Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : শুক্রবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ টা প্রিন্ট ভার্সন আপলোড : ৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০৫
সাফ ক্লাব ফুটবলের দেখা মিলবে কবে?
ক্রীড়া প্রতিবেদক
সাফ ক্লাব ফুটবলের দেখা মিলবে কবে?

বিশ্ব ফুটবলে সবচেয়ে দুর্বল অবস্থানে রয়েছে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো। এতটা সংকটাপন্ন অবস্থা যে বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্নটাও স্বপ্নে পরিণত হয়েছে। তাই তো সাফ চ্যাম্পিয়নশিপকে এই অঞ্চলের বিশ্বকাপ বলা হয়। এক সময়ে ভারতের এশিয়া কাপ ও এশিয়ান গেমসেও শিরোপা জয়ের রেকর্ড রয়েছে। সেই ভারতই কি না ফুটবলে হা হুতাশ করছে। সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে সর্বোচ্চ চ্যাম্পিয়ন তারাই। কিন্তু সাফতো আর ফুটবলে বড় কোনো টুর্নামেন্ট নয়। ক্রিকেট জোয়ারে ভারতের ফুটবলও এখন অন্ধকারে হাবুডুবু খাচ্ছে। সেখানে বাংলাদেশ বা অন্য দেশের তো আরও করুণ হাল।

দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে ফুটবলে সব চেয়ে জনপ্রিয় দেশ ছিল বাংলাদেশ। ঘরোয়া আসরে গ্যালারিভরা দর্শক দেখে ফিফার তৎকালীন সভাপতি জো হ্যাভেল্যাঞ্চ বলেছিলেন, ঢাকায় যে ফুটবল ঘিরে উন্মাদনা তা আমি বিশ্বকাপ খেলা অন্য দেশে দেখিনি। তিনি আশা প্রকাশ করেছিলেন এই জনপ্রিয়তা যদি ধরে রাখতে পারে তাহলে বাংলাদেশ অচিরেই বিশ্বকাপ খেলবে। হ্যাভেল্যাঞ্চ আশাবাদী ছিলেন। কিন্তু সেই বাংলাদেশের এখন বিশ্বকাপের বাছাইপর্ব খেলাটা স্বপ্নে পরিণত হয়েছে। প্রাক-বাছাই পর্বেই গোলের বন্যায় ভেসে যাচ্ছে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর ফুটবলে মান উন্নয়নের লক্ষ্যে গঠন হয় সাউথ এশিয়ান ফুটবল ফেডারেশন। যেহেতু শক্তিশালী দলগুলোর বিপক্ষে খুব একটা সুযোগ হয় না। তাই নিজেদের মধ্যে নানা টুর্নামেন্ট আয়োজন করে মান উন্নয়নে চেষ্টা চালাচ্ছে। সার্ক চ্যাম্পিয়ন দিয়েই আজকের সাফ ফুটবলের যাত্রা হয়। পরবর্তীতে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ নামেই এ টুর্নামেন্ট মাঠে নামছে। সাফ গঠন করে এই অঞ্চলের উন্নয়ন যে ঘটেনি তাও বলা যাবে না। মালদ্বীপ, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান ও ভুটানের যে অগ্রগতি তা হয়েছে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের মাধ্যমে। সাফ ছাড়াও জুনিয়র লেভেলে বয়সভিত্তিক টুর্নামেন্টও চালু হয়েছে। মেয়েরাও খেলছে। নারী ফুটবলে বাংলাদেশের যে উত্থান এর পেছনে বড় অবদান সাফ চ্যাম্পিয়নশিপই। সুতরাং লাভতো হচ্ছে। দুই বছর অন্তর অন্তর জাতীয় দলকে নিয়ে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ হচ্ছে। অনূর্ধ্ব-১৫ ও ১৮ টুর্নামেন্টও হচ্ছে। ফুটবলের দুর্দিনেও ফুটবলে ভারতের স্বস্তি হচ্ছে সাফে শিরোপাই। এশিয়ান বা বিশ্বে ঘুরে দাঁড়াতে সাউথ এশিয়ান ফেডারেশনকে আরও কর্মসূচি নিতে হবে। বিশেষ করে ক্লাবভিত্তিক টুর্নামেন্টটা খুবই জরুরি হয়ে পড়েছে। বাংলাদেশ, ভারত, মালদ্বীপ, পাকিস্তানেও জনপ্রিয় ক্লাব রয়েছে। ঢাকা ও কলকাতা লিগে জনপ্রিয়তা ছিল তুঙ্গে। সুতরাং এসব শীর্ষ পর্যায়ে ক্লাবগুলোকে নিয়ে টুর্নামেন্ট করলে এই অঞ্চলের ফুটবলে আরও গুরুত্ব বাড়বে। দেখা মিলবে নতুন প্রতিভার। পরবর্তীতে তারা আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে দেশের সুনাম আনতে পারবেন। সাফের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের দুই বড় পদে দায়িত্বে বাংলাদেশই। কাজী সালাউদ্দিন ও আনোয়ারুল হক হেলাল বিষয়টি তো আরও ভালো উপলব্ধি করতে পারছেন। সালাউদ্দিন অভিভাবকের দায়িত্ব নেওয়ার পর বেশ কবার বলেছেন, সাফে ক্লাবভিত্তিক টুর্নামেন্টেও হবে। কিন্তু এখন পর্যন্ত তা শুধু প্রতিশ্রুতিতেই বন্দী রয়েছে। জাতীয় দলের পাশাপাশি ক্লাব টুর্নামেন্ট হলে বড় উপকারটা হবে বাংলাদেশের। তাই যত দ্রুত ক্লাব টুর্নামেন্ট হবে তাতে লাভ বাংলাদেশেরই।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow