Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : ১৯ জুলাই, ২০১৮ ০৮:১৭ অনলাইন ভার্সন
আরেক সাকিবের গল্প
ক্রীড়া প্রতিবেদক
আরেক সাকিবের গল্প
মিস্টার বাংলাদেশ নাজমুস সাকিব ভূঁইয়া

সাকিব আল হাসান শুধু বাংলাদেশ নয়, তিনি এখন বিশ্বের অন্যতম সেরা ক্রিকেটার। আইসিসির র‌্যাঙ্কিংয়ে বেশ করার তিনি সেরা অলরাউন্ডার হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। যোগ্যতায় সাকিবকে চিনেছে বিশ্ব। কিন্তু দেশের আরেক সাকিব যে আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে ঝড় তুলছেন সেই খবরতো অনেকেরই জানা নেই। তিনি হচ্ছেন বডিবিল্ডার নাজমুস সাকিব ভুঁইয়া। কুমিল্লার চান্দিনায় জন্ম নেওয়া এই তরুণ শুধু বাংলাদেশ নয় শরীর গঠনে বিশ্ব মাতাচ্ছেন।

চারবার জাতীয় চ্যাম্পিয়ন হয়ে মিস্টার বাংলাদেশ খেতাব এখন সাকিবের দখলে। ২০১১ সালে আনসারের হয়ে জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে অভিষেক হয় তার। শুরুতে চ্যাম্পিয়ন হতে পারেননি। কিন্তু কিশোর বয়সে দেশের নামকরা বডিবিল্ডারদের পেছনে ফেলে চমক দেখান সাকিব। এই প্রতিযোগিতায় তার শরীর প্রদর্শন দেখে অনেকে মন্তব্য করেছিলেন এই কিশোরই একদিন দেশ মাতাবে। হয়েছেও তাই। ২০১৫ সালে বডিবিল্ডিংয়ে অল ক্যাটাগরিতে চ্যাম্পিয়ন হয়ে মিস্টার বাংলাদেশের খেতাব পেয়ে যান। এরপর আর সাকিবকে পেছনে তাকাতে হয়নি। সাফল্যের সিঁড়ি বেয়ে তিনি এখন শরীর গঠনে সবচেয়ে জনপ্রিয় তারকা।

শুধু কি তাই আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতাও সবার নজর কেড়েছেন। যেখানে পর্যাপ্ত অনুশীলনের সুযোগ নেই। নেই কোনো সুবিধা সেখানে বিশ্বখ্যাত বডিবিল্ডারদের সামনে দাঁড়ানোর কথা নয়, অথচ সেখানে কিনা সাকিব বাংলাদেশকে মেলে ধরলেন নতুনভাবে। গত বছর ভারতের মুম্বাইয়ে অনুষ্ঠিত হয় প্রথম আন্তর্জাতিক অ্যামেচার বডিবিল্ডিং প্রতিযোগিতা। এশিয়াসহ ইউরোপ ও ল্যাটিন আমেরিকার ৪৫ জন খ্যাতনামা বডিবিল্ডার অংশ নেয় প্রতিযোগিতায়।

এই ধরনের প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের প্রতিযোগীরা শেষের দিকে থাকবেন এটাই স্বাভাবিক ঘটনা। কিন্তু সাকিবের শরীর গঠন প্রদর্শন দেখে দর্শকরা অবাক হয়ে যান। এ ধরনের মেগা প্রতিযোগিতায় প্রথম অংশ নেওয়া মানে হাত-পা কাঁপা। কিন্তু সব ভয়কে জয় করে মঞ্চে উঠে সাকিব দেখিয়ে দিলেন বাংলাদেশও পারে। প্রতিযোগিতায় সাকিব চ্যাম্পিয়ন বা রানার আপ হতে পারেননি। কিন্তু ৪৫ দেশের প্রতিযোগীর মধ্যে চতুর্থ হয়ে বাংলাদেশের সুনাম এনে দেন।

এতবড় সাফল্য অথচ তা আড়ালেই থেকে গেছে। যে সাকিব দেশের গর্ব তাকে কোনো পুরস্কৃত করাতো দূরের কথা ফেডারেশন কোনো সংবর্ধনার আয়োজনও করেনি। এনিয়ে সাকিবের কোনো আক্ষেপ নেই। বললেন সবার সহযোগিতায় আমি এত দূর এসেছি।

২২ জুলাই ভারতের নতুন দিল্লিতে অনুষ্ঠিত হবে শেরু ক্ল্যাসিক আন্তর্জাতিক বডিবিল্ডিং প্রতিযোগিতা। তিন দিনব্যাপী এই প্রতিযোগিতায় বিশ্বের সেরা বডিবিল্ডাররা অংশ নেবেন। সাকিব এই টুর্নামেন্টে অংশ নিতে আজই ভারত যাচ্ছেন। তিনি জানান, আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়াটা খুবই ব্যয় বহুল। কমপক্ষে ৫/৬ লাখ টাকার প্রয়োজন পড়ে। এখানে রেজিস্ট্রেশন করতেই ২০০ থেকে ৩০০ মার্কিন ডলারের খরচ পড়ে। দেশের চারটি প্রতিষ্ঠানের পৃষ্ঠপোষকতায় আমি শেরু ক্ল্যাসিক টুর্নামেন্টে নিতে পারছি।

সাকিব বলেন, মুম্বাইয়ের পারফরম্যান্স দেখেই আমাকে টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছে। লক্ষ্য কি? সাকিব বলেন, অনুশীলনটা আমার ভালোই হয়েছে। লক্ষ্য থাকবে ভালো করে দেশের মুখ উজ্জ্বল করা। সাকিব আক্ষেপ করে বললেন, এই খেলাকে বাংলাদেশে তেমন গুরুত্ব দেওয়া হয় না। অথচ সুযোগ-সুবিধা ও ভালোমতো পরিচর্যা করলে বিশ্বে শরীর গঠনে বাংলাদেশ সম্মানজনক স্থান দখল করতে পারবে। মালয়েশিয়া থেকে স্পোর্টসের ওপর ডিপ্লোমা কোর্স করেছেন সাকিব।

বাবা কলিম উল্লাহ ভূঁইয়া, মা ফেরদৌসী বেগমের অনুপ্রেরণায় সাকিব দেশ ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এখন সাফল্য কুড়াচ্ছেন। বন্ধুরাও কম সহযোগিতা করেননি তাকে। সাকিব চ্যালেঞ্জ দিয়ে বললেন, আমাকে সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হোক বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপেও বাংলাদেশকে সাফল্য এনে দিতে পারব।

বিডি-প্রতিদিন/ ই-জাহান

আপনার মন্তব্য

up-arrow