Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২৮ জুন, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ২৮ জুন, ২০১৬ ০০:২৫
কেনাকাটার ধুম লেগেছে
জিন্নাতুন নূর
কেনাকাটার ধুম লেগেছে
বসুন্ধরা শপিং মলে এখন মধ্যরাত পর্যন্ত ঈদের কেনাকাটা করছেন ক্রেতারা। শাড়ির দোকানে নারীদের ভিড় (বামে)। শপিং মলের লবির একাংশ (ডানে) ছবি— জয়ীতা রায়

আর মাত্র এক সপ্তাহ পরেই মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর উদযাপন করবে গোটা দেশ। ঈদ উৎসবকে কেন্দ্র করে নগরীর বিপণিবিতান থেকে শুরু করে ফুটপাতগুলোতে এখন চলছে কেনাকাটার হিড়িক। ঈদকে সামনে রেখে ঢাকার উচ্চবিত্ত ও মধ্যবিত্ত থেকে শুরু করে নিম্ন আয়ের মানুষ সবাই এখন কেনাকাটায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। ক্রেতা আকর্ষণে নগরীর শপিংমলগুলোতেও করা হয়েছে আলোকসজ্জা। বড় শপিংমলগুলোতে পণ্য ক্রয়ে থাকছে আকর্ষণীয় র‌্যাফেল ড্রর ব্যবস্থা। নগর ঘুরে দেখা যায়, ক্রেতা সমাগম থাকায় ঢাকার বিপণিবিতানগুলো এখন মধ্যরাত পর্যন্ত খোলা থাকছে। ধুম লেগেছে কেনাকাটার।  

ঈদ উপলক্ষে ঢাকার বিপণিবিতানসহ নগরীর বিভিন্ন বুটিক ও ফ্যাশন হাউসগুলোতে হাল ফ্যাশনের সব পোশাক আনা হয়েছে। দেশীয় বুটিক হাউসগুলোতে ঈদের জন্য এবার গরম ও বর্ষার উপযোগী পোশাক আনা হয়েছে। পোশাকে সুতি, লিলেন ও জর্জেট কাপড়ের ব্যবহারের বেশি। ক্রেতাদের চাহিদার কথা মাথায় রেখে ফ্যাশন ডিজাইনাররা এ ঈদে পোশাকে বেশ পরীক্ষা-নিরীক্ষাও করেছেন। এবার মেয়েদের সালোয়ার-কামিজ ও কুর্তিতে ফুলেল প্রিন্টের নকশার ব্যবহার লক্ষ্যণীয়। এ ছাড়া কামিজের কলারে ও হাতায় জিপারের ব্যবহারও চোখে পড়ছে। পোশাকে এবার এক ছাটের সঙ্গে আনারকলি কাট, ফোর পিস বা কামিজের সঙ্গে ইনারের ব্যবহারও দেখা যাচ্ছে। ধানমন্ডির ক্রে-ক্রাফটের এক বিক্রয় কর্মকর্তা জানান, ঈদে তাদের আনা নতুন ডিজাইনের পোশাকগুলো খুব তাড়াতাড়ি শেষ হয়ে যাচ্ছে। রোজার শেষে বিক্রি আরও বাড়বে বলে তারা আশা করছেন।

নগরীর ঈদ কেনাকাটায় উচ্চবিত্ত ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির ক্রেতাদের পছন্দের অন্যতম স্থান বসুন্ধরা শপিং মলে এখন মধ্যরাত পর্যন্ত ক্রেতারা কেনাকাটা করছেন। একই ছাদের নিচে জামা, জুতা, কসমেটিক্স, দেশি-বিদেশি পণ্য পাওয়া যাওয়ায় এই শপিং মলের ক্রেতা সমাগম চোখে পড়ার মতো। বরাবরের মতো এবারও সেখানে ঈদ শপিংয়ে আকর্ষণীয় র‌্যাফেল ড্রর ব্যবস্থা করা হয়েছে। বসুন্ধরা সিটির বিভিন্ন লেভেলে তরুণ-তরুণীদের ব্র্যান্ডের দোকান যেমন- ইয়েলো, এক্সট্যাসি, ফ্রিল্যান্ড-এ সালোয়ার-কামিজ ও পাঞ্জাবির পাশাপাশি বিক্রি হচ্ছে পাশ্চাত্য ঘরানার পোশাক। এ ছাড়াও ‘দেশীদশে’ মিলছে দেশীয় ১০টি বুটিক হাউসের পোশাক।

ঈদের জন্য ঢাকার নিউমার্কেট ও গাউছিয়া মার্কেটে তরুণী ও নারীদের জাঁকজমকপূর্ণ সালোয়ার-কামিজ ও শাড়ি বিক্রি হচ্ছে। বিশেষ করে যে ক্রেতাদের ভারতীয় ভারি কাজের পোশাক পছন্দের তারা এই দুই মার্কেটে এসে দামাদামি করে পোশাক কিনছেন। একই অবস্থা হাতিরপুলের ইস্টার্ন প্লাজা মার্কেটের। এবার তরুণীরা ‘বাজিরাও মাস্তানি’, ‘সারারা’, ‘প্লাজো গাউন’, ‘সিল্ক গাউন’ ইত্যাদি পোশাকের প্রতি বেশি আগ্রহী। এ ছাড়া বিভিন্ন বিপণিবিতানের শাড়ি বিক্রেতারা জানান, এই ঈদে, গাদোয়াল, তসর কাতান, তসর বেনারসি, কোটা কাতান, কাঞ্চিপুরম, এক্সক্লুসিভ কাতান ও পার্টি শাড়ি ইত্যাদির বিক্রি বেশি। বিভিন্ন শপিং মলে বিক্রি হওয়া শিশুদের পোশাকের মধ্যে মেয়ে শিশুদের জন্য এবার প্রচুর ঘের দেওয়া ফেয়ারি ড্রেস, পুঁতি, স্টোন ও জরির কাজের পার্টি ড্রেস, সালোয়ার কামিজ ও স্কার্ট ইত্যাদি বিক্রি হচ্ছে। আর ছেলেদের কোটি ও বো-টাইসহ শার্ট-প্যান্ট সেট, রাম্পা, বিভিন্ন ডিজাইনের টি-শার্ট ও থ্রি-কোয়ার্টার প্যান্ট ইত্যাদি চলছে।

নগরীর বিভিন্ন ফুটপাতে বসা হকারদের বেচাবিক্রিও এরই মধ্যে জমে উঠেছে। সাধারণত নিম্নবিত্ত আয়ের ক্রেতা ও গার্মেন্ট শ্রমিকরাই এই দোকানগুলোর মূল ক্রেতা।

বিক্রেতারা জানান, গার্মেন্টগুলোতে এখনো বেতন-বোনাস হয়নি। বিক্রেতারা আশা করছেন, মাসের শেষে ও আগামী মাসের শুরুতে ফুটপাতের বেচা-বিক্রি পুরোদমে শুরু হবে।   

তবে ঈদে শুধু দেশে নয়, দেশের বাইরে গিয়েও শপিং করার প্রচলন শুরু হয়েছে। উচ্চবিত্ত ক্রেতাদের অনেকেই এই ঈদে শপিং করতে দেশের বাইরে যাচ্ছেন। এ জন্য কেউ কেউ থাইল্যান্ডের ব্যাংকক ও ভারতের কলকাতাকে বেছে নিচ্ছেন। ক্রেতাদের ঈদ শপিংয়ের সুবিধার্থে বিভিন্ন বেসরকারি এয়ার লাইন্স কর্তৃপক্ষ স্বল্পমূল্যে নানারকম প্যাকেজ সেবাও দিচ্ছে। জানতে চাইলে ঢাকার একটি আন্তর্জাতিক কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক জায়েদ উর রশিদ বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ঈদে নিজের ও স্ত্রীর কেনাকাটার জন্য মাসের শেষে ব্যাংকক যাচ্ছি। যেখানে ঘুরাঘুরির পাশাপাশি কেনাকাটাও করব।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow