Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শুক্রবার, ২০ জানুয়ারি, ২০১৭

প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২৬ জুলাই, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ২৫ জুলাই, ২০১৬ ২২:০৯
১৫ বছর ধরে জলাবদ্ধতা চান্দপুরে
মহিউদ্দিন মোল্লা, কুমিল্লা
১৫ বছর ধরে জলাবদ্ধতা চান্দপুরে
কুমিল্লা শহরতলির চান্দপুরে দীর্ঘ জলাবদ্ধতা

কুমিল্লা নগরী সংলগ্ন সদর উপজেলার পাঁচথুবী ইউনিয়নের কুমিল্লা শহরতলির চান্দপুর এলাকায় ১৫ বছর ধরে জলাবদ্ধতার দুর্ভোগে রয়েছে দুই হাজার পরিবার। সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে সদর উপজেলার পাঁচথুবী ইউনিয়নের চান্দপুর এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে স্থায়ী জলাবদ্ধতা। জলাবদ্ধতার কারণে পুরো এলাকা পানিতে ডুবে আছে। প্রথম দেখায় চান্দপুর এলাকাকে মনে হবে যেন একটি বিশাল জলাশয়। কুমিল্লা নগরীর এত কাছাকাছি হয়েও দীর্ঘ প্রায় ১৫ বছর ধরে পানির সঙ্গে বসবাস করছে এ এলাকার প্রায় ২ হাজার পরিবার। শুধু বসতবাড়িই তলিয়ে যায়নি, স্থায়ী এ জলাবদ্ধতার কারণে ওই এলাকার চান্দপুর এক গম্বুজ জামে মসজিদটিও রয়েছে পানির নিচে। এতে নামাজ পড়তে পারছেন না এলাকার মুসল্লিরা।

ওই মসজিদের মুয়াজ্জিন হাফেজ জহিরুল ইসলাম জানান, ‘আমি প্রায় ৫ বছর ধরে এ মসজিদে রয়েছি। এ এলাকায় সব সময় দেখি জলাবদ্ধতা। তবে গত দুই-তিন বছর থেকে জলাবদ্ধতা ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। এখন মসজিদও পানিতে ভাসছে। ’

ওই মসজিদের মুসল্লি ওমর ফারুক জানান, কুমিল্লা শহরের লোক হয়েও ছোটবেলা থেকেই আমরা পানির সঙ্গে বসবাস করি। আমাদের দুর্ভোগের শেষ নেই। আগে পানি জমত রাস্তায়। এখন শুধু বাসা-বাড়ি নয়, মসজিদও পানিতে তলিয়ে যায়।

সাংবাদিক এসেছে শুনে স্থানীয় এলাকার বাসিন্দা সাহেরা বেগমও এগিয়ে আসেন তার কষ্টের কথা বলতে। তিনি জানান, আমরা খুব কষ্টের মধ্যে আছি। বছরের ৬ মাসই এ এলাকায় জলাবদ্ধতা থাকে। পরে ওই গৃহিণীর বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, শুধু বাড়ি নয়, বসতঘরের ভিতরেও জলাবদ্ধতার পানি থৈথৈ করছে। কয়েকটি ইট দিয়ে ঘরের আসবাবগুলো রক্ষার চেষ্টা করছেন তিনি। আর পরিবারের সদস্যদের জন্য রান্না করছেন পানির মধ্যে দাঁড়িয়ে।

চান্দপুর এলাকার দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা দূর না হওয়ার বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. ইউনুছ বলেন, ওই এলাকায় একটি সুইপার কোয়ার্টার রয়েছে।

যার পাশেই পুরাতন গোমতী নদী। ওই স্থানে একটি কালভার্ট নির্মাণ করা হয়েছিল বহুদিন আগে। ওই কালভার্টের নিচে পানি ধরে রাখার জন্য একটি স্লাব বসানো হয়েছিল। স্লাবটির উচ্চতা বেশি হওয়ায় এ এলাকার পানি সহজে নদীতে নামতে পারে না। এতে সৃষ্টি হয় স্থায়ী জলাবদ্ধতা। বছরের প্রায় ৬ মাসই চান্দপুর-শুভপুর এলাকায় জলাবদ্ধতা থাকে। বর্ষার সময় এ সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করে। চান্দপুরের কয়েক হাজার পরিবার অমানবিক জীবন-যাপন করছে।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow