Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : বুধবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ টা প্রিন্ট ভার্সন আপলোড : ১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ২৩:১০
ইতিহাস গড়ার হাতছানি নেপাল-পাকিস্তানের
শেষ চারের লড়াই আজ
ক্রীড়া প্রতিবেদক
ইতিহাস গড়ার হাতছানি নেপাল-পাকিস্তানের

ঢাকায় এর আগে ২০০৩ ও ২০০৯ সালে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ঘরের মাঠে প্রথম আসরেই চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল স্বাগতিক বাংলাদেশ। ছয় বছর পর পুনরায় অনুষ্ঠিত হলে মামুনুলরা সেমিফাইনাল খেলেছিলেন। এবার তো হতাশার মিশন শেষ। অথচ যে প্রস্তুতি নিয়ে মাঠে নেমেছিল আশা জেগেছিল ১৫ বছর পর ট্রফি ঘরে তোলার। বাংলাদেশের শুরুটাও হয়েছিল দারুণ। গ্রুপের প্রথম ম্যাচে ভুটানকে ২-০ ও দ্বিতীয়টি ১-০ ব্যবধানে জিতে শক্তিশালী পাকিস্তানের বিপক্ষে।

টানা দুই ম্যাচ জেতার পর সেমিফাইনাল নিয়ে কারও সংশয় ছিল। অপেক্ষায় ছিল প্রতিপক্ষ দল কারা? এতটা কাছে আসার পরও এক হারেই সর্বনাশ হয়ে গেল বাংলাদেশের। পাকিস্তান ৩-০ গোলে ভুটানকে হারার পর সেমির কিঞ্চিৎ সম্ভাবনাটা জাগিয়ে রাখে। ক্রীড়ামোদীদের বিশ্বাস ছিল জয় না হোক অন্তত ড্র করেই জামাল ভুঁইয়ারা ঠিকই গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েই সেমিফাইনাল জায়গা করে নেবে। এই সামান্য কাজটুকুও করতে পারল না ঘরোয়া আসরে লাখ লাখ টাকার পাওয়া ফুটবলাররা। নেপালের কাছে ২-০ গোলে হেরে বাংলাদেশের বিদায়। এই হার নিয়ে অনেক বিতর্ক হচ্ছে। বিশেষ করে গোলরক্ষক সহিদুল আলম সোহেলকে নিয়েই যত প্রশ্ন। মূলত তারই ভুলে বাংলাদেশ প্রথমার্ধে গোল হজম করে। এই এক গোলই ম্যাচে ফুটবলারদের মনোবল ভেঙে দেয়। এটা ঠিক যদি বাংলাদেশ ড্র বা জিতলে কোনো কথা উঠতো না। হারের পর যত কথা। আসলে বিতর্ক হবেই না কেন, দলে পরীক্ষিত গোলরক্ষক আশরাফুল ইসলাম রানা থাকার পরও তাকে কেন সাফে খেলানো হলো না? এশিয়ান গেমসে রানা দৃঢ়তার পরিচয় দেওয়ার পর তার তো সেবা একাদশের বাইরে থাকার কথা না। কোচ জেমি ডে এ নিয়ে অনেক যুক্তি দেখাচ্ছেন। কিন্তু একটা অভিযোগ বড় আকার ধারণ করেছে। তা হচ্ছে স্বজনপ্রীতি বা দলপ্রীতি। সোহল এবার পেশাদার লিগে খেলবেন বিশেষ এক দলে। তাই সেই দলের প্রভাব খাটিয়ে সাফে সেরা একাদশে নামানো হয়। সবচেয়ে বড় কথা নীলফামারীতে গোলরক্ষক সোহেলের ভুলে বাংলাদেশ প্রীতিম্যাচে শ্রীলঙ্কার কাছে হেরে যায়। তারপরও কেন সাফে খেলানো হলো তাকে। যাক যতই তর্ক বা সমালোচনা না হোক না কেন, বাংলাদেশ আউট এটাই বাস্তবতা। বাংলাদেশ ছাড়া সেমিফাইনালে হাজার হাজার দর্শকের উপস্থিতি ঘটবে না তা নিশ্চিত বলা যায়। দর্শক হোক বা নাই হোক ফাইনালে উঠতে চার দলই মরিয়া হয়ে লড়বে। ভারতের ৭ ও মালদ্বীপের একবার শিরোপা জয়ের কৃতিত্ব রয়েছে। নেপাল ও পাকিস্তান একবারও সাফ চ্যাম্পিয়ন হতে পারেনি। এমনকি ফাইনাল খেলার রের্কডও নেই তাদের। দুই দলেরই ইতিহাসের হাতছানি দিচ্ছে।

মালদ্বীপকে হারাতে হবে নেপালকে। পাকিস্তানকে জিততে হবে ভারতের বিপক্ষে। পারফরম্যান্সের বিচারে মালদ্বীপের বিপক্ষে নেপালই ফেবারিট। আরেক ম্যাচে পাকিস্তানের বিপক্ষে ভারতই এগিয়ে আছে। ঢাকায় ২০০৯ সালে ভারত-মালদ্বীপ মুখোমুখি হয়েছিল। সেই পুনরাবৃত্তি ঘটবে কিনা সেটারই অপেক্ষা।

up-arrow