Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ টা প্রিন্ট ভার্সন আপলোড : ৫ ডিসেম্বর, ২০১৮ ২৩:০৯
এবার পছন্দের মিশনে টাইগাররা
মেজবাহ্-উল-হক
এবার পছন্দের মিশনে টাইগাররা

টেস্ট সিরিজ নিয়ে খুবই টেনশনে ছিল বাংলাদেশ। ক্রিকেটের এই ফরম্যাটে খুব বেশি খেলার সুযোগ পান না টাইগাররা। সে কারণে খুব বেশি পারদর্শীও নন ক্রিকেটাররা। তাই ফলও আশানুরূপ নয়। এই ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে আগের সিরিজে তাদের মাটিতে সাকিবরা টি-২০ ও ওয়ানডে সিরিজ জিতলেও টেস্টে হোয়াইটওয়াশ হয়েছিল। এবার ঘরের মাঠে ২-০তে সিরিজ জিতে হোয়াইটওয়াশের জবাব দিয়েছে বাংলাদেশ। এবার শুরু হচ্ছে টাইগারদের পছন্দের মিশন— ওয়ানডে সিরিজ। ক্যারিবীয়ানরা তাদের ঘরের মাঠেই বাংলাদেশের সঙ্গে সিরিজ জিততে পারেননি, এখানে কি পারবে? তা ছাড়া এই সিরিজে ফিরেছেন দলের সেরা ব্যাটসম্যান তামিম ইকবাল। আর নেতৃত্বে থাকবেন মাশরাফি বিন মর্তুজা।

ইনজুরির কারণে টেস্ট সিরিজে খেলতে পারেননি ড্যাসিং ওপেনার। সাকিব আল হাসানও শতভাগ ফিট ছিলেন না। তারপরও পাত্তা পায়নি ক্যারিবীয়রা। আর সংক্ষিপ্ত এই ফরম্যাটে ফিট সাকিব-তামিমের সঙ্গে থাকছেন মাশরাফিও। এছাড়া মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ ও মুশফিকুর রহিম তো রয়েছেনই। ‘পঞ্চপাণ্ডব’সহ সেরা দল নিয়েই ক্যারিবীয়দের বিরুদ্ধে ওয়ানডে সিরিজে খেলতে নামছে বাংলাদেশ।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে সব শেষ তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে বাংলাদেশ জিতেছিল ২-১ ব্যবধানে। গত জুলাই মাসে অনুষ্ঠিত ওই সিরিজেও ক্যারিবীয়দের হোয়াইটওয়াশই করতে পারতেন মাশরাফিরা, কিন্তু দ্বিতীয় ম্যাচে জয়ের খুব কাছে গিয়েও হেরে যায় বাংলাদেশ। তবে এবার ঘরের মাঠে টাইগারদের টার্গেট হোয়াইটওয়াশ।

ক্যারিবীয়দের বিরুদ্ধে ওয়ানডে সিরিজে ব্যাট হাতে দুর্দান্ত দাপট দেখিয়ে ছিলেন তামিম ইকবাল। তিন ম্যাচের সিরিজে ১৪৩.৫ গড়ে ড্যাসিং ওপেনার করেছিলেন ২৮৭ রান। দুই সেঞ্চুরির সঙ্গে একটি হাফ সেঞ্চুরি। তাই ঘরের মাঠে ওয়ানডে সিরিজে তামিম ফেরায় টাইগারদের শক্তিমত্ত্বা আরও বেড়ে গেছে।

টেস্ট সিরিজে বাংলাদেশ সফল হয়েছে স্পিন অস্ত্রো ব্যবহার করে। প্রথম টেস্টে দলে একমাত্র পেসার হিসেবে ছিলেন মুস্তাফিজুর রহমান। কিন্তু কাটার মাস্টারকে ৪ ওভারের বেশি বোলিং করতে হয়নি। দ্বিতীয় টেস্টে ঢাকায় তো একাদশে ছিল না কোনো পেসার। আর এই ম্যাচেই কিনা বাংলাদেশ পেয়েছে টেস্ট ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জয়।

তবে টেস্টের মতো ওয়ানডে ম্যাচের উইকেট যে একই রকম হচ্ছে না তা বাংলাদেশ দল দেখেই বোঝা যায়। এই দলে মাশরাফিসহ মোট ৫ জন পেসার—রুবেল হোসেন, মুস্তাফিজুর রহমান, আবু হায়দার রনি ও মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন। এছাড়া দলে সুযোগ পাওয়া আরিফুল হকও মিডিয়াম পেস বোলিং করেন। সাইফুদ্দিন অলরাউন্ডার হলেও তিনি একাদশে সুযোগ পেলে ১০ ওভারই বোলিং করে থাকেন।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে ওয়ানডে সিরিজ নিয়ে বেশ উজ্জীবিত পেসার রুবেল হোসেন, ‘আমরা অবশ্যই সিরিজ জয়ের জন্য মাঠে নামবো। কিন্তু সিরিজে ব্যবধান ৩-০ হবে কিনা সেটা তো বলতে পারছি না। তবে আমাদের ক্রিকেটাররা বেশ আত্মবিশ্বাসী। টেস্ট সিরিজ জয়ের পর সবার বিশ্বাস বেড়ে গেছে।’

টেস্ট সিরিজে দলে ছিল চার স্পিনার। তবে ওয়ানডেতে বোলিং আক্রমণের নেতৃত্ব থাকবেন পেসাররা। কেন না ক্যারিবীয়দের মাটিতে পেস বোলারদের ওপর নির্ভর করেই সিরিজ জিতেছে বাংলাদেশ। তাহলে দেশের মাটিতে কেন পারবেন না টাইগার পেসাররা? রুবেল বলেন, ‘ম্যাচ জিতিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা আছে পেসারদের। পেসাররা অনেক ম্যাচ জিতিয়েছেও। আমাদের দলে যে পেসাররা আছেন তারা অবশ্যই আমাদের কন্ডিশনে ম্যাচ জেতাতে পারবেন।’

ওয়ানডেতে পেসারদের জন্য বড় পরীক্ষা হচ্ছে ডেথ ওভারে বোলিং করা। এসময় ব্যাটসম্যানরা উইকেটের কথা চিন্তা না করে সব বলই মারতে চান। তাই পেসারদের জন্য কাজটা অনেক কঠিন হয়ে যায়। তবে এই ডেথ ওভারে বোলিংয়ের জন্য বিখ্যাত রুবেল হোসেন। ২০১৫ সালের বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ম্যাচে তার এক জাদুকরি স্পেলেই জিতে যায় বাংলাদেশ। তবে আবার বেশি কিছু ম্যাচে বেদম মার খেয়ে ম্যাচ ডুবিয়েও দিয়েছেন রুবেল। তবে এই টাইগার পেসার ডেথ ওভার নিয়ে বেশি বেশি পরিশ্রম করছেন। ডেথ ওভারে বোলিং করা নিয়ে রুবেল বলেন, ‘আমি নয় বছর ধরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলছি। বেশ অভিজ্ঞতাও হয়েছে। তারপরও ডেথ ওভার নিয়ে অনেক কষ্ট করছি। আমার বোলিংয়ের শক্তির জায়গায়ই হচ্ছে ডেথ ওভারে। সেখানে আমার বোলিং করতেই হবে। আমি এমন সিচ্যুয়েশনে বোলিং করি যেখান থেকে ম্যাচে জেতাও সম্ভব আর হারাও সম্ভব। তাই আমাকে অনেক বেশি ফোকাসড থাকতে হয়। তবে এখন একটু বেশি জোর দিচ্ছি ডেথ ওভারে বোলিংয়ের ওপর।’

বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (বিকেএসপি) মাঠে আজ ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড একাদশ। এই দলেও ক্যাপ্টেন হিসেবে থাকবেন মাশরাফি। নিজেকে ঝালিয়ে নিতে খেলবেন তামিম ইকবাল ও রুবেল হোসেনও।

ওয়ানডেতে বাংলাদেশ ফেবারিট হলেও ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হালকাভাবে নিচ্ছেন না মাশরাফিরা। একটুখানি অসতর্কতার জন্য পছন্দের ফরম্যাটে কখনোই হারতে চায় না বাংলাদেশ।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow