Bangladesh Pratidin

ঢাকা, রবিবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ২৩:২৯
সড়ক দখল করে বাণিজ্যিক ভবনের গাড়ি পার্কিং
শাহজাদা মিয়া আজাদ, রংপুর
সড়ক দখল করে বাণিজ্যিক ভবনের গাড়ি পার্কিং

রংপুর নগরীর প্রধান সড়কের পাশে নির্মাণ করা হয়েছে অসংখ্য বাণিজ্যিক ভবন। এসব ভবনে আছে ব্যাংক, বীমাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কার্যালয় ও বিপণিবিতান। ভবনগুলোর নিজস্ব গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা নেই। কেনাকাটা এবং ব্যাংক-বীমায় আসা লোকজন তাদের যানবাহন সড়কে দাঁড় করে রাখে ঘণ্টার পর ঘণ্টা। ফলে ভবনগুলোর সামনে সার্বক্ষণিক তীব্র যানজট লেগেই থাকে। সকাল থেকে নগরীর প্রধান সড়কের দুই পাশে অর্ধেক সড়ক জুড়েই গাড়ি পার্কিং চিত্র নিত্যদিনের। এর ফলে নাগরিকদের চলাচলে ভোগান্তি বেড়ে গেছে। এসব ভবন মালিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয় না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

নগরীর মেডিকেল মোড় থেকে শাপলা চত্বর এলাকা পর্যন্ত চার কিলোমিটার প্রধান সড়কের দুই পাশে গড়ে উঠেছে তিন শতাধিক বহুতল বাণিজ্যিক ভবন। এসবের মধ্যে জেলা পরিষদ সুপার মার্কেট, রংপুর চেম্বার ভবন, মোতাহার কমার্শিয়াল কমপ্লেক্স, রংপুর প্রেসক্লাব কমপ্লেক্স, রজনীগন্ধা মার্কেট, রংপুর ভবন, সিঙ্গার কমপ্লেক্স, হায়দার আলী কমপ্লেক্স, মতি প্লাজা, মিনার ভবন, মুক্তিযোদ্ধা শপিং কমপ্লেক্স, শাহ সালেক মার্কেট, শাহ জামাল মার্কেট, ইউছুফ আলী চৌধুরী ম্যানশন, চাঁদিমা কমপ্লেক্স, হক সুপার মার্কেট, আজিজ সুপার মার্কেট, রহিম সুপার মার্কেট, আনন্দ ভবন, ভরসা টাওয়ার, মাজেদা কমপ্লেক্স, রয়েল হোটেল ভবন, কর্ণফুলী টাওয়ার, মোশাররফ ভবন, বিএম ট্রেডার্স ভবন, সেন্ট্রাল রোড়ে জয় প্রেস ভবন, এবি ব্যাংক ভবন, জনতা গার্মেন্টস, অগ্রণী ব্যাংক ভবন, আল মদিনা গার্মেন্টস ভবন, হোটেল মহানগর ভবনসহ ২৫০ বহুতল বাণিজ্যিক ভবনের নিজস্ব গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা নেই।

নিজস্ব গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা না থাকায় জেলা পরিষদ সুপার মার্কেটের সামনের ব্যস্ততম সড়কটি দিনভর মার্কেটে আসা ক্রেতাদের যানবাহনের দখলে থাকে। জাহাজ কোম্পানি শপিং কমপ্লেক্সে নিজস্ব গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা থাকলেও তা অন্য লোককে ইজারা দেওয়া হয়েছে। ফলে কেনাকাটা করতে আসা লোকজন সড়কের ওপর গাড়ি রেখে কেনাকাটা করে। রংপুর ভবনের নিজস্ব গাড়ি পার্কিংয়ের জায়গায় বাইসাইকেলের শোরুম করা হয়ছে।

রংপুর মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি রেজাউল ইসলাম মিলন বলেন, সড়কজুড়ে গাড়ি পার্কিংয়ের ফলে হাঁটাচলা করা দুষ্কর হয়ে পড়েছে। পথ চলাচলে প্রতিনিয়ত বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছে মানুষ। সিটি করপোরেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী আলী আজম বলেন, বিল্ডিং কোড অনুযায়ী সড়ক থেকে পাঁচ ফুট দূরে ভবন নির্মাণ করার বিধান থাকলেও নগরীর অধিকাংশ ভবন মালিক তা মানেনি। নিজস্ব গাড়ি পার্কিং নেই এমন ভবন মালিকদের চলতি সপ্তাহেই নোটিস দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। নোটিস পাওয়ার পর পার্কিংয়ের ব্যবস্থা না করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সিটি করপোরেশনের মেয়র সরফুদ্দিন আহমেদ ঝন্টু বলেন, যেখানে-সেখানে গাড়ি পার্কিং না করতে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। সবাই একটু সচেতন হলে নাগরিকদের দুর্ভোগ কমবে।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow