিল। হ্যারি কেইন হেঁটে যাচ্ছেন। থেমে থেমে কথা বলছেন। হাসছেন।

পরিচিত মুখ দেখলে জড়িয়ে ধরছেন। ডিলে আলি, অ্যাশলি ইয়াঙ, রহিম স্টারলিংরা কী ফুরফুরে মেজাজেই না ছিলেন সেদিন!

এবার ভিন্ন দৃশ্য। লুঝনিকি স্টেডিয়ামের মিক্সড জোন সামারার সম্পূর্ণ বিপরীত। ক্রোয়েশিয়ার ফুটবলাররা হেসে, কৌতুক করে, স্বদেশি সাংবাদিকদের সঙ্গে গলাগলি করে এগিয়ে গেলেন। অন্যদিকে ইংলিশদের চোখ অশ্রুসিক্ত। ফাইনাল খেলতে না পারার বেদনা তাদের হৃদয়ের খুব গভীরে। সারা শরীরে লেগে আছে যেন পরাজিত সৈনিকদের মতোই অসংখ্য জখম। জুলে রিমে ট্রফিজয়ী ইংলিশদের কাছে বিশ্বকাপের সোনার ট্রফিটা এবারেও অস্পৃশ্যই রয়ে গেল।

মাঠে জয়-পরাজয়ের পর ফুটবলারদের দুটি দল দুই রকমের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। একদল হাসতে হাসতে চোখে অশ্রু নিয়ে আসে। উৎসব করতে করতে কেঁদে দেয়। আরেকদল আক্ষরিক অর্থেই কাঁদতে থাকে। এই কান্না না পাওয়ার। হৃদয়ের খুব গভীর থেকে বেরিয়ে আসে এই কান্না। কিন্তু দশতলা সমান উঁচু মিডিয়া ট্রিবিউনে বসে কী আর ফুটবলারদের আনন্দ-বেদনার এই দ্বৈত দৃশ্য ঠিকভাবে দেখা যায়! মিক্সড জোনই তাই উপযুক্ত স্থান। এখানে কাছ থেকে ফুটবলারদের দেখা যায়। ইচ্ছে হলেই স্পর্শ করা যায়। গলা মিলিয়ে আনন্দ প্রকাশ করা যায়। বুকে জড়িয়ে সান্ত্বনা দেওয়া যায়। কান্না-হাসির মিক্সড জোনে দেখা যায় ফুটবলারদের সত্যিকারের রূপ। এখানে কেউই তার সত্যিকারের রূপটা প্রকাশ না করে পারেন না। কারণ, এই জোন যে আবেগটা প্রকাশ করার জন্যই!

এই পাতার আরো খবর
up-arrow