Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : মঙ্গলবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ টা প্রিন্ট ভার্সন আপলোড : ৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ২৩:৪০
ফুটবল জাগরণে বাংলাদেশের যাত্রা
শুরুতে প্রতিপক্ষ ভুটান
রাশেদুর রহমান
ফুটবল জাগরণে বাংলাদেশের যাত্রা
বহু প্রতীক্ষিত সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের আসর মাঠে গড়াচ্ছে আজ। সন্ধ্যায় প্রতিপক্ষ ভুটানের বিপক্ষে লড়াইয়ের আগে প্রস্তুতি সেরে নিচ্ছেন বাংলাদেশের ফুটবলাররা —বাংলাদেশ প্রতিদিন

ফুটবলে মেয়েরা বেশ এগিয়ে যাচ্ছে। ছোট ছোট মেয়েরা জয় উপহার দিচ্ছে দেশে-বিদেশে। জয়ের নেশায় তারা ঘুরে বেড়াচ্ছে। কখনো আঞ্চলিক টুর্নামেন্ট কখনো সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ। জিতেই চলেছে। মেয়েদের এই পথচলা দেখতে দেখতে ছেলেরাও যেন এখন জেগে উঠার প্রত্যয়দীপ্ত। এইতো, শেষ হওয়া এশিয়ান গেমস ফুটবলে অনূর্ধ্ব-২৩ লেভেলের দলটা হারিয়েছে আগামী বিশ্বকাপের আয়োজক দেশ কাতারকে। ড্র করেছে থাইল্যান্ডের সঙ্গে। উত্তর কোরিয়ার কাছে হারলেও খেলেছে দারুণ ফুটবল।

দিন বদলের গান শুনিয়েই নতুন একটা টুর্নামেন্টে খেলতে নামছে বাংলাদেশ। ২০০৩ সালে ঘরের মাঠে শিরোপা জিতলেও সাফের মিশনটা বড্ড চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে বাংলাদেশের। এই টুর্নামেন্টে ভরাডুবির কারণে দেশের ফুটবলে হাহাকার নেমে এসেছে। জনপ্রিয় এই খেলাকে জাগাতে হলে শিরোপাই একমাত্র পথ। চ্যালেঞ্জের মিশনে আজ প্রতিপক্ষ ভুটান।

এই সেই ভুটান যাদের কাছে পরাজয়ের দুঃখজনক স্মৃতি বয়ে বেড়াচ্ছে বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে। এএফসি এশিয়ান কাপের প্রাক-বাছাই পর্বে ২০১৬ সালে ভুটানের কাছে ৩-১ গোলে হেরে গিয়েছিল লাল-সবুজ জার্সিধারীরা। এরপর তো অনেকে এদেশে ফুটবলের এপিটাফটা লিখে ফেলেছিলেন। দীর্ঘদিন আন্তর্জাতিক ফুটবলের উঠুনে মুখ লুকিয়েছিলেন মামুনুলরা। এরপর বাংলাদেশের ফুটবলে গতিপথ বদলে দিতেই যেন কোচ জেমি ডের আগমন। ব্রিটিশ এই কোচ ধীরে ধীরে দলটাকে গড়ে তুলেন। তরুণদের মধ্যে নিয়ে আসেন ফুটবল উন্মাদনা। কাতারের মতো দলকে হারানো হয়ত তারই প্রমাণ! তবে ঘরের মাঠে বড় পরীক্ষার সামনে জেমি ডের শিষ্যরা। সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ। দীর্ঘ ১৫ বছর আগে এই টুর্নামেন্ট জিতেছিল বাংলাদেশ। এরপর বার বারই চোয়ালবদ্ধ প্রতিজ্ঞা নিয়ে মাঠে হাজির হয়। কিন্তু কোনোবারই আর শিরোপা জেতা হয়নি। এবার অবশ্য ভিন্নরকমের একটা দল গড়ে তুলেছেন জেমি ডে। ভিন্ন কৌশলেরও!

‘আমাদের কৌশল কী হবে তা প্রতিপক্ষের ওপর নির্ভর করে। এমনকি ম্যাচের মাঝ পথেও আমাদের পরিকল্পনা পরিবর্তন হতে পারে।’ জেমি ডের কণ্ঠে যেন ব্রাজিলের রাশিয়া বিশ্বকাপের কোচ তিতের সুর। তিতেও বিশ্বকাপের দলকে মাঠে নামাতেন ভিন্ন ভিন্ন তিনটা পরিকল্পনা নিয়ে। ম্যাচের মাঝখানেও তাই ব্রাজিল দলের মধ্যে দেখা যেত নান্দনিক পরিবর্তন। কেবল পরিকল্পনার ক্ষেত্রে কেন, আরও অনেক দিক দিয়েই ব্রাজিল দলকে অনুসরণ করতে শুরু করেছেন জেমি ডে। এরই মধ্যে তিনি ঘোষণা করে দিলেন, বাংলাদেশে কোনো একক অধিনায়ক নেই। দলের সবাই অধিনায়ক! কে যে অধিনায়ক হবে, বলা কঠিন। ম্যাচ শুরুর ঠিক পূর্বে জানা যাবে অধিনায়কের নাম। ঠিক ব্রাজিল দলের মতোই পদ্ধতি গ্রহণ করেছেন জেমি ডে।

ভুটানের কাছে পরাজয়ের ঘটনা আছে। সেই ঘটনা ভালোই মনে আছে নাসিরের। তবে বাংলাদেশের এই ডিফেন্ডার ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে এসে বলে গেলেন, ‘আমরা প্রতিশোধ নিতে চাই না। নিজেদের সেরাটা খেলতে চাই। গত চারটা মাস কঠোর পরিশ্রম করেছি। সেই পরিশ্রমের ফল পেতে চাই। তিনটা পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়তে চাই।’ প্রতিপক্ষের নামের দিকেই তাকাতে রাজি নয় বাংলাদেশ!

ভুটান সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ খেলতে এসেছে সবচেয়ে অভিজ্ঞ দল নিয়ে। ঢাকা তাদের কাছে অনেক পরিচিত ভেন্যু। প্রতিপক্ষ হিসেবেও কী পরিচিত! ভুটানও কিন্তু অতীত ভুলে ভালো একটা ফুটবল ম্যাচ খেলার প্রত্যয়ই ব্যক্ত করেছে। গতকাল ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে ভুটানের ব্রিটিশ কোচ ট্রেভর মরগান বললেন, ‘আমাদের প্রস্তুতিটা খুব ভালো হয়েছে। আমরা এবার মাঠে নিজেদের প্রমাণ করতে চাই।’

অতীতে ১০ বার মুখোমুখি হয়েছে বাংলাদেশ-ভুটান। এর মধ্যে বাংলাদেশই জিতেছে সাতবার। ড্র হয়েছে দুইবার। ভুটান জিতেছে একবার। তবে ভুটানের এই জয়টা শেষ লড়াইয়ে। এ কারণে বাংলাদেশের ওপর চাপ থাকতে পারে। কিন্তু কোচ জেমি ডে বলছেন, ‘আমরা দারুণ ফুটবল খেলছি। ছেলেদের বলেছি ফুটবলটা উপভোগ করতে শেখ।’ কোচের এই বক্তব্যের সময় মিটিমিটি হাসছিলেন পাশে বসা নাসির। কে জানে, বাংলাদেশ দলটা হয়ত সত্যিই বদলে গেছে! জয়ের নেশায় হয়ত তারা সত্যিই বুঁদ হয়ে আছে! অতীত ব্যর্থতা ভুলিয়ে এই দলটা হয়ত নতুন  স্বপ্নের পথে নিয়ে যাবে বাংলাদেশের ফুটবলকে! সাফ জিতে হতাশায় থাকা ফুটবলকে জাগাবে এই প্রত্যাশা সবার।

 

 

এই পাতার আরো খবর
up-arrow