Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ টা প্রিন্ট ভার্সন আপলোড : ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ২৩:২৭
ব্যস্ত দুবাইয়ে এখনো জমেনি ক্রিকেট
ব্যস্ত দুবাইয়ে এখনো জমেনি ক্রিকেট
শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডে জিতে এশিয়া কাপের সুপার ফোর নিশ্চিত করল আফগানিস্তান। ২৫০ লক্ষ্যে খেলতে নেমে রশিদ-মুজিবদের বোলিং তোপে ১৫৮ রানেই থেমে যায় লঙ্কানদের ইনিংস —এএফপি

সূর্য পশ্চিমে ডুবতেই আলোয় উদ্ভাসিত হয়ে উঠে দুবাই। নিয়ন বাতির লাল-নীল আলোয় ষোড়শীর রূপে ধরা দেয় বিশ্বের সবচেয়ে ব্যস্ততম শহরটি। দুবাইয়ের সৌন্দর্য্য উপভোগ করতে এদিক-ওদিক বেরিয়ে পড়েন পর্যটকরা। মাখদুম নদীর পাড় ঘেঁষে ১৬৩ তলা  সুউচ্চ হোটেল বুর্জ আল খলিফার সামনে দাঁড়ালেই স্পষ্ট হয়ে উঠে কতটা আভিজাত্য নিয়ে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে পর্যটন নগরী দুবাই। হাজার হাজার পর্যটকরা আসেন ইতিহাস ও ঐতিহ্যের ধারক দুবাইয়ের ব্যস্ততা দেখতে। এরমধ্যে বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানের লোকজনও আছে। কিন্তু কারোরই ক্রিকেট নিয়ে তেমন কোনো উন্মাদনা নেই। আগ্রহ নেই ক্রিকেট আলোচনায় মেতে উঠতে। শুধু আমজনতা নয়, ছয় জাতির এশিয়া কাপ নিয়ে ব্যস্ত দুবাইয়ে একটি বিলবোর্ড কিংবা তোড়নের দেখা মিলেনি। যাও বা মিলেছে, সেটা আবার দুবাই স্পোর্টস সিটিতে ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ঢোকার রাস্তায়। খেজুর গাছ ঘেরা রাস্তার দুই পাশে লাল-নীল ফেস্টুনে এশিয়া কাপের লোগো এবং তোড়নে লেখা, ‘বিগেস্ট এশিয়ান ফেস অফ’। এশিয়া কাপ ক্রিকেট নিয়ে এসিসির প্রচারণা বলতে এটুকুই। দুবাই এখন ক্রিকেটের চারণভূমি। বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল শহরটিতেই ক্রিকেটের শাসক সংস্থা আইসিসির হেড অফিস। মরুরাজ্যে আশির দশক থেকে ক্রিকেট হচ্ছে। পাকিস্তানের হোম ভেন্যুও এটি। শুধু তাই নয়, এখানে বিভিন্ন চ্যাম্পিয়নশিপও বসছে নিয়মিত। পাঁচটি টেস্ট খেলুড়ে দেশ বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও শ্রীলঙ্কার লোকজনের পদচারণায় ভরপুর শহরটিতে। ক্রিকেট আবেদনের কথা ভেবেই অস্ট্রেলেশিয়া কাপ, এশিয়া কাপ, এশিয়ান টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ হয়েছে এবং হচ্ছে নিয়মিত। এশিয়া কাপের বেশ কয়েকটি আসর বসেছে দুবাইয়ে। ১৯৯৫ সালে এশিয়া কাপে খেলেছিল বাংলাদেশ। সেবার তিন ম্যাচের সবগুলোতই হেরেছিল গো হারা। সময়ের চোরাস্রোতে বাংলাদেশ এখন ফেবারিট। শিরোপা জয়ের স্বপ্ন দেখছে। তারপরও আগ্রহ নেই খুব বেশি।

পর্যটন নগরী দুবাইয়ে ব্যয়বহুল জীবনযাত্রায় তাল মেলাতে হিমশিম খাচ্ছে লাখো বাঙালিসহ উপমহাদেশের অধিবাসীরা। দিন-রাত উদায়স্ত পরিশ্রম করেও তাল মেলাতে পারছেন না। হিমশিম খাচ্ছে। তাই এশিয়া কাপ নিয়ে আগ্রহ নেই। তবে যতটুকু আছে, সেটা খোঁজ-খবরেই সীমাবদ্ধ। মাঠে যেয়ে পকেটের টাকা খরচ করে ম্যাচ দেখার আগ্রহ নেই কারও। তারপরও দেখছেন। কিন্তু এসিসি কিংবা আমিরাত ক্রিকেট বোর্ড এশিয়া কাপ নিয়ে কোনো আগ্রহের সৃষ্টি করতে পারেনি। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচ জেতার পর বাংলাদেশের দর্শকের আগ্রহ বেড়েছে বহুগুণ। তারা এখন খোঁজ নিচ্ছেন।

ট্যাক্সি ড্রাইভার মোহাম্মদ সেলিম, বাড়ি মাদারীপুর। ১২ বছর ধরে ট্যাক্সি চালান দুবাইয়ে। দেশে থাকতে কখনো মাঠে যেয়ে ক্রিকেট দেখেননি। ক্রিকেটের চেয়ে ফুটবলের প্রতি আগ্রহ বরাবরই বেশি। দ্বীপরাষ্ট্রকে হারানোর পর বাংলাদেশের ক্রিকেট নিয়ে আগ্রহী হয়েছেন। কিন্তু সেটা ওই খোঁজ খবর নেওয়া পর্যন্তই। মাঠে যাওয়ার কোনো আগ্রহ নেই তার, ‘আমরা দুবাই এসেছি টাকা কামাই করতে। অফুরন্ত সময় নেই আমাদের। তাই চাইলেও আমাদের পক্ষে মাঠে যেয়ে খেলা দেখা সম্ভব নয়। আর আমরা অধিকাংশ বাঙালিই জানতাম না এখানে ক্রিকেট খেলতে আসবে বাংলাদেশ।’ ভুল বলেননি সেলিম। দুবাইয়ের পত্র-পত্রিকায়ও এশিয়া কাপ নিয়ে আলাদা কোনো প্রচারণা নেই। শহরের সবচেয়ে প্রচারিত ক্রীড়া ম্যাগাজিন নিউজ ৩৬০-এর প্রথম পাতায় ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর ছবি। সেখানে লেখা রোনালদো গোল করেছেন। জিতেছে জুভেন্টাস। পরের পাতাগুলোতেও স্প্যানিশ ফুটবল, প্রিমিয়ার লিগের খবরে ভরা। ২৪ পাতার পত্রিকার শুধুমাত্র দুই পাতায় ক্রিকেট সংবাদ। সর্বাধিক প্রচারিত দৈনিক খালিজ টাইমসও পিছিয়ে নেই। স্পোর্টস পাতায় শুধুমাত্র এক পাতার ক্রিকেট সংবাদ। তামিম ইকবাল ও মুশফিকুর রহিমকে নিয়ে শুধু প্রকাশিত হয়েছে সংবাদ। বাকি সব ফুটবল।

দুবাইয়ে এশিয়া কাপ বসলেও একটি বিষয় স্পষ্ট হয়েছে, ক্রিকেট শুধু হাতে গোনা বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কান জনগণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। সবাই ব্যস্ত জীবন নিয়ে।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

আফগানিস্তান : ২৪৯/১০ (৫০ ওভার) শ্রীলঙ্কা : ১৫৮/১০ (৪১.২ ওভার)

এই পাতার আরো খবর
up-arrow