Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : বুধবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ টা প্রিন্ট ভার্সন আপলোড : ৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ২৩:৩৬
নেপালকে হারিয়ে পাকিস্তানের স্বস্তি
ক্রীড়া প্রতিবেদক
নেপালকে হারিয়ে পাকিস্তানের স্বস্তি

এক-দুই নয়, তিন বছর আন্তর্জাতিক ফুটবলের বাইরে ছিল মহেঞ্জোদারো-হরপ্পার দেশ পাকিস্তান। ২০১৫ সালে দেশটি সর্বশেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছিল বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব। ড্র করেছিল মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ইয়মেনের সঙ্গে। টানা বাজে পারফরম্যান্সে বিরক্ত দেশটির সরকার ফুটবলের উপর অলিখিত নিষেধাজ্ঞা জারি করে। শুধু তাই নয়, দেশটির ফুটবল সচল রাখতে অর্থনেতিক সাহায্য, সহযোগিতাও বন্ধ রাখে। এমন ঘোর অমানিশার মধ্যেও ফুটবল খেলে গেছে দেশটির ফুটবলাররা। ভালোবেসে ফুটবল খেলেছে বলেই ফের ফিরেছে আন্তর্জাতিক অঙ্গণে। শুধু ফেরা নয়, উৎসব, উচ্ছ্বাসে মেতে উঠার মতোই পারফরম্যান্স করছে দেশটি। ১৬ দিনের ব্যবধানে দেশটি দুই দুটি স্মরণীয় জয় তুলে নিয়েছে আন্তর্জাতিক ফুটবলে। প্রথমটি আগস্টে জাকার্তা এশিয়াডে ‘হিমালয় দুহিতা’ নেপালের বিপক্ষে। দ্বিতীয়টি গতকাল বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে। সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের সূচনা ম্যাচে গতকাল শেষ মিনিটের নয়নাভিরাম গোলে নাটকীয় জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে পাকিস্তান। মজার বিষয়, জাকার্তা এশিয়াডের মতো সাফ চ্যাম্পিয়নশিপেও নেপালের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের জয় ২-১ গোলে।

র‌্যাঙ্কিংয়ে পাকিস্তান ২০৩। ইরিত্রিয়া, ইথিওপিয়ার সঙ্গে সমোচ্চারিত নাম। নেপালের অবস্থান ১৬৪। সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সের বিচারে দুই দলের শক্তিতে এগিয়ে নেপাল। গতকাল দুই দল নেমেছিল জয়ের টার্গেটে। তার উপর নেপালের জন্য ম্যাচটি ছিল প্রতিশোধেরও। এমন সমীকরণের ম্যাচটিতে নেপাল অপেক্ষাকৃত ভালো খেলেছে। কিন্তু ফিনিশারের অভাবে ড্র কিংবা হার এড়াতে পারেনি দলটি। উল্টো রক্ষণভাগকে আঁটোসাঁটো করে কাউন্টার অ্যাটাকনির্ভর ফুটবল খেলে ম্যাচ জিতে মাঠ ছাড়ে পাকিস্তান। এর আগে ২০০৩ সালে ঢাকায় পাকিস্তান সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের সূচনা ম্যাচে চির প্রতিদ্বন্দ্বী ভারতকে হারিয়েছিল ১-০ গোলে। ২০০৯ সালে সূচনা ম্যাচ খেলেছিল পাকিস্তান। কিন্তু ০-১ গোলে হেরেছিল ‘দ্বীপরাষ্ট্র’ শ্রীলঙ্কার কাছে। ফলে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ঢাকায় তিন আসরের সূচনা ম্যাচেই খেলেছে পাকিস্তান। জিততেই হবে-এমন টার্গেটে দুই দল শুরু থেকে আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে। এরই মধ্যে ৩৫ মিনিটে এগিয়ে যায় পাকিস্তান। পাকিস্তানকে পেনাল্টিতে এগিয়ে নেন হাসান নাভিদ বশির। ডান প্রান্ত থেকে ভেসে আসা বলে হেড নিতে শূন্যে লাফিয়ে উঠেন মুহাম্মদ রিয়াজ। কিন্তু তার আগে নেপালের অধিনায়ক বিরাজ মহরাজন ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন। রেফারি পেনাল্টির নির্দেশ দেন। বশির ঠাণ্ডা মাথায় ডান দিক দিয়ে বল জালে পাঠান (১-০)। পিছিয়ে পড়ে গোল শোধের জন্য চেষ্টা চালায় নেপাল। কিন্তু পাকিস্তানের রক্ষণভাগে এসে তাদের আক্রমণগুলো থমকে যাচ্ছিল। এভাবেই শেষ হয় প্রথমার্ধ। দ্বিতীয়ার্ধে দুই দলই একাধিক পরিবর্তন এনে খেলতে নামে। আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে খেলাটি জমে উঠে। ৭৫ মিনিটে প্রায় ৩৫ মিটার দূর থেকে ডান পায়ে শট নেন বদলি খেলোয়াড় সাদুল্লাহ। বলটি জালে প্রবেশ করার ঠিক আগ মুহূর্তে নেপালের গোলরক্ষক কিরন কুমার লাম্বে হাত ছুঁইয়ে নিশ্চিত গোল রক্ষা করেন। এভাবেই খেলা চলছিল। ৮২ মিনিটে অসাধারণ গোলে সমতা আনে নেপাল। ডান প্রান্ত থেকে কর্নারে ভেসে আসা বলে ব্যাক হেড করেন অঞ্জন। বল আসে ফাঁকায় দাঁড়ানো বিমল ঘারতি মাঘার বাঁ পায়ের প্লেসিং শটে সমতা আনেন (১-১)। সমতায় শেষ হয় নির্ধারিত ৯০ মিনিট। অতিরিক্ত সময় দেওয়া হয় ৫ মিনিট। খেলার ৯৪ মিনিটে অসাধারণ এক গোলে দলকে অবিশ্বাস্য জয় উপহার দেন মোহাম্মদ আলি (২-১)। বাঁ প্রান্ত থেকে মোহাম্মদ আদিলের ক্রসে হেড করেন সাদুল্লাহ। বল ছোট বক্সে দাঁড়ানো আলির সামনে যেতেই হেডে  গোল করে দুর্দান্ত জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে পাকিস্তান। এই জয়ে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের সেমিফাইনালের আশা জাগিয়ে রাখে পাকিস্তান। দলটির পরের ম্যাচ বাংলাদেশের বিপক্ষে আগামীকাল। শ্রীলঙ্কার পরের ম্যাচের প্রতিপক্ষ ভুটান।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow