Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ২৩:৩২

আলোচনায় যখন ব্যাটসম্যানরা

মেজবাহ্-উল-হক

আলোচনায় যখন ব্যাটসম্যানরা
হোয়াইট ওয়াশ এড়াতে ম্যাচের আগে নিজেদের মধ্যে কৌশল ঠিক করে নিচ্ছেন অধিনায়ক মাশরাফি ও অভিজ্ঞ মাহমুদুল্লাহ -সৌজন্যে

নিউজিল্যান্ড সফরের প্রথম দুই ম্যাচেই বড় ব্যবধানে হেরেছে বাংলাদেশ। দুই ম্যাচেই ব্যর্থ হয়েছেন ব্যাটসম্যানরা। নেপিয়ারের পর ক্রাইস্টচার্চেও তামিম-মুশফিক-মাহমুদুল্লাহদের ব্যাটে রান খরা। প্রথম ওয়ানডেতে ২৩২ রান, দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ২২৬। অথচ নিউজিল্যান্ডের উইকেটে রানে ভরপুর!

দুই ম্যাচেই বাংলাদেশের স্কোর বড় না হওয়ার পেছনে বড় কারণ টপ অর্ডারের ও মিডলঅর্ডার ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতা। প্রথম ম্যাচে দলীয় ১০০ রান হওয়ার আগেই ৬ ব্যাটসম্যান আউট, দ্বিতীয় ম্যাচেও দলীয় সেঞ্চুরির আগেই সাজঘরে ৫ ব্যাটসম্যান। ম্যাচটা যেন সেখানেই শেষ হয়ে যাচ্ছে!

টপ অর্ডারের কোনো ব্যাটসম্যান বাইশগজে দাঁড়াতে না পারলে বড় স্কোর করা কঠিন। সেখানে পাল্লা দিয়ে মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যানরাও আত্মাহূতি দেওয়ার প্রতিযোগিতায় নেমে যাচ্ছেন! তবে ব্যতিক্রম কেবল এক মোহাম্মদ মিথুন। দুই ম্যাচেই হাফ সেঞ্চুরি করেছেন তিনি।  প্রথম ম্যাচে ৬২, দ্বিতীয় ম্যাচে ৫৭। দুই ম্যাচেই একপ্রান্ত আগলে রেখে ব্যাটিং করতে হয়েছে তাকে। আরেকপ্রান্তে একের পর এক উইকেটের পতন হয়েছে। প্রথম ম্যাচে মিথুনকে দীর্ঘ সময় সঙ্গ দিয়েছেন মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন। আর দ্বিতীয় ম্যাচে তিনি সাব্বির রহমানকে নিয়ে লড়াই করেছেন। কিন্তু মিথুনের লড়াই কোনো কাজে লাগেনি। কেবলমাত্র দলের স্কোরকে কোনো রকমে সম্মানজনক অবস্থায় নিয়ে যেতে সহায়তা করেছে মাত্র। তবে শেষ ম্যাচে ইনজুরির কারণে খেলতে পারছেন না মিথুন!

দলের পারফর্মার সাকিব আল হাসান না থাকায় এমনিতেই টাইগাররা বেশ খানিকটা ব্যাকফুটে। দলের বাকি তিন সিনিয়র ব্যাটসম্যান তামিম ইকবাল, মুশফিকুর রহিম ও মাহমুদুল্লাহ রিয়াদও সুবিধা করতে পারছেন না।

ড্যাসিং ওপেনার দুর্দান্ত ফর্ম নিয়েই নিউজিল্যান্ডে পা রেখেছেন। বিপিএলের সব শেষ ম্যাচে ১৪১ রানের সাইক্লোন ইনিংস খেলে যাওয়ার পরও ব্লাক ক্যাপসদের বিরুদ্ধে দুই ম্যাচেই ব্যর্থ তিনি। নেপিয়ারের পর ক্রাইস্টচার্চেও দুই অঙ্কের কোটায় নিজের স্কোরকে নিয়ে যেতে পারেননি। দুই ম্যাচেই ৫ করে রান করেছেন।

তামিমের মতো দুই ম্যাচে ব্যর্থতার ‘ছন্দ’ আছে আরেক ওপেনার লিটন কুমার দাসের ব্যাটেও। দুই ম্যাচেই ১ করে রান করেছেন তিনি। দলের দুই ওপেনার যখন একসঙ্গে ব্যর্থ হয় তখন দলীয় সংগ্রহ বড় হওয়া কঠিন। অন্যদিকে নিউজিল্যান্ডের ওপেনাররাই ম্যাচ শেষ করে দিচ্ছেন।

দুই ওয়ানডেতেই কিন্তু বাংলাদেশকে ম্যাচ ছিটকে দিয়েছেন কিউই বোলাররা। তারপরও দুই ম্যাচেই সেরা ক্রিকেটার হয়েছেন তাদের ওপেনার। মার্টিন গাপটিল দুই ম্যাচেই দুর্দান্ত দুটি সেঞ্চুরি করেছেন। প্রথম ম্যাচে ১১৭ এবং দ্বিতীয় ১১৮ রানের দুর্দান্ত দুই ইনিংস। দুই ম্যাচে একটি হাফ সেঞ্চুরি আছে তাদের আরেক ওপেনার মিচেল নিকলসেরও।

সৌম্য সরকার- ওয়ানডে ডাউনে নেমে শুরুটা ভালোই করছেন। তারপর হঠাৎ করেই ছন্দ হারিয়ে ফেলছেন। নেপিয়ারে মাত্র ২২ বলে ৩০ রান করার পর আউট। ক্রাইস্টচার্চেও তিনি দ্রুত ২২ রান করেন। তারপর ড্রেসিংরুমের পথে। সাকিব না থাকায় মিডঅর্ডারে মুশফিকুর রহিমের দায়িত্ব আরও বেড়ে গিয়েছিল। ইনিংসকে টেনে নিয়ে যাওয়ার কথা। কিন্তু প্রথম ম্যাচে ৫ রান করে আউট মিস্টার ডিপেন্ডেবল, দ্বিতীয় ম্যাচে দারুণ শুরু করেও আউট হয়ে যায় ২৪ রানে। আসলে মুশফিকের উইকেটটি দ্রুত পতন হওয়ার পরই দুই ম্যাচে নিশ্চিত হয়ে যায় বাংলাদেশের বড় ইনিংসের স্বপ্ন।

টাইগারদের ইনিংসে শেষ ভরসা থাকে ছয়ে ব্যাট করতে নামা মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের ওপর। কিন্তু দুই ম্যাচেই নিজেকে আলাদা করে চেনাতে পারেননি এই তারকা ব্যাটসম্যান। প্রথম ম্যাচে তার স্কোর ‘আনলাকি-১৩’। তার আউটের পরই তো কিউইরা বাংলাদেশকে ম্যাচ থেকে ছিটকে দিয়েছেন। দ্বিতীয় ম্যাচে মাহমুদুল্লাহর স্কোর ‘লাকি-৭’! অবশ্য এই স্কোর যে তার জন্য কিংবা দলের জন্য মোটেও ‘লাকি’ নয় তা কে না জানে। ক্রাইস্টচার্চের এই ম্যাচে আউট হওয়ার পর মেজাজ হারিয়ে ফেলেছিলেন। ড্রেসিংরুমে ফেরার পথে মাঠের বাইরে ব্যাট দিয়ে বেড়ায় আঘাত করায় আইসিসি তাকে শাস্তি দিয়েছে।

টপঅর্ডার ও মিডলঅর্ডার ব্যাটসম্যানরা ব্যর্থ হলেও লোয়ার অর্ডার ব্যাটসম্যানরা সে তুলনায় ভালোই করেছেন। প্রথম ম্যাচে মিথুনকে দারুণ সঙ্গ দিয়েছেন মেহেদী হাসান মিরাজ ও মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। দ্বিতীয় ম্যাচে মিথুনের সঙ্গে দারুণ জুটি গড়েছেন সাব্বির রহমান। রাজশাহীর এই ক্রিকেটার নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে ফিরে প্রথম ম্যাচে করেছিলেন মাত্র ১৩। দ্বিতীয় ম্যাচে খেলেছেন ৪৩ রানের ইনিংস।  মিরাজের দুই ইনিংস ২৬ ও ১৬ রানের। সাইফউদ্দিনের করেছেন ৪১ ও ১০ রান।

প্রথম দুই ম্যাচে বাংলাদেশ দল ৯ জন স্বীকৃত ব্যাটসম্যান নিয়ে খেলতে নেমেও স্কোর বড় করতে পারেননি। যে উইকেটে তিনশ কিংবা তার কাছাকাছি রান হওয়ার কথা সেখানে বাংলাদেশের স্কোর কোনো রকমে ২০০ পার হচ্ছে। ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতার পর যাচ্ছেতাই বোলিং করছেন বোলাররাও। অবশ্য আগে ব্যাটিং করে ব্যাটসম্যানরা লড়াই করার পুঁজি এনে দিতে না পারলে বোলারদের দোষ দেওয়ার উপায়ই বা কোথায়!

 নেপিয়ার ও ক্রাইস্টচার্চে হেরে সিরিজ শেষ। ডানেডিনে আজ হোয়াইটওয়াশের লজ্জা ঢাকার ম্যাচ! ব্যাটসম্যানরা কেমন করছেন বা করেছেন তা তো জেনেই গেছেন!


আপনার মন্তব্য