Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ টা প্রিন্ট ভার্সন আপলোড : ১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ২৩:০৩
অ্যান্ডারসনই ইংল্যান্ড-সেরা ক্রিকেটার
ক্রীড়া ডেস্ক
অ্যান্ডারসনই ইংল্যান্ড-সেরা ক্রিকেটার
ইংলিশ কিংবদন্তি অ্যালিস্টার কুকের সঙ্গে আরেক গ্রেট ফাস্ট বোলার জেমস অ্যান্ডারসন —ফাইল ফটো

অ্যালিস্টার কুকের রূপকথা শেষ! টেস্ট ক্রিকেটের শেষ ইনিংসে সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে নিজেকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। সতীর্থরাও শেষ ম্যাচে তাকে দিয়েছেন জয় উপহার।

ইংল্যান্ডের ক্রিকেটারদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি রানের মালিক কুক। তবে বিদায় বেলায় নিজেকে সেরা ক্রিকেটার হিসেবে দাবি করেননি। বরং বন্ধু জেমস অ্যান্ডারসনকে বলেছেন ইংল্যান্ডের সেরা ক্রিকেটার। কুকের বিদায়ী ম্যাচেই যে ইংলিশ পেসার অ্যান্ডারসন ছাপিয়ে গেছেন অস্ট্রেলিয়ার সাবেক পেসার গ্লেন ম্যাগ্রাকে। অ্যান্ডারসন এখন টেস্টে ক্রিকেটের ইতিহাসে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি পেসার।

ভারতের বিরুদ্ধে আগের ম্যাচেই সিরিজ নিশ্চিত করেছিল ইংল্যান্ড। তবে কুকের বিদায়ী ম্যাচ বলে শেষ ম্যাচটির গুরুত্ব অনেক বেড়ে গিয়েছিল। এই ম্যাচের শেষ ইনিংসে কুক সেঞ্চুরি করায় সতীর্থদের মধ্যে জয়ের ক্ষুধা আরও বাড়িয়ে দিয়েছিল। কেন না কুকের বীরত্বগাথা এমন একটি ম্যাচ ড্র হলে যে ইংলিশ কিংবদন্তি ব্যাটসম্যানের বিদায় লগ্নটা মহিমান্বিত হতো না ততটা।

ভারতের ব্যাটসম্যান মোহাম্মদ সামীকে আউট করার পরই ৫৬৪তম উইকেট নিয়ে ম্যাগ্রাকে ছাড়িয়ে গেছেন। সেই সঙ্গে শেষ ম্যাচে ইংল্যান্ডের ১১৮ রানের জয় নিশ্চিত হয়ে যায়। ম্যাচ শেষে বন্ধু অ্যান্ডারসনকে উদ্দেশ্য করে কুক বলেন, ‘এ পর্যন্ত ইংল্যান্ড দলের হয়ে খেলা ক্রিকেটারদের মধ্যে অ্যান্ডারসনই সেরা। সে অসাধারণ এক ক্রিকেটার। আমার সৌভাগ্য যে এমন একটা মুহূর্তে আমি তার পাশে থেকে তাকে অভিনন্দন জানাতে পারছি।’

কুক যখন প্রশংসা করছেন তখন পাশে দাঁড়িয়ে কাঁদছিলেন অ্যান্ডারসন। নিজের সেরা অর্জনের ম্যাচটি কিনা তার সবচেয়ে কাছের বন্ধুর বিদায়ী ম্যাচ। তাই আবেগ সংবরণ করতে পারেননি অ্যান্ডারসন। টেস্টের সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি এই পেসার বলেন, ‘আমি খুব চেষ্টা করছিলাম না কাঁদার জন্য। কিন্তু নিজেকে কিছুতেই সংবরণ করতে পারিনি। সত্যি কথা বলতে কি, কুক আমাদের কাছে শুধুমাত্র একজন সতীর্থ নন, তিনি একজন রোল মডেল। তিনি যখন খেলেন তখন নিজের সর্বোচ্চ উজাড় করে দেন। এটা আমি খুব কাছে থেকে দেখেছি। আমরা এমন একজন রোল মডেলকে আর দলে পাব না।’

নিজের রেকর্ড সম্পর্কে অ্যান্ডারসন বলেন, ‘এটা আমার জীবনে একটা বিশেষ অর্জন। এমনটা আমি কখনোই প্রত্যাশা করিনি। আমি ইংল্যান্ডের হয়ে ক্রিকেট খেলাটা উপভোগ করেছি এবং নিজের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করেছি।’

টেস্ট ক্রিকেটে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারের দিক থেকে অ্যান্ডারসনের সামনে কেবল তিন স্পিনার— ভারতের অনিল কুম্বলে (৬১৯), অস্ট্রেলিয়ার শেন ওয়ার্ন (৭০৮) এবং শ্রীলঙ্কার মুত্তিয়া মুরালিধরন (৮০০)। অ্যান্ডারসনের সতীর্থদের দাবি, তিনি খুব শিগগিরই ৬০০ উইকেট শিকারের মাইলফলকও অর্জন করবেন। ইংলিশ অধিনায়ক জো রুট বলেন, ‘কী দুর্দান্ত অর্জন। এক কথায় এটা অবিশ্বাস্য। অ্যান্ডারসন ম্যাগ্রাকে ছাপিয়ে গেছেন। এখন তার সামনে কেবল স্পিনাররা। আমরা চাই, তার ক্যারিবীয় আরও দীর্ঘ হোক। আর যত বেশি দিন খেলতে পারবেন, তার জন্য নতুন রেকর্ড গড়া আরও সহজ হয়ে যাবে। ক্রিকেটে সব কিছুই সম্ভব।’

৩৬ বছর বয়সী অ্যান্ডারসনও চান আরও বেশ কিছুদিন খেলা চালিয়ে যেতে, ‘এখনো আমি খেলা উপভোগ করি। যতদিন আমি ফ্রেশ থাকব ততদিন দেশের জন্য খেলে যাব।’

এই পাতার আরো খবর
up-arrow