Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ১৬ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৫ জানুয়ারি, ২০১৯ ২২:৪৫

রাইডার্সের সামনে ওয়ার্নারের সিক্সার্স

মেজবাহ্-উল-হক

রাইডার্সের সামনে ওয়ার্নারের সিক্সার্স
সিলেটে আজ মাঠে নামছে বিপিএলের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন রংপুর রাইডার্স। গতকাল অনুশীলনে ম্যাচ জয়ের কৌশল নিয়ে ক্যারিবীয় মারকুটে ব্যাটসম্যান ক্রিস গেইলের সঙ্গে আলাপ করছেন অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা -রোহেত রাজীব

পাঁচ ম্যাচের মধ্যে তিন হার! বিপিএলে চ্যালেঞ্জের মুখেই পড়ে গেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন রংপুর রাইডার্স। তবে প্লে-অফ নিশ্চিত করার জন্য এখনো যথেষ্ট সময় আছে। সামনে বাকি আছে আরও সাতটি ম্যাচ। আজ ষষ্ঠ ম্যাচে মাশরাফিদের প্রতিপক্ষ ডেভিড ওয়ার্নারের সিলেট সিক্সার্স। ঢাকায় বিপিএলের প্রথম ফেসে মাত্র দুই ম্যাচে জিতেছে রাইডার্স। তবে বাকি তিন ম্যাচেই তারা জয়ের মতো অবস্থায় ছিল। কিন্তু একটুখানি ভুলের জন্য শেষ মুহূর্তে হেরে যায়। প্রথম ম্যাচে রংপুর হেরেছে চিটাগং ভাইকিংসের বিরুদ্ধে। সেই ম্যাচে ব্যাটসম্যানরা সুবিধা করতে পারেননি। যে কারণে মাত্র ৯৮ রানে অলআউট হয়ে ছিল দলটি। তবে বোলাররা তারপরও লড়াই জমিয়ে তুলেছিল। তাদের দ্বিতীয় হারটি ঢাকা ডায়নামাইটসের বিরুদ্ধে, মাত্র ২ রানে। এর ম্যাচেও এক সময় জয়টা সহজ ছিল মাশরাফিদের জন্য। শেষ দিকে মাত্র ১৮ বলে রাইডার্সের দরকার ছিল ২৬ রান। হাতে তখনো ছিল ৬ উইকেট। কিন্তু ঢাকার ‘অচেনা’ স্থানীয় স্পিনার অ্যালিসন আল ইসলামের হ্যাটট্রিকের কারণে হেরে যায় চ্যাম্পিয়নরা। শেষ ম্যাচেও তারা যেন জেতা ম্যাচে রাজশাহী কিংসের কাছে পরাজিত হয়। ৫ রানের হার। অথচ শেষ ওভারে ফরহাদ রেজার কারণে চারটি বল ডট হয়েছে। মুস্তাফিজের ক্যারিশমায় হেরে যায় রংপুর।

ছোট ছোট ভুলের কারণে তিনটি খুব ক্লোজ ম্যাচে জিততে পারেনি উত্তরাঞ্চলের দলটি। তবে যে দুই ম্যাচে জিতেছে, প্রতিপক্ষকে রীতিমতো উড়িয়ে দিয়েছে। ছোট ছোট ভুল শুধরে আজ নতুনভাবে সিলেটে নামছে কোচ টম মুডির শিষ্যরা। বিপিএল শুরুর আগে রংপুরের বড় দুশ্চিন্তা ছিল বোলিং আক্রমণ নিয়ে। মজার বিষয় হচ্ছে, ঢাকায় প্রথম ফেসে রাইডার্সের সেই বোলিং আক্রমণ ভাগই ভালো করেছে। অথচ ব্যাটসম্যানরা প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি। ব্যবচ্ছেদ করলে দেখা যাবে, তিনটি হারেই দায়ী ব্যাটিং ব্যর্থতা। যাকে নিয়ে রংপুরের আশা-ভরসা টি-২০ সম্রাট ক্রিস গেইলের এখনো ঘুম ভাঙেনি। তিন ম্যাচে তার স্কোর তিনটি- ১, ৮, ২৩! তবে ব্যাট হাতে দুর্দান্ত দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটসম্যান রিলে রুশো। ৫ ম্যাচে ১১৫ গড়ে এই তারকা করেছেন ২৩০ রান। প্রোটিয়া এই তারকাই এখন ব্যাটিংয়ে রংপুরের বড় ভরসা। আর যদি গেইলের ব্যাট হেসে ওঠে তাহলে তো কথাই নেই। ক্যারিবীয় তারকা তো একাই একশো! ভয় এখানেই যে প্রতিপক্ষ দলটি ডেভিড ওয়ার্নারের সিক্সার্স। সঙ্গে রয়েছেন নিকোলাস পুরানের মতো ক্যারিবীয় তারকাও। দুই তারকা একসঙ্গে জ্বলে উঠলে সিলেটকে হারানো কঠিন!

তবে তিন ম্যাচে হেরে যাওয়ার পরও আত্মবিশ্বাস তুঙ্গে রংপুরের। কেন না আগের আসরেও প্রথম ম্যাচের মধ্যে তিনটিতে হেরেছিল ফ্র্যাঞ্চাইজি দলটি। তারপর গেইলদের দুর্দান্ত দাপটে প্রথমে প্লে-অফ নিশ্চিত করে দলটি, তারপর চ্যাম্পিয়ন। তাই এখনো অনেকটা নির্ভার মাশরাফিরা। হয়তো সিলেট পর্ব থেকেই বদলে যেতে পারে রংপুর রাইডার্স। সিক্সার্সের সঙ্গে মাশরাফিদের প্রথম দেখা হচ্ছে আজ। এই সিলেটে মাত্র দুটি ম্যাচ খেলবে চ্যাম্পিয়নরা। দুটি ম্যাচেই প্রতিপক্ষ স্বাগতিক সিলেট।

ঢাকার মতো নিশ্চিয়ই গ্যালারি থেকে সমর্থনও পাওয়া যাবে না। তারপরও আশাবাদী রংপুর। গ্যালারির সমর্থনের চিন্তা না করে মাঠের পারফরম্যান্স দিয়েই জয়ে ফিরতে চায় রংপুর। দলের তারকা অলরাউন্ডার বেনি হাওয়েল বলেন, ‘সিলেট সিক্সার্স তাদের ঘরের মাঠে স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থন পাবে। তা ছাড়া তাদের ওয়ার্নার, পুরানের মতো তারকা ব্যাটসম্যান আছে। তবে প্রতিপক্ষ যত শক্তিশালী হোক না কেন আমরা তাদের দুর্বলতা ঠিকই খুঁজে বের করব। পাশাপাশি আমাদের শক্তির জায়গাও কাজে লাগানোর চেষ্টা করব। আশা করি, জিতব আমরাই।’

হাওয়েল রংপুরের হয়ে খেলতে পেরে দারুণ খুশি। বিশেষ করে মাশরাফির ক্যাপ্টেন্সি তার ভীষণ ভালো লেগেছে। ইংলিশ তারকার ভাষ্য, ‘মাশরাফি দারুণ এক ক্যাপ্টেন। সবাই তাকে অনুসরণ করে। সে দলটাকে দারুণভাবে নেতৃত্ব দিচ্ছে। কখনো কার কি দরকার সে ব্যাপারে দারুণ সহযোগিতাও করছেন। দলের হারের পরও খেলোয়াড়দের মানসিকভাবে চাঙ্গা রাখছেন। আমরাও আগের হারের কথা ভুলে গিয়ে এখন জয়ের জন্য মুখিয়ে আছি।’ রংপুরের তুরুপের তাস তো ক্যাপ্টেন মাশরাফি-ই! নড়াইল এক্সপ্রেসের বিপিএল-ভাগ্য অসাধারণ। আগের পাঁচ আসরের মধ্যে চার আসরেই তার নেতৃত্ব দলই শিরোপা জিতেছে। রংপুর রাইডার্সও টানা দ্বিতীয় শিরোপা জয়ের লক্ষ্যে আবারও মাশরাফির হাতেই দিয়েছেন দায়িত্ব। এখন দেখা যাক, এবার রংপুরকে কত দূর নিয়ে যেতে পারেন ক্যাপ্টেন মাশরাফি! তবে আপাতত প্লে-অফের  দিকে দৃষ্টি দলটির। কিন্তু মাশরাফির দৃষ্টি আরও নিকটে। ম্যাচ বাই ম্যাচ চিন্তা করতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন তিনি।


আপনার মন্তব্য