Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : শনিবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ টা প্রিন্ট ভার্সন আপলোড : ৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০
নেপাল ফুটবলের উত্থানের নেপথ্যে বাংলাদেশ!
ক্রীড়া প্রতিবেদক
নেপাল ফুটবলের উত্থানের নেপথ্যে বাংলাদেশ!
গণেশ থাপা

দক্ষিণ এশিয়া ফুটবলে নেপালের অবস্থা খুবই সংকটাপন্ন ছিল। আগাখান গোল্ডকাপে তারা জাতীয় দল পাঠিয়েও গোলের বন্যায় ভেসে যেত। ঢাকা ওয়ান্ডারার্সের কাছে ৭-০ গোলে হারার লজ্জা ছিল নেপালের। তাহলে এই অঞ্চলে ফুটবলে দেশটির উত্থান ঘটল কীভাবে? যদি বলি এর পেছনে বড় অবদান বাংলাদেশেরই। প্রশ্ন উঠতে পারে কীভাবে? বাংলাদেশের কোনো খ্যাতনামা কোচ কি প্রশিক্ষণ দিয়ে নেপালের শক্তি বাড়িয়েছে। তাও নয়।

গণেশ থাপার কথা নিশ্চয় অনেকেরই মনে আছে। নেপালের সবচেয়ে জনপ্রিয় ফুটবলার। অবসর নেওয়ার পর নেপাল ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতির দায়িত্ব নেন। তার হাত ধরেই নেপালের অগ্রগতি ঘটেছে। গণেশ থাপা আবার তারকার খ্যাতি নেপালে খেলে পাননি। আশির দশকে ঢাকা লিগে খেলতে আসেন। ১৯৮১ সালে তার অভিষেক হয় ঐতিহ্যবাহী মোহামেডানে। ১৯৮৩-তে খেলেন আবাহনীতে। ১৯৮৫-১৯৮৬ দুই মৌসুমে ফের খেলেন মোহামেডানে। এই দুই মৌসুমে তার পারফরম্যান্স ছিল চোখে পড়ার মতো। ১৯৮৫ সালে আবাহনীর বিপক্ষে চমৎকার এক গোল করে সাড়া ফেলে দেন। নেপালের কোনো ফুটবলার ঢাকা লিগে তারকার খ্যাতি পাবেন তা ভাবায় যায়নি।

বাংলাদেশের মতো ফুটবল জনপ্রিয় দেশে গণেশ থাপার উত্থান দেখে নেপালিরা অনুপ্রেরণা পান। জেগে উঠতে থাকে ফুটবল। পরবর্তীতে আরও বেশ কজন নেপালি ফুটবলার ঢাকা লিগে বিভিন্ন দলে খেলে গেছেন। কিন্তু গণেশের মতো সুনাম কেউ কুড়াতে পারেননি। ১৯৯৯ সালে কাঠমান্ডু সাফ গেমস চলাকালে নেপাল ফুটবল ফেডারেশনের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বলেন, গণেশ থাপা যদি ঢাকায় না খেলতেন তাহলে নেপালের ফুটবল সেভাবে জাগত না। সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশ আজ গ্রুপ পর্বের লড়াইয়ে নেপালের মুখোমুখি হচ্ছে। জয় নয়, ম্যাচ ড্র করতে পারলেই বাংলাদেশ গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে সেমিফাইনালে চলে যাবে। নেপাল বলেই অতীতের অনেক স্মৃতি ভেসে উঠছে। পিছিয়ে থাকলেও এই নেপালই সাফ গেমসে বাংলাদেশের আগে সোনা জিতেছে। শুধু তাই নয়, দল হিসেবে নেপালেরই প্রথম সোনা জয়ের কৃতিত্ব রয়েছে। ১৯৮৪ সালে কাঠমান্ডুতে অনুষ্ঠিত হয় প্রথম সাফ গেমস। সেই গেমসে ফুটবলে চ্যাম্পিয়ন হয় নেপাল। তাদের এই সাফল্য অবিশ্বাসই বলা যায়। ১৯৮৪ সালে গ্রুপের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশ ৫-০ গোলে বিধ্বস্ত করে নেপালকে। ফাইনালে দুই দেশই মুখোমুখি হয়। ম্যাচে ২ গোলে এগিয়ে যাওয়ায় অনেকে নিশ্চিত ছিলেন সোনা জিততে যাচ্ছে বাংলাদেশই। দ্বিতীয়ার্ধে উজ্জীবিত খেলা খেলে পিছিয়ে থাকা নেপাল ৪-২ গোলে জিতে যায়। জিতে নেয় স্বপ্নের সোনা। ১৯৯৩ সালে ঢাকায় সাফ গেমসেও নেপাল সোনা জিতেছিল। অথচ সোনা পেতে বাংলাদেশকে অপেক্ষা করতে হয়েছিল ১৫ বছর। ফাইনালে প্রতিপক্ষ ছিল নেপালই। ফুটবলে বেশ কিছু স্মৃতি জড়ানো দুই দল যখনই মুখোমুখি হয় অতীত স্মৃতি জেগে ওঠে।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow