Bangladesh Pratidin

ফোকাস

  • চকবাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৭০ জনের মরদেহ উদ্ধার, আরও থাকতে পারে: আইজিপি
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১৭ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ টা প্রিন্ট ভার্সন আপলোড : ১৬ জানুয়ারি, ২০১৯ ২২:৩১
রংপুরের হারেও উজ্জ্বল রুশো
আসিফ ইকবাল, সিলেট থেকে
রংপুরের হারেও উজ্জ্বল রুশো
৫৮ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেছেন রংপুর রাইডার্সের ব্যাটসম্যান রুশো। চতুর্থ জুটিতে মিথুনের সঙ্গে করেছেন ৮৯। তারপরও কাল জিততে পারেনি রাইডার্স। আউট হওয়ার পর ড্রেসিংরুমে ফেরার পথে হতাশায় মাথায় হাত দেন এই প্রোটিয়া তারকা -রোহেত রাজীব

মাশরাফি, সাকিব, মুশফিক, তামিমরা সর্বশেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন ডিসেম্বরে। এরপর দীর্ঘ ছুটি। এখন খেলছেন বিপিএল। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট নেই বলে দেশে ফিরে গিয়েছিলেন টাইগারদের ইংলিশ কোচ স্টিভ রোডস। চার দিন আগে ঢাকায় ফিরেই উড়ে আসেন সিলেট। দুটি কুড়ি ও একটি পাতা সিলেটে এসে গভীর মনোযোগে দেখছেন বিপিএলের খেলা। কাটাছেঁড়া করছেন প্রিয় শিষ্যদের পারফরম্যান্স। বাংলাদেশের দায়িত্ব নিয়ে এই প্রথম আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের বাইরে সবচেয়ে বেশি সময় খেলা দেখেছেন শিষ্যদের। ক্রিকেটারদের পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট কি না, পরিষ্কার করেনি। কিন্তু সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের আসাম-বাংলা প্যাটার্নের ভিআইপি গ্যালারিতে বসে গতকাল  তাড়িয়ে তাড়িয়ে উপভোগ করেছেন লিটন দাস, ডেভিড ওয়ার্নার ও রিলি রুশোর ব্যাটিং সৌকর্য। দেখেছেন উপরের সারির বাটসম্যানদের ব্যর্থতায় বিপিএলের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন রংপুর রাইডার্সের ২৭ রানের হার। মাশরাফির রংপুর হারলেও উজ্জ্বল ছিলেন দলের প্রোটিয়াস ব্যাটসম্যান রুশো। দলের টানা তৃতীয় হারের দিনেও তুলে নিয়েছেন আসরের তৃতীয় হাফ সেঞ্চুরি। আজ বিরতি। আগামীকাল আবার ময়দানি লড়াইয়ে নামবে রংপুর। প্রতিপক্ষ একই দল সিলেট সিক্সার্স। শুধু সময়ের হেরফের মাত্র। গতকাল খেলেছে সন্ধ্যায় ফ্লাড লাইটের আলো। আগামীকাল খেলা দুপুর দেড়টায়।  

জিততে হলে রেকর্ড গড়তে হতো রংপুরকে। টপকাতে হতো প্রতিপক্ষের ছুড়ে দেওয়া ১৮৮ রান। চলতি আসরে সবচেয়ে বেশি রান তাড়া করে জেতার রেকর্ড মুশফিকুর রহিমের চিটাগং ভাইকিংসের। কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের ছুড়ে দেওয়া ১৮৫ রান টপকে জয় পায় চিটাগং। শীতের রাতে জয়ের জন্য ১৮৮ রানের টার্গেটে তাড়া করে ১১ রানের মধ্যে সাজঘরে ফিরেন ক্রিস গেইল, মেহেদি মারুফ ও অ্যালেক্স হেলস। উপরের তিন ব্যাটসম্যানের বিদায়ে তখনই নিশ্চিত হয়ে পড়ে হার। সেখান থেকে রুশো চেষ্টা করেন অবিশ্বাস্য জয়ের লক্ষ্যে। মোহাম্মদ মিথুন সঙ্গ দিলেও টানা হারের ধাক্কা সামলানোর মতো রসদ দিতে পারেননি। প্রতিপক্ষের বোলিংকে সাধারণ মানে নামিয়ে আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে খেলেন ৫৮ রানের ইনিংস। ৩২ বলের ইনিংটিতে ছিল ৩ চার ও ৪ ছক্কা। আসরে ৬ ম্যাচে তার রান ২৮৮। আগের দুটো হাফ সেঞ্চুরির ইনিংস ৮৩ ও ৭৬ রানের।                     

ব্যবধান মাত্র সাড়ে তিন মাস। আলো ঝলমলে দুবাইয়ের লিটন দাস ফিরে আসেন অপরূপ সৌন্দর্যের সিলেটে। দুটি কুড়ি একটি পাতার সিলেটে লিটন ফেরেন মরু শহরের দুরন্ত ফর্ম নিয়ে। আলো ঝলমলে দুবাইয়ে এশিয়া কাপের ফাইনালে চার-ছক্কার বাহারি সব স্ট্রোকে খেলেছিলেন তিন অঙ্কের সোনালি এক ইনিংস। ধীরগতির সিলেটের ধীরগতির উইকেটকে প্রাণবন্ত করে কাল খেলেন ৭০ রানের নান্দনিক এক ইনিংস। বর্তমান চ্যাম্পিয়ন রংপুর রাইডার্সের বিপক্ষে গতকাল শুধু লিটন নন, আলো ছড়িয়েছেন সিলেট সিক্সার্সের অধিনায়ক ডেভিড ওয়ার্নার ও সাব্বির রহমান। স্বাগতিক তিন ব্যাটসম্যানের দুরন্ত বোলিংয়ে সিলেট সিক্সার্স স্কোর বোর্ডে লিখেছে ২০ ওভারে ৫ উইকেটে ১৮৭ রান। বিপিএলের ষষ্ঠ আসরে সিলেট সিক্সার্সের সর্বোচ্চ স্কোর। আগের স্কোরটি ছিল চিটাগং ভাইকিংসের বিপক্ষে ৫ উইকেটে ১৬৮। তিন স্বাগতিক ব্যাটসম্যানের আগ্রাসী ব্যাটিংয়ের মধ্যেও ঝাঁজালো বোলিং করেছেন পেসার শফিউল ইসলাম। হ্যাটট্রিকের আশা জাগিয়ে উইকেট নেন ৩টি। ৬ ম্যাচে ১২ উইকেট নিয়ে আসরে এখন তিনিই সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি। সুবিধা করতে না পারলেও দুই নম্বরে থাকা মাশরাফির উইকেট ১০টি। প্রথম তিন ম্যাচে এখানকার উইকেটে রান করতে যেখানে নাভিশ্বাস উঠেছে ব্যাটসম্যানদের, সেখানে স্পিনারদের ঘূর্ণির মধ্যেই অসাধারণ ব্যাটিং করেছেন লিটন ও ওয়ার্নার। আগের চার ম্যাচে সিলেটের জয় মাত্র একটি। এর মধ্যে পরশু কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের বিপক্ষে মাত্র ৬৮ রানে গুটিয়ে যাওয়ার লজ্জা ছিল সিলেটের। সেই লজ্জা এড়াতেই বোধহয় গতকাল ব্যাটিং অর্ডারে পরিবর্তন এনে খেলতে নামে স্বাগতিক সিলেট। প্রথমবারের মতো ওপেন করেন লিটন ও সাব্বির রহমান। ওয়ান ডাউনে খেলেন অসি ক্রিকেটার ওয়ার্নার। সিলেটের ধীরলয়ের উইকেটে নিজেদের মানিয়ে নিয়ে লিটন ও সাব্বির ৮.৩ ওভারে ৭৩ রান যোগ করে বিচ্ছিন্ন হন। প্রথমবার ওপেন করে সাব্বির ২০ রান করেন ২০ বলে ১ চার ও এক ছক্কায়। সতীর্থের বিদায়ের পর লিটনের সঙ্গে জুটি বাঁধেন ওয়ার্নার এবং দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে যোগ করেন ৪৭ রান। দলীয় ১২৯ রানে লিটন যখন রান আউট হন, তখন তার নামের পাশে জ¦লজ¦ল করছে ৭০ রান। ৪৩ বলের ঝলমলে ইনিংটিতে ছিল ৯টি চার ও একটি ছক্কায়। অথচ আগের চার ম্যাচে নেই দুই অঙ্কের কোনো স্কোর। ওয়ার্নার শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থাকেন ৬১ রান। এর আগে চিটাগং ভাইকিংসের বিপক্ষে ৫ রানের জয়ী ম্যাচটিতে খেলেছিলেন ৫৯ রানের ইনিংস। আসরে ওয়ার্নারের এটি দ্বিতীয় হাফ সেঞ্চুরি। দুটি হাফ সেঞ্চুরি রয়েছে হজরত উল্লাহ জাজাই ও পুরানের। একমাত্র তিন হাফ সেঞ্চুরি রংপুর রাইডার্সের প্রোটিয়াস ব্যাটসম্যান রিলি রুশোর। আগের পাঁচ ম্যাচে দারুণ বোলিং করা মাশরাফি ছিলেন খরুচে বোলার। ৩ ম্যাচে তিনি দিয়েছেন ৪৩ রান।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow