Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : রবিবার, ১৮ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ টা প্রিন্ট ভার্সন আপলোড : ১৭ নভেম্বর, ২০১৮ ২২:৫৫
ইনজুরি কাটিয়ে ফিরলেন সাকিব
ক্রীড়া প্রতিবেদক
ইনজুরি কাটিয়ে ফিরলেন সাকিব

এশিয়া কাপের ফাইনালে খেলতে পাকিস্তানকে হারাতেই হতো মাশরাফিদের। আঙ্গুলের ইনজুরি মারাত্মক হওয়ায় জীবন বাজির ওই ম্যাচ খেলেননি সাকিব আল হাসান। ফিরে আসেন দেশে। বিশ্বসেরা অলরাউন্ডারকে ছাড়াই পাকিস্তানকে হারিয়ে এশিয়া কাপের ফাইনাল খেলে বাংলাদেশ। আঙ্গুল পুরোপুরি ঠিক না হওয়ায় জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টেস্ট ও ওয়ানডে সিরিজে খেলেননি। ওয়ানডেতে তার অভাব বোধ না করলেও টেস্টে বুঝা যাচ্ছিল পুরোপুরি। তাই টিম ম্যানেজমেন্ট অপেক্ষায় ছিলেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডারের সুস্থতার। নিজেকে প্রমাণের জন্য মুখিয়ে ছিলেন সাকিবও। অবশেষে মাঠে নামার সার্টিফিকেট পেয়েছেন। মুখিয়ে থাকা টিম ম্যানেজমেন্টও সুযোগটাকে কাজে লাগিয়েছেন চট্টগ্রামে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম টেস্টের স্কোয়াডে নিয়ে। শুধু তাই নয়, বিশ্বসেরা অলরাউন্ডারের কাঁধে তুলেও দিয়েছেন দলের দায়িত্ব। চট্টগ্রাম টেস্টকে সামনে রেখে গতকাল ১৩ সদস্যের স্কোয়াড ঘোষণা করেছে বিসিবি। ফিরেছেন জিম্বাবুয়ে সিরিজ মিস করা সাকিব। ওপেনারদের টানা ব্যর্থতায় নাভিশ্বাস অবস্থা সামলাতে ফিরিয়ে আনা হয়েছে বাঁ হাতি সৌম্য সরকারকে। প্রায় ১০ মাস পর ফিরেছেন তরুণ অফ স্পিনার নাঈম ইসলাম। জিম্বাবুয়ে সিরিজের স্কোয়াড থেকে বাদ পড়েছেন ওপেনার লিটন দাস, বাঁ হাতি ব্যাটসম্যান নাজমুল হোসেন শান্ত, আবু জায়েদ রাহি, শফিউল ইসলাম ও নাজমুল ইসলাম অপু। চট্টগ্রামে টেস্ট শুরু ২২ নভেম্বর। 

ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজে একাধিক পরিবর্তন আসছে মোটামুটি স্পষ্ট ছিল। গত বছর নিউজিল্যান্ডে হঠাৎ করে নাজমুল হোসেন শান্তকে টেস্টে সুযোগ দেন টিম ম্যানেজমেন্ট। কিন্তু সুযোগকে কাজে লাগাতে পারেনি। ২ টেস্ট খেলে ৪ ইনিংসে রান করেছেন সাকল্যে ৪৮। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিলেটে তার ব্যাট থেকে বেরিয়েছে ৫ ও ১৩ রান। তখনই নিশ্চিত হয়ে পরে তার বাদ পড়ার বিষয়টি। নতুন বলে পুরাপুরি ব্যর্থ আরেক ওপেনার লিটন দাস। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দুই টেস্টের চার ইনিংসে রান যথাক্রমে ৯, ৬, ২৩ ও ৯। ১২ টেস্টে রান করেছেন মোট ৫০৪। অথচ এশিয়া কাপের ফাইনালে ১১৭ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেছিলেন লিটন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজে শান্তর সঙ্গে বাদ পড়েছেন তিনিও। টিম ম্যানেজমেন্টের আশা ছিল তামিম ইকবাল সুস্থ হয়ে ফিরবেন। কিন্তু দেশসেরা ওপেনার পুরোপুরি সুস্থ হননি। তাই ফিরিয়ে আনা হয়েছে সৌম্যকে। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সর্বশেষ ওয়ানডে সিরিজের শেষ ম্যাচে সেঞ্চুরি করেন তিনি। তার আগে প্রস্তুতি ম্যাচেও তিন অংকের জাদুকরি ইনিংসও খেলেছিলেন বাঁ হাতি ব্যাটসম্যান। ফর্মে ফেরায় সৌম্যর উপর আস্থা রাখেন টিম ম্যানেজমেন্ট। অবশ্য চলতি বছরে এখন পর্যন্ত কোনো টেস্ট খেলেননি সৌম্য। গত বছর দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ব্লোমফন্টেইনে সর্বশেষ টেস্ট খেলেছিলেন তিনি। ছিটকে পড়ার রাস্তায় ছিলেন ইমরুল কায়েসও। ওয়ানডে সিরিজে দুই সেঞ্চুরি করা ইমরুল পুরোপুরি ব্যর্থ টেস্ট সিরিজে। চার ইনিংসে তার ব্যাট থেকে রান বেরিয়েছে যথাক্রমে ৫, ৪৩, ০ ও ৩। তারপরও ফর্মের বিচারে স্কোয়াডে রাখা হয়েছে ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে। টেস্ট স্কোয়াডে সৌম্যর অন্তর্ভুক্তি চমকের সৃষ্টি করেনি। যতটা করেছে ২০ বছর বয়স্ক অফ স্পিনার নাঈম হাসানের অন্তর্ভুক্তি। সদ্য সমাপ্ত জাতীয় ক্রিকেটে ২৮ উইকেট নিয়ে আস্থার সৃষ্টি করেন এই অফ স্পিনার। বাদ পড়েছেন বাঁ হাতি স্পিনার নাজমুল অপু এবং দুই পেসার শফিউল ও রাহি। মিরপুরে উইকেটশূন্য থাকলেও টিম ম্যানেজমেন্ট আস্থা রেখেছেন খালেদের উপর। স্কোয়াডে রয়েছেন ‘কাটার মাস্টার’ মুস্তাফিজুর রহমান।

বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব সর্বশেষ টেস্ট খেলেছিলেন জুলাইয়ে কিংস্টোনে। ১৬৬ রানে হারা ওই টেস্টে টাইগারদের সেরা পারফরমার ছিলেন বাঁ হাতি অলরাউন্ডার। প্রথম ইনিংসে উইকেট না পেলেও দ্বিতীয় ইনিংসে ছিলেন সফল। প্রথম ইনিংসে ২২ ওভারে ৬০ রান দিয়ে উইকেটশূন্য সাকিব দ্বিতীয় ইনিংসে ৬ উইকেট নেন। তার স্পেল ছিল ১৭-৫-৩৩-৬। ব্যাট হাতেও ছিলেন সফল। প্রথম ইনিংসে ৩২ ও দ্বিতীয় ইনিংসে ৫৪। টেস্টে ফেরা সাকিব দাঁড়িয়ে আছেন একটি ল্যান্ড মার্কের সামনে। আর মাত্র ৪টি উইকেট পেলেই প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে টেস্টে ২০০ উইকেট নেওয়ার ক্লাবে নাম লেখাবেন। ৫৪ টেস্টে সাকিবের রান ৩৬৯২ ও উইকেট ১৯৬টি।

 

চট্টগ্রাম টেস্টের দল

সাকিব আল হাসান (অধিনায়ক), সৌম্য সরকার, ইমরুল কায়েস, মোহাম্মদ মিথুন, মুমিনুল হক, মুশফিকুর রহিম, আরিফুল হক, মাহমুদুল্লাহ, মেহেদী হাসান মিরাজ, মোস্তাফিজুর রহমান, তাইজুল ইসলাম, খালেদ আহমেদ ও নাঈম হাসান।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow