Bangladesh Pratidin

ঢাকা, রবিবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ২১:৪০
ছিন্নমূল মানুষের ঘর সংসার
নিজস্ব প্রতিবেদক
ছিন্নমূল মানুষের ঘর সংসার

রাজধানীর ফুটপাথে হাজার হাজার ছিন্নমূল মানুষ অমানবিকভাবে ঘর সংসার পেতে বসবাস করছে। রোদে পুড়ে বৃষ্টিতে ভিজে তারা ছোট ছোট শিশুদের নিয়ে দুর্বিষহ জীবন কাটায়। বন্যা, খরা, নদীভাঙনে বিপর্যস্ত মানুষগুলো বেঁচে থাকার তাগিদে আশ্রয় খোঁজে ঢাকার ফুটপাথে। তাদের কেউ কেউ দিনমজুর কিংবা অন্য কোনো কায়িক শ্রমের কাজে নিয়োজিত হয়ে বেঁচে থাকার সংগ্রামে নামে। কেউ কেউ জড়িয়ে পড়ে নানা অপরাধ কর্মে।

নদী ভাঙনকবলিত সহায় সম্বলহীন ডালিয়া বেঁচে থাকার তাগিদে স্বামীর হাত ধরে ছুটে এসেছিলেন ঢাকায়। সাত সন্তানসহ নয় সদস্যের পরিবার মিলে পলাশী মোড় সংলগ্ন ফুটপাথে জায়গা করে নেন তারা। ১৫ বছর পরেও ছেলেমেয়ে নিয়ে এখনো সেই ফুটপাথেই পড়ে আছেন ডালিয়া। এই দীর্ঘ সময়েও দুর্ভোগের শেষ হয়নি তাদের। কোনো রকমে মাথা গুজে থাকার ছাউনিতে পলিথিনের স্তরও বেড়েছে। কিন্তু ভাগ্য পরিবর্তন হয়নি তার।

চার ছেলের মধ্যে বড়জন বিয়ে করেছেন। রিকশা চালানোর আয় থেকে কামরাঙ্গীরচরের বস্তিতে একটা ঘরও ভাড়া নিয়েছেন। সেখানেই থাকেন তারা। আরও তিন ছেলে এবং তিন মেয়ে নিয়ে ফুটপাথেই বাস ডালিয়ার। বড় দুই মেয়েকে ঋণ নিয়ে বিয়ে দিলেও দুজনই স্বামী পরিত্যক্তা হয়ে মায়ের ফুটপাথের ছাপড়া ঘরে ফিরে এসেছেন। সঙ্গে তিন সন্তানও। ফলে সংসার বড় হয়েছে। কষ্ট পিছু ছাড়েনি।

বড় মেয়েটি অন্যের বাড়িতে গৃহকর্মীর কাজ করেন। ডালিয়া নিজে পথের কাগজ, পলিথিন কুড়িয়ে বিক্রি করেন। বাকি ছেলেরা ছোট, স্বামীও কাজে অক্ষম। তাই এ দিয়েই সংসার চালাতে হয় ডালিয়ার।

ডালিয়া বললেন, নদীভাঙনে ঘর হারিয়ে সুখের আশায় কুড়িগ্রাম থেকে ঢাকায় আসি। কিন্তু গত ১৫ বছর ধরে এই একই ফুটপাথে জীবন পার করলাম। বস্তিতে ঘর ভাড়া নিলে না খেয়েই থাকতে হবে। তাই পলিথিনের ছাউনি করেই জীবন পার।

ডালিয়া জানান, কয়েকটা কাপড়- চোপড় আর হাঁড়ি-পাতিলের বাইরে সম্পদ বলতে ওই কুড়ানো কাগজ, প্লাস্টিকের বোতলগুলোই। যা কেজি প্রতি ৭-২০ টাকা দরে বিক্রি করে পরের দিনের খাবার কিনতে হবে। ফুটপাথে থাকেন বলে তাদের জন্য কোনো টয়লেটের ব্যবস্থা নেই। বাধ্য হয়ে রাস্তার ওপাশে থাকা পলাশী বাজারের টয়লেটটি ব্যবহার করেন তারা।

ডালিয়া বলেন, রাত পার করাটাই বেশি কষ্ট। দিনের বেলা বিভিন্ন মার্কেটে এলাকায় কাগজ কুড়াতে গিয়ে সেখানেই টয়লেটের কাজ সেরে আসি। তবে পাশেই এস এম হল থেকে পানি এনে ফুটপাথেই  গোসল সেরে ফেলি। বললেন, উঠতে হবে খুব ভোরে। রান্না শেষে ছোট মেয়েটাকে স্থানীয় প্রাইমারি স্কুলে পাঠাতে হবে। কুড়ানো কাগজগুলো বিক্রি শেষ করে আবারও সেই কাগজ কুড়াতে বের হওয়া। কুড়িগ্রামের সেই ঘর-বাড়ির বাইরে কখন যে ফুটপাথটি তার নিজের হয়ে গেছে তা নিজেও জানেন না তিনি।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow