Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ টা প্রিন্ট ভার্সন আপলোড : ৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ২২:৩৯
এগিয়ে যাওয়ার লড়াই বাংলাদেশের
গ্রুপ পর্বে প্রতিপক্ষ পাকিস্তান
ক্রীড়া প্রতিবেদক
এগিয়ে যাওয়ার লড়াই বাংলাদেশের

সুফিল, জনি, বিপলুদের ম্যাচ দেখতে মাঠে দর্শক আসবেন কি না, সংশয় ছিল দিনভর। সন্দেহকে তুড়ি মেরে সময়ের চোরাসে াতে ভরে উঠেছিল বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম। শুধু তাই নয়, ‘ফুটবল ফিরে পাক সোনালি সময়’ -লেখা ব্যানার নিয়ে মাঠে উপস্থিত থেকে দর্শকরা উন্মাতাল সমর্থন জুুগিয়েছেন দলকে। দর্শকদের উন্মাদনায় জল ঢেলে দেননি ফুটবলাররা। উপহার দিয়েছেন দুর্দান্ত এক জয়। ভুটানের বিপক্ষে জয়ের সুখস্মৃতি নিয়েই বাড়ি ফিরে যান তারা। এই জয়ে এখন অনেকটাই নির্ভার জেমি ডে-এর শিষ্যরা। সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে আজ দ্বিতীয় ম্যাচ। পাকিস্তান প্রবল প্রতিপক্ষ না হলেও শক্তিমত্তায় খুব পিছিয়ে নেই। সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের পরিসংখ্যান বলছে, দুই দলই সমানে সমান। সুতরাং কেউই আজ ফেবারিট নয়। তার উপর সেমিফাইনালে খেলার সম্ভাবনা রয়েছে দুই দলের। এমন সমীকরণের কাটাছেঁড়ায় আজকের ম্যাচটি দুই দলের জন্য জীবন বাজির লড়াই।

সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ শুরু ১৯৯৩ সালে। চার দলের টুর্নামেন্টটির নাম ছিল সার্ক গোল্ড কাপ। প্রথম আসরে অংশ নেয়নি বাংলাদেশ। ১৯৯৫ সাল থেকে নিয়মিত অংশ নিয়ে চ্যাম্পিয়ন একবার, ২০০৩ সালে। এবার নিয়ে তৃতীয়বার চ্যাম্পিয়নশিপ আয়োজন করছে এবং ২০০৯ সালে সেমিফাইনাল খেলেছিল বাংলাদেশ। সাফের ১১ আসরে সর্বাধিক ৭ বারের চ্যাম্পিয়ন ভারত এবং একবার করে চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ, মালদ্বীপ, আফগানিস্তান ও শ্রীলঙ্কা। পাকিস্তান সেমিফাইনাল খেলেছে দুবার। ২০০৫ সালে সেমিফাইনালে বাংলাদেশ জিতেছিল জাহিদ হাসান এমিলির গোলে। সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে দুই দল এখন পর্যন্ত মুখোমুখি হয়েছে ৬ বার। হার-জিত-ড্র সমানে সমান। দুই দলই জিতেছে দুটি করে ম্যাচ। ১৯৯৫ সালে প্রথমবার মুখোমুখি লড়াইয়ে ০-১ গোলে হেরেছিল বাংলাদেশ। পরের আসরে দেখা হয়নি। ১৯৯৯ সালে প্রতিশোধ নেয় বাংলাদেশ ৪-০ গোলে বিধ্বস্ত করে। পাকিস্তানের বিপক্ষে এখন পর্যন্ত এটাই সবচেয়ে বড় জয়। চ্যাম্পিয়নশিপে সর্বশেষ লড়াই ২০১৫ সালে। এমিলির গোলে এগিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত হেরেছিল বাংলাদেশ। আসরে বাংলাদেশের দুটি জয় ১৯৯৯ সালে ৪-০ এবং ২০০৫ সালে ১-০ গোলে। হার ১৯৯৫ সালে ০-১ এবং ২০১৩ সালে ১-২ গোলে। সব মিলিয়ে দুই দল ম্যাচ খেলেছে দুটি। বাংলাদেশের ৭ জয়ের বিপক্ষে পাকিস্তানের জয় ৫টি। অমীমাংসিত পাঁচ ম্যাচে। গোল করেছে ১৮টি এবং খেয়েছে ৮টি। ১৯৮৫ সালে কায়দে আজম ট্রফিতে বাংলাদেশ ৩-০ ও ৩-১ গোলে হারিয়েছিল পাকিস্তানকে। ঢাকার মাটিতে দুই দলের সর্বশেষ লড়াইয়ে এমিলি, রেজাউল ও জাহিদের গোলে ৩-০ ব্যবধানে জিতেছিল। বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে দুই দলের ফিরতি ম্যাচটি গোলশূন্য ড্র হয়েছিল ইসলামাবাদে।

আজ দুই দল পরস্পরের বিপক্ষে নামছে জয়ের আত্মবিশ্বাস নিয়ে। বাংলাদেশ ঘরের মাটিতে সর্বশেষ ম্যাচ জিতেছিল ৩২ মাস আগে। এই দীর্ঘ সময়ে জয় অধরাই ছিল টাইগারদের। এরই মধ্যে ২০১৬ সালের অক্টোবরে ভুটানের ৩-১ গোলে হারে র‌্যাঙ্কিংয়ের তলানিতে এসে থামে। সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়াতে মরিয়া সুফিল, জনিরা। এশিয়ান গেমসে কাতারকে ১-০ গোলে এবং থাইল্যান্ডের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্রয়ের পরও র‌্যাঙ্কিংয়ে অবস্থান ১৯৭। পাকিস্তানের র‌্যাঙ্কিং ২০৩। তার উপর তিন বছর আন্তর্জাতিক ফুটবলের বাইরে ছিল দেশটি। স্বেচ্ছা নির্বাসন কাটিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ফিরে দুবারই হারিয়েছে নেপালকে এবং ব্যবধান ২-১। ভুটানের কাছে হারের পর বাংলাদেশও আন্তর্জাতিক খেলা থেকে ১৭ মাস বাইরে ছিল। লাওসের বিপক্ষে ২-২ গোলে ড্রয়ের ম্যাচ দিয়ে ফিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে। এখন পারফরম্যান্সের গ্রাফ উপরেই উঠছে। জয়ের স্বাদ পাচ্ছে। ফুটবলাররা ফিরে পাচ্ছেন আত্মবিশ্বাস। সেই আত্মবিশ্বাস নিয়েই সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ২-০ গোলে হারায় র‌্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে থাকা ভুটানকে।

সিন্ধু পাড়ের দেশ পাকিস্তানকে আজ হারালেই সেমিফাইনালের পথে এক পা দিয়ে ফেলবে বাংলাদেশ। তবে কাজটি যে সহজ নয়, বেশ ভালো করেই জানেন কোচ জেমি ডে। ভুটানকে হারিয়ে আত্মবিশ্বাস ফিরে পেয়ে কোচ বলেন, ‘পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচটি অনেক কঠিন হবে। তারা বেশ সুঠামদেহী। তাদের বিপক্ষে জিততে হলে বল দখলে রেখে খেলতে হবে।’ ভুল বলেননি কোচ। নেপালের বিপক্ষে সুদৃঢ় রক্ষণভাগ নিয়ে অন্তিম মুহূর্তের গোলে ম্যাচ জিতে মাঠ ছাড়ে পাকিস্তান। সুতরাং র‌্যাঙ্কিংয়ে পিছিয়ে পাকিস্তানের বিপক্ষে জিততে হলে শতভাগ উজার করেই খেলতে হবে সুফিলদের। শুধু তাই নয়, কাজে লাগাতে হবে সুযোগগুলোকে।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow