Bangladesh Pratidin

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৭
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২৬ জুলাই, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ২৫ জুলাই, ২০১৬ ২২:০৪
ভোগান্তি নারী বাসযাত্রীর নিত্যসঙ্গী
নিজস্ব প্রতিবেদক
ভোগান্তি নারী বাসযাত্রীর নিত্যসঙ্গী
ছবি : রোহেত রাজীব

রাজধানীতে পরিবহন সংকটের কারণে নিত্য যাত্রীদের ভোগান্তির কোনো শেষ নেই। যাদের ব্যক্তিগত গাড়ি নেই, অথচ প্রতিদিন পাবলিক বাসে করে যাতায়াত করতে হয় তারা চরম দুর্ভোগের মধ্যে রয়েছেন।

সবচেয়ে বেশি ভোগান্তি নারী যাত্রীদের। নারীদের বাসে চলাচল করতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। নারীদের জন্য নির্ধারিত বাসের সংখ্যা যেমন সীমিত, তেমনি সাধারণ বাসে তাদের জন্য চলাচল করা কঠিন।

সরকারি পরিবহন সংস্থা বিআরটিসির কর্মকর্তারাই বলছেন, শুধু নারীদের জন্য ঢাকায় ১৫টি ও চট্টগ্রামে দুটি বাস চালু করা হয়েছে। কিন্তু শুধু নারীদের জন্য চালু এসব বাসে নারীরা কম ওঠেন। এ জন্য শুধু নারীদের জন্য বাস বাড়ানোর চিন্তা থাকলেও তা বাস্তবায়ন করা যাচ্ছে না।

রাজধানীর বিভিন্ন রুটে চলাচলকারী বড় বাসে নয়টি এবং মিনিবাসে ছয়টি আসন নারী, শিশু ও প্রতিবন্ধীদের জন্য সংরক্ষণ করা বাধ্যতামূলক হলেও অনেকেই তা মানছেন না। এ কারণে কারও বিরুদ্ধে ব্যবস্থাও নেওয়া হয় না। কিছু বাসে ‘মহিলা, শিশু ও প্রতিবন্ধীদের জন্য সংরক্ষিত আসন’  লেখা থাকলেও অনেক বাসে এ লেখা দেখাই যায়নি। সবচেয়ে বড় দুর্ভোগ মাঝপথের যাত্রীদের। সম্প্রতি এক সকালে রাজধানীর শেওড়াপাড়া বাসস্ট্যান্ডে বাসে ওঠার চেষ্টা করছিলেন এক নারী। মিরপুর থেকে একেকটি বাস আসে, আর ওই নারী হাত তুলে সেটিকে দাঁড়ানোর সংকেত দেন, কিন্তু বাস আর থামে না। কয়েকটি বাস থামলেও  সেগুলোতে এত বেশি যাত্রী যে, ওই নারী  চেষ্টা করেও উঠতে পারেননি। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পর একটি বাসে উঠতে পারেন তিনি। তবে পুরুষদের ভিড়ে বাসে উঠতে খুবই বিড়ম্বনায় পড়তে হয় নারীদের। এ রকম চিত্র রাজধানীর প্রায় প্রতিটি রাস্তায়। নারী ও যাত্রী কল্যাণ নিয়ে কাজ করা সংগঠনের নেতারা বলছেন, প্রতিদিনই কর্মজীবী নারীর সংখ্যা বাড়ছে। সেই তুলনায় নারীর জন্য বাস একেবারেই নগণ্য। এগুলো  চোখেও পড়ে কম। এ ছাড়া এ বাসগুলো সকালে ও বিকালে চলে। তাই এর সুবিধা খুব কম নারীই পায়।

মিরপুর-১২ নম্বরের মতো যেসব জায়গা থেকে বাস ছাড়ে, সেখান থেকে উঠলে কিছুটা স্বস্তিতে বসতে পারে নারীরা। কিন্তু বাস চলা শুরু হলে যাত্রীর সংখ্যা যেমন বাড়ে, তেমনি স্টপেজগুলোতে পুরুষ যাত্রীদের সঙ্গে হুড়োহুড়ি করে ওঠা নারীদের জন্য কঠিন হয়ে পড়ে। মিরপুর ১০ নম্বর  গোলচত্বরে এই অভিজ্ঞতা হয় এক নারীর। নিজের কর্মস্থল ফার্মগেটে আসার জন্য তিনি  কোনো বাসেই উঠতে পারছিলেন না। পরে অনেক চেষ্টায় তিনি ইউনাইটেড নামের একটি বাসে ওঠেন।

বিকল্প মিনি সুপার সার্ভিস নামে পল্লবী থেকে ঢাকেশ্বরী রোডের একটি বাসে উঠে দেখা যায়, নারীদের জন্য সংরক্ষিত দুটি সিটে দুজন পুরুষ যাত্রী বসা। শিশু কোলে নিয়ে এক নারী যাত্রী উঠলেও ওই দুই পুরুষ সিট ছাড়েননি। কিছুক্ষণের মধ্যে আরও দুই নারী উঠলে তাদেরও দাঁড়িয়ে থাকতে হলো। নারীদের সিটে পুরুষ কেন? এ বিষয়ে বাসের সহকারীকে জিজ্ঞাসা করলেও কোনো উত্তর মেলেনি। এই বাসের ইঞ্জিনের ওপর গরম বনেট। তার ওপর নারীদের বসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। বেশির ভাগ বাসের একই চিত্র।

মিরপুর ১২ নম্বর থেকে মতিঝিলগামী ৭১ পরিবহনের একটি বাসে উঠে দেখা যায় সেটিতে মহিলা, শিশু ও প্রতিবন্ধীদের জন্য সংরক্ষিত আসনের কথা কোথাও লেখা  নেই। বাসের সহকারী জানালেন, এই বাসে  সেই ব্যবস্থা নেই।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow