Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১২ জুলাই, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১২ জুলাই, ২০১৬ ০০:২৪
অটোরিকশায় ভাড়া বেড়েছে কমেনি দুর্ভোগ
নিজস্ব প্রতিবেদক
অটোরিকশায় ভাড়া বেড়েছে কমেনি দুর্ভোগ

সিএনজি অটোরিকশায় ভাড়া বাড়লেও কমেনি দুর্ভোগ। যাত্রীরা আগের মতোই জিম্মি হয়ে আছে অটোরিকশা চালকদের কাছে। ভাড়া-নৈরাজ্য চরমে পৌঁছেছে। সরকার মিটার ভাড়া আদায় বাধ্যতামূলক করে দিলেও আগের মতোই চুক্তিতে বা চালকের ইচ্ছায় চলছে অটো। যাত্রীদের পছন্দের গন্তব্যে যেতেও রাজি হচ্ছে না তারা। এখন মালিকদের জমা, গ্যাসের দাম বেড়েছে-এই অজুহাতে ভাড়া নিচ্ছে প্রায় দ্বিগুণ। কখনো মিটারে গেলেও ২০-৩০ টাকা বেশি দিতে হয়। নিরূপায় যাত্রীরা তা মেনে নিতে বাধ্য হচ্ছেন। এ নিয়ে যাত্রী ও সিএনজি চালকের মধ্যে ঝগড়া, বিতণ্ডা হচ্ছে নিয়মিতই।

চালক ও মালিকদের দাবিতে গত বছরের ১ নভেম্বর থেকে রাজধানী ঢাকার যাত্রী ভাড়া বাড়িয়েছে গড়ে ৬০ ভাগ। নতুন ভাড়া প্রথম দুই কিলোমিটারে নির্ধারণ করা হয়েছে আগের ২৫ টাকার বদলে ৪০ টাকা। মালিকদের জমার পরিমাণও বাড়িয়ে ৬০০ টাকা থেকে ৯০০ টাকা করা হয়েছে। প্রথম দুই কিলোমিটারের পর প্রতি কিলোমিটারের ভাড়া ৭ টাকা ৬৫ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ১২ টাকা করা হয়েছে। এ ছাড়া অপেক্ষার জন্য ভাড়ার হার প্রতি মিনিটে ১ টাকা ৪০ পয়সা থেকে ২ টাকা নির্ধারণ করেছে সরকার। রাজধানীতে যে কোনো গন্তব্যে যেতে বাধ্য চালক। কিন্তু সেটা তারা মানছে না। রাজধানীতে ১৩ হাজার সিএনজি অটোরিকশা যাত্রীদের জিম্মি করে রাখলেও দেখার কেউ নেই। ভাড়া বাড়ানোর পরও মালিক-চালকরা ইচ্ছামতো ভাড়া আদায় করে ভাড়া নৈরাজ্য অব্যাহত রেখেছে।

এক যাত্রী অভিযোগ করেন, রামপুরা থেকে মতিঝিলের দূরত্ব ৫ কিলোমিটার। সে হিসেবে সরকার নির্ধারিত ভাড়া অনুযায়ী সিএনজিচালিত অটোরিকশায় যাতায়াতের জন্য যাত্রীদের ভাড়া গুনতে হবে ৭৬ টাকা। এর সঙ্গে ১৫ মিনিটের যানজট ধরলে সর্বসাকুল্যে ভাড়া ১০৬ টাকার বেশি হওয়ার কথা না। তবে রামপুরা কাঁচা বাজারের সামনে থেকে তিনজন চালকের সঙ্গে কথা বললেও কেউ ১৬০ টাকার নিচে যেতে রাজি হননি। এমনকি একজন ২২০ টাকাও চেয়ে বসেন একজন। এই অবস্থা পুরো রাজধানী জুড়ে।

জানা গেছে, সরকার ৬০ ভাগ ভাড়া বাড়ানোর পরও চালক-মালিক কেউ খুশি না। চালকদের দাবি তারা মিটারে যাত্রী নিলে ক্ষতিগ্রস্ত হন। সব খরচ বাদে দিন শেষে আয় থাকে মাত্র ১০০ থেকে ১৫০ টাকা। তবে চালকদের এমন অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ঢাকা মহানগর সিএনজি অটোরিকশা মালিক সমিতি ঐক্য পরিষদের এক নেতা বলেন, প্রতি বেলায় চালকরা গড়ে ২০০০ থেকে আড়াই হাজার টাকা আয় করেন।

সিএনজি অটোরিকশা চালুর পর এবারসহ পাঁচবার ভাড়া বাড়ানো হলো।

রাজধানীতে যে সিএনজিচালিত অটোরিকশা চলাচল করছে তার অধিকাংশই কেনা হয় ২০০১ থেকে ২০০৩ সালে। ১ লাখ ৫৭ হাজার থেকে তিন লাখ টাকায় কেনা এসব অটোরিকশার আর্থিক মেয়াদ ছিল ২০০৯ সাল পর্যন্ত। পরে মালিকদের চাপে এসব অটোরিকশার মেয়াদ দুই ধাপে ২০১৫ সাল পর্যন্ত বাড়ানো হয়। সর্বশেষ এ মেয়াদ আরও চার বছর বাড়ানো হয়। এটি এমনই লাভজনক বাণিজ্য খাত যে বর্তমানে একটি সিএনজি অটোরিকশা হাতবদল হচ্ছে ১৩ থেকে ১৫ লাখ টাকায়।  

এই পাতার আরো খবর
up-arrow