Bangladesh Pratidin

ঢাকা, রবিবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১৫:০৬
বিশ্বকাপ খেলা ক্রিকেটার এখন মাঠে গরু চরান!
অনলাইন ডেস্ক
বিশ্বকাপ খেলা ক্রিকেটার এখন মাঠে গরু চরান!

ভাগ্যের নির্মম পরিহাস যাকে বলে! একসময় সারাবিশ্ব তাকে চিনেছিল ক্রিকেটের অনন্য এক অলরাউন্ডার হিসেবে। খেলেছিলেন বিশ্বকাপ। ভারতকে তুলেছিলেন সেমিফাইনালে। সেই ভালাজি দামো এখন মাঠে গরু চরিয়ে বেড়ান। নুন আনতে পান্তা ফুরায় অবস্থা। ভাঙাচোরা জীবনের সঙ্গী বলতে এখন তার দৃষ্টিহীন চোখের পানি!

বিশ্বরেকর্ডের স্বপ্ন ছিল তার। আজন্ম দৃষ্টিহীন ভালাজি তখন ভাবতেন মন দিয়ে ক্রিকেট খেলবেন। ক্রিকেটের মাধ্যমে শুধু নিজের পরিচয়ই নয়, ভারতকে অনন্য উচ্চতায় তুলে ধরবেন। ১৯৯৮ সালে দেশের জার্সি গায়ে নামেন 'ব্লাইন্ড ক্রিকেট ওয়ার্ল্ডকাপ' মাঠে। ভারতকে সেমিফাইনালে তুলেছিলেন অল-রাউন্ডার ভালাজি। কিন্তু ফাইনাল খেলা হয়নি। সেমিফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে হারের মুখ দেখতে হয় ভারতকে।

ভারত হারলেও ভালাজির রেকর্ড ছিল মনে রাখার মতো। ১২৫টি ম্যাচ খেলে ৩১২৫ রান করেছিলেন ভালাজি। উইকেটের সংখ্যা ১৫০। এখন পর্যন্ত ভারতের সর্বোচ্চ উইকেট তারই দখলে। হয়েছিলেন 'প্লেয়ার অব দ্য টুর্নামেন্ট'। দেশকে অমন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ায় গোটা দলকে শুভেচ্ছা জানিয়েছিলেন তত্কালীন রাষ্ট্রপতি কে আর নারায়ণন।

রাষ্ট্রপতি কে আর নারায়ণনের সঙ্গে ভালাজি।

 

তখন ভালাজিকে নিয়ে ভারত মেতেছিল আনন্দ উৎসবে। তাকে মাথায় তুলে রেখেছিল সবাই। কিন্তু, তার পরের জীবনটা যে এভাবে বদলে যাবে, স্বপ্নেও ভাবেননি ভালাজি। ক্রিকেট ইনিংসের বাইরে জীবনের দৈনন্দিন ম্যাচে ব্যাট করতে নেমে বারবারই হোঁচট খেতে হয় তাকে। ভেবেছিলেন বিশ্বকাপ খেলার পর একটা চাকরি জুটবে। কিন্তু, সে আশা পূরণ হয়নি। প্রতিবন্ধী কোটাও কোন কাজে আসেনি। গুজরাট সরকার যা দিয়েছিল তা বহু বছর আগেই শেষ হয়ে গেছে জীবন নির্বাহে। এখন তিনি মাঠে গরু চরিয়ে বেড়ান। কখনও একটু আধটু চাষাবাদ। সংসার চালাতে তার স্ত্রীকেও হাত লাগাতে হয় চাষের কাজে। স্ত্রী ও এক সন্তানকে নিয়ে খেয়ে, না খেয়ে পার হয় দিন।

ভালাজির বয়স এখন ৩৮ এ পড়েছে। গুজরাটের আরাবল্লী জেলার পিপরানা গ্রামে এক একর জমিতে ভাইয়ের সঙ্গে ভাগাভাগি করে চাষের কাজ করেন। তা দিয়ে সংসার চলে না! অন্যের জমিতে গিয়েও কাজ করতে হয়। স্ত্রী অনুও অন্যের জমিতে কাজ করেন। চার বছরের ছেলেকে ভালাজি আর ক্রিকেটার বানানোর স্বপ্ন দেখেন না। স্ত্রী ও ছেলের দৃষ্টিতেই এখন জীবনটাকে দেখেন এই প্রাক্তন ক্রিকেটার। মাঝে মাঝে যখন স্মৃতিগুলো ঘুরে ফিরে আসে তখন বাধ মানে না চোখের পানি। নিজের অজান্তেই দৃষ্টিহীন চোখের কোন বেয়ে গড়িয়ে পড়ে পানি। স্যাঁতস্যাঁতে ঘরে ভালাজির পদক, সার্টিফিকেটগুলো যেন ডুকরে কাঁদে। ঘরের ছাদের ভাঙা অংশ থেকে চুঁইয়ে পড়া পানি যেন তার পদক ও সার্টিফিকেটগুলোকে ভাসিয়ে নিয়ে যেতে চায়। ১৮ বছর আগে 'প্লেয়ার অফ দ্য টুর্নামেন্ট' হয়ে জিতেছিলেন ৫ হাজার টাকা। আজ সেই টাকাটাও রোজগার করতে পারেন না। স্মৃতি হাতড়ে তাই ভালাজি বলে ওঠেন, ''বিশ্বকাপের সময় আমাদের দলের প্লেয়াররা আমাকে সচিন টেন্ডুলকার বলে ডাকত। '' এ সময়  ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন ফর ব্লাইন্ড-এর সহ সভাপতি ভাস্কর মেহতা বলেন, ‘‘ভারতীয় ব্লাইন্ড দলে এ রকম প্রভিভাবান প্লেয়ার আর আসেনি। -আনন্দবাজার অবলম্বনে।


বিডি-প্রতিদিন/এস আহমেদ

আপনার মন্তব্য

সর্বশেষ খবর
up-arrow