Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ টা প্রিন্ট ভার্সন আপলোড : ১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ২৩:১৮
দুবাইয়ে নির্ভার টাইগাররা
ক্রীড়া প্রতিবেদক
দুবাইয়ে নির্ভার টাইগাররা
দুবাই সিটিতে মুশফিকের সেলফি ফ্রেমে নাজমুল অপু, মোসাদ্দেক, মিথুন ও শান্ত —সংগৃহীত
bd-pratidin

আভিজাত্য ও ঐতিহ্যে লর্ডস, মেলবোর্ন কিংবা ইডেনের ধারে কাছে নেই। কিন্তু জনপ্রিয়তায় এসব ক্রিকেট ভেন্যুর চেয়ে পিছিয়ে নেই খুব একটা। বরং জমাটি ম্যাচ উপহার দিয়ে সবার চেয়ে একটু বেশিই এগিয়ে। অবশ্য ম্যাচ পাতানোর অভিযোগেও দুষ্ট শারজাহ ক্রিকেট স্টেডিয়াম। শারজাহ যেখানে, সেই সংযুক্ত আরব আমিরাতে বসছে এশিয়া কাপ ক্রিকেট। ছয় জাতির টুর্নামেন্ট খেলতে মাশরাফি, মুশফিকরা এখন ‘বিজনেস সিটি’ দুবাইয়ে। মরু রাজ্যে শিরোপা জয়ের স্বপ্ন নিয়ে পা রেখেছে মাশরাফি বাহিনী। পরশু পা রেখে গতকাল দুবাই সিটি কমপ্লেক্সে অনুশীলন করেন মাশরাফিরা। ভিসা জটিলতায় অবশ্য দলের সঙ্গে যোগ দিতে পারেননি নির্ভরযোগ্য ব্যাটসম্যান তামিম ইকবাল ও পেসার রুবেল হোসেন। ভিসা না হওয়ায় যাওয়ার সময়ও নিশ্চিত হতে পারেনি এখনো। ভিসা জটিলতায় আটকে আছেন ম্যানেজার খালেদ মাহমুদ সুজন ও প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নুও। গতকাল ভিসা পেয়েছেন স্পিন কোচ সুনীল জোসি। ক্রিকেটাররা উঠেছেন ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে।

আরও দুবার মরুর দেশে ক্রিকেট খেলেছে বাংলাদেশ। ২৩ বছর আগে ১৯৯৫ সালে পেপসি এশিয়া কাপ এবং ১৯৯০ সালে অস্ট্রেলেশিয়া কাপ খেলেছিল টাইগাররা। আগের দুই আসরে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ সীমাবদ্ধ ছিল শুধু অংশগ্রহণেই। মাশরাফিরা এবার অংশ নিচ্ছেন শিরোপার স্বপ্ন বুকে ধারণ করে।

ওয়ানডেতে বাংলাদেশের অভিষেক ১৯৮৬ সালে এশিয়া কাপে। মরু রাজ্যে প্রথম ম্যাচ ১৯৯০ সালে অস্ট্রেলেশিয়া কাপে। ছয় জাতির ওই টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের প্রথম প্রতিপক্ষ ছিল নিউজিল্যান্ড। জন রাইটের ৯৩, অ্যান্ড্রু জোন্সের ৯৩ ও মার্টিন ক্রোয়ের ৬৯ রানের ভর করে ৪ উইকেটে ৩৩৮ রান করেছিল ব্ল্যাক ক্যাপসরা। মিনহাজুল আবেদীন নান্নু ৩৯ রানে ২টি এবং ১টি করে উইকেট নিয়েছিলেন গোলাম নওশের প্রিন্স ও গোলাম ফারুক সুরু। জবাবে আজহার হোসেন সান্টুর ৫৪, আকরাম খানের ৩৩, নান্নুর ১৮, আমিনুল ইসলাম বুলবুলের ৩০ রানে ভর করে ৫০ ওভারে বাংলাদেশ করেছিল ৫ উইকেটে ১৭৭। দ্বিতীয় ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের করেছিল ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে ১৩৪ রান। বুলবুল সর্বোচ্চ ৪১ রান করেছিলেন। অ্যালান বোর্ডারের অস্ট্রেলিয়া ম্যাচ জিতেছিল ৬ উইকেটে।

১৯৯৫ সালে এশিয়া কাপে অংশ নিতে ফের মরু রাজ্যে উড়ে যায় বাংলাদেশ। একপেশে লড়াইয়ে ভারতের বিপক্ষে ৪৩.৩ ওভারে ১৬৩ রান করে। সর্বোচ্চ ৩০ রান করেন বুলবুল। আকরাম ২৪ ও ২১ রান করেছিলেন নান্নু। ভারত ২৭.১ ওভারে ১ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ জিতে নেয় অনায়াসে। দ্বিতীয় ম্যাচে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দুরন্ত বোলিং করেন সাইফুল ইসলাম। তার বিধ্বংসী বোলিংয়ে দ্বীপরাষ্ট্র গুটিয়ে যায় ২৩৩ রানে। সাইফুল নেন ৩৬ রানে ৪ উইকেট। বহুদিন অক্ষত ছিল তার এই রেকর্ডটি। মুরলীধরনের ঘূর্ণিতে বাংলাদেশ গুটিয়ে যায় ৪৪.২ ওভারে ১২৬ রানে। পাকিস্তানের বিপক্ষে তৃতীয় ম্যাচে ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে ১৫১ রান করে। সর্বোচ্চ ৪৪ রান আকরাম, ৪২ বুলবুল ও খালেদ মাসুদ পাইলট করেন ২৭ রান। ম্যাচটি হেরে যায় বাংলাদেশ ৬ উইকেটে। মরু রাজ্যে খেলা পাঁচ ম্যাচের ফল ছিল একপেশে। এবারই প্রথম জয়ের স্বপ্ন নিয়ে মাঠের লড়াইয়ে নামবেন মাশরাফিরা। টাইগারদের স্বপ্ন পূরণের মিশন শুরু ১৫ সেপ্টেম্বর শ্রীলঙ্কা ম্যাচ দিয়ে। ম্যাচটি জিতলে দ্বিতীয় রাউন্ডের পথ সুগম হবে টাইগারদের। ২০ সেপ্টেম্বর গ্রুপের শেষ ম্যাচের প্রতিপক্ষ আফগানিস্তান। দুটি ম্যাচ জেতাই টার্গেট অধিনায়ক মাশরাফির। অবশ্য টাইগার অধিনায়কের নজর       শুধুই প্রথম ম্যাচ।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow