Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : বুধবার, ২০ জুলাই, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১৯ জুলাই, ২০১৬ ২২:৫৫
ধূলিকণামুক্ত বিশ্বনগরী পদ্মাপাড়ের রাজশাহী
কাজী শাহেদ, রাজশাহী
ধূলিকণামুক্ত বিশ্বনগরী পদ্মাপাড়ের রাজশাহী
রাজশাহীর পদ্মাপাড়ের বিপুল অংশ জুড়ে গড়ে তোলা হয়েছে বিনোদনকেন্দ্র, বিশ্রামাগার ছবি : নিজস্ব প্রতিবেদক

ধূলিকণামুক্ত বিশ্বনগরীর তালিকায় ঠাঁই করে নিয়েছে পদ্মাপাড়ের রাজশাহী। যুক্তরাজ্যের দ্য গার্ডিয়ানে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে বাতাসে ভাসমান মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর কণা (পিএম ১০) দ্রুত কমিয়ে আনার ক্ষেত্রে বিশ্বে এগিয়ে আছে রাজশাহী নগরী। জাতিসংঘের বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য-উপাত্তের ওপর ভিত্তি করে এ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, রাজশাহীর বাতাসে ভাসমান ক্ষুদ্র ধূলিকণা পিএম ১০ (১০ মাইক্রোমিটার) প্রতি ঘনমিটার বাতাসে ছিল ১৯৫ মাইক্রোগ্রাম। এটা প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ কমে চলতি বছর দাঁড়ায় ৬৩ দশমিক ৯ মাইক্রোগ্রামে। দুই বছর আগেও এ শহরে ক্ষুদ্র ধূলিকণা প্রতি ঘনমিটার বাতাসে ছিল ৭০ মাইক্রোগ্রাম।   এটি প্রায় এখন অর্ধেক হয়ে দাঁড়ায় ৩৭ মাইক্রোগ্রামে। স্বাস্থ্যকর ও পরিচ্ছন্ন শহর হিসেবে ইতিমধ্যে দেশের সব শহরের চেয়ে এগিয়ে আছে রাজশাহী। আর বিশ্বে এ সাফল্য কীভাবে সম্ভব হলো এর কারণ জানতে বেরিয়ে আসে নেপথ্যের ঘটনা। রাসিকের দায়িত্বপ্রাপ্ত মেয়র নিজাম উল আযিম জানালেন, মূলত সাবেক মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটনের নেওয়া নগর উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও ‘জিরো সয়েল’ প্রকল্প গ্রহণের কারণেই এ সাফল্য। কয়েক বছর আগে শহরের রাস্তা ও ফুটপাথ বাদে অবশিষ্ট ফাঁকা জায়গা ঢেকে দিতে জিরো সয়েল প্রকল্প বাস্তবায়ন করে রাসিক। ফলে সবুজে ঢেকে যায় গ্রিন সিটি খ্যাত রাজশাহী নগরী। এরই মধ্যে সবুজ হয়েছে শহরের প্রায় ১০ কিলোমিটার রাস্তার সড়ক বিভাজক ও সড়ক দ্বীপ।

রাসিকের প্রধান প্রকৌশলী আশরাফুল হক জানান, ওই প্রকল্পের আওতায় পুরো নগরীর সড়ক বিভাজক আসে সবুজায়নের আওতায়। নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক বিভাজক ও সড়ক দ্বীপে ৩৫০টি পাম গাছ লাগানো হয়েছে। এর ভিতর লাগানো হয়েছে রঙ্গন, কাঠ করবি, চেরি ও অ্যালামুণ্ডা। সব নিচে লাগানো হয়েছে সবুজ হেজ। এরপর কাঠ ও বাঁশের আদলে তৈরি করা হয়েছে কংক্রিটের বেড়া। সব মিলিয়ে এখন দৃষ্টিনন্দন হয়ে উঠেছে পুরো নগরী। তিনি বলেন, পরিবেশ সুরক্ষা ও জলবায়ুর পরিবর্তনজনিত প্রভাব ঠেকাতে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে রাসিক। ফলে বাতাসে ভাসমান মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর ক্ষুদ্র ধূলিকণামুক্ত হয়েছে নগরী। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ইনস্টিটিউট অব বায়োলজিক্যাল সায়েন্সেসের পরিচালক উদ্ভিদবিজ্ঞানী অধ্যাপক এম মনজুর হোসেন বলেন, রাজশাহীতে বর্তমানে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচলের কারণে ডিজেলচালিত যানবাহন শহরে ব্যবহূত হচ্ছে না। বাতাসে ক্ষতিকারক ভাসমান কণা কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ এটি। এ ছাড়া নগরীর পদ্মা নদীর পরিত্যক্ত পাড়ে বর্তমানে পরিকল্পিত পার্ক গড়ে তোলা হয়েছে। প্রায় পাঁচ কিলোমিটার টাইলস দিয়ে হাঁটা পথ তৈরি করা হয়েছে। এটি এখন পদ্মার নির্মল বাতাসের একটি উৎস। এসব জায়গা থেকে আর ধুলোবালি ওড়ে না। রাবির পরিবেশ বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের পরিচালক সুলতান উল ইসলাম বলেন, রাজশাহী নগরীর চারদিকে যে সবুজ বেষ্টনী গড়ে তোলা হয়েছে, পাশে পদ্মা নদীর চরও সবুজ ঘাস ও কাশবনে ছেয়ে গেছে। এ কারণে আগে যে পরিমাণ ধূলিঝড় দেখা যেত, এখন আর দেখা যায় না। রাসিকের দায়িত্বপ্রাপ্ত মেয়র নিযাম উল আযিম বলেন, রাজশাহী নগরীকে জলবায়ুর পরিবর্তনজনিত প্রভাব মোকাবিলায় তারা সবুজায়নে সর্বাধিক গুরুত্ব দিচ্ছেন। এরই অংশ হিসেবে বাস্তবায়ন হচ্ছে জিরো সয়েল প্রকল্প। এর আওতায় পুরো নগরী সবুজে ঢেকে ফেলা হবে বলে জানান তিনি। এই প্রকল্পটি ছিল সাবেক মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটনের পরিকল্পনা।

নির্মল শহরের তালিকায় বিশ্বে রাজশাহী প্রথম হওয়া প্রসঙ্গে রাসিকের সাবেক মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, পরিকল্পিত সবুজায়ন, নিয়মিত পরিষ্কার পরিছন্ন রাখা, বিভিন্ন এলাকায় টাইলস বসিয়ে সড়কগুলোকে মুড়িয়ে দেওয়ার কারণে রাজশাহী মহানগরীতে বায়ু দূষণ কমেছে। একটি ক্লিন ও গ্রিন সিটি গড়ে তুলতে চেয়েছিলাম। সেই লক্ষ্য নিয়ে কাজ করেছি। দীর্ঘদিন পর তার ফল পাওয়া গেছে। তিনি বলেন, আমার সময়ে মাত্র তিন বছরে ২০ হাজারের বেশি বৃক্ষরোপণ করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় রাজশাহী পর পর তিন বছর বৃক্ষরোপণে সেরা পদক পায়। এর ফলে রাজশাহী শহর দূষণমুক্ত নগরীতে পরিণত হয়েছে।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow