Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শুক্রবার, ২০ জানুয়ারি, ২০১৭

প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২৮ জুন, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ২৮ জুন, ২০১৬ ০০:২৬
পুকুর ভরাট করে স্বাস্থ্যকেন্দ্র বাজার বহুতল বাড়ি
শাহজাদা মিয়া আজাদ, রংপুর
পুকুর ভরাট করে স্বাস্থ্যকেন্দ্র বাজার বহুতল বাড়ি
রংপুর নগরীর তাজহাট এলাকায় সরকারি পুকুর ভরাট করে সিটি করপোরেশন নির্মাণ করছে নগর স্বাস্থ্যকেন্দ্র

জলাধার সংরক্ষণ আইন ২০০০-এর ৩৬ ধারা অনুযায়ী কোনো পুকুর, জলাশয়, খাল, লেক ভরাট করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। পরিবেশ সংরক্ষণ আইনেও নিষিদ্ধ। কিন্তু রংপুরে এ আইন কেউই মানছেন না। খোদ সিটি করপোরেশন পুকুর ও জলাশয় ভরাট করে মার্কেট নির্মাণের পর এখন নগর স্বাস্থ্যকেন্দ্র নির্মাণ করছে। এ ছাড়া পুকুর ও জলাশয় ভরাট করে নির্মাণ করা হয়েছে বাজার ও বহুতল বাড়ি। পুকুর ও জলাশয় ভরাটের ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই নগরজুড়ে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে নগরীর পরিবেশ।     

নগরীতে সরকারি-বেসরকারি ও সিটি করপোরেশনের ছোট-বড় মিলে ১০০টি পুকুর ও জলাশয় ছিল। ভরাটের পর এখন রয়েছে মাত্র ২৩টি। ১৯৮৯ সালে এরশাদ সরকারের শাসনামলে ভূমিহীনদের বসবাসের জন্য জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে নগরীর তাজহাট এলাকায় গড়ে তোলা হয় ‘ঠিকানা এরশাদ নগর’ নামে একটি গুচ্ছগ্রাম। সেখানে খনন করা হয় একটি বিরাট পুকুর। সেই পুকুরটি ভরাট করে সিটি করপোরেশন নির্মাণ করছে বহুতল বিশিষ্ট নগর স্বাস্থ্যকেন্দ্র। ফলে বৃষ্টিতে এলাকাটি জলমগ্ন হয়ে পড়ছে। এরশাদ নগরের বাসিন্দা আফজাল হোসেন বলেন, বৃষ্টির সময় এখানকার পানি এই পুকুরে জমা হতো। ছেলেমেয়েরা পুকুরে সাঁতার কাটত। তা ছাড়া নলকূপের পানিতে আয়রন বেশি থাকায় লোকজন গোসল এবং কাপড় ধোয়াসহ সব কাজই করত এই পুকুরে। এখন ভরাট করায় আমরা এসব কাজ করব কোথায়?’ নগরীর ২৮ নম্বর ওয়ার্ডের আনছারির মোড়ে পুকুরের পাশেই বিশাল বস্তি। ভারি বৃষ্টিতে বস্তির পানি পুকুরটিতে জমা হতো। ওয়ার্ড কাউন্সিলর ইদ্রিস আলী জানান, সেই পুকুরটি ভরাট করে বাজার নির্মাণ করেছে স্থানীয় জামে মসজিদ কমিটি। এখন সামান্য বৃষ্টিতে জলমগ্ন হয়ে পড়ছে বস্তির বাসিন্দারা। মাহিগঞ্জ সাতমাথায় দুটি পুকুর ভরাট করে একটি সিটি করপোরেশন এবং অন্যটিতে ব্যক্তিগত উদ্যোগে বাজার গড়ে তোলা হয়েছে।

রংপুর পরিবেশ অধিদফতরের উপ-পরিচালক আখতারুজ্জামান টুকু বলেন, পুকুর ও জলাশয় ভরাট করা জলাধার ও পরিবেশ সংরক্ষণ আইনে নিষিদ্ধ ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এক বছর হয় রংপুরে যোগদান করেছি।

পুকুর ভরাটের অভিযোগ পাইনি। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।    রংপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র সরফুদ্দিন আহমেদ ঝন্টু বলেন, কোনোভাবেই পুকুর ভরাট করা যাবে না। তবে সাতমাথার পুকুরটি পৌরসভার চেয়ারম্যান ভরাট করে বাজার নির্মাণ করেছেন। জনগণের স্বার্থ বিবেচনা করে এরশাদ নগরের জলাশয়টিতে নগর স্বাস্থ্যকেন্দ্র নির্মাণ করা হচ্ছে।

রংপুরের জেলা প্রশাসক রাহাত আনোয়ার বলেন, পুকুর ও জলাশয় ব্যক্তিগত হলেও তা কেউ ভরাট করতে পারে না। আমি পরিবেশ অধিদফতরকে বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নিতে বলব।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow