Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শনিবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১১ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১০ অক্টোবর, ২০১৬ ২১:৪০
বদলে গেছে সদরঘাট
মাহবুব মমতাজী
বদলে গেছে সদরঘাট

ভ্রাম্যমাণ আর অবৈধ দোকান উচ্ছেদের মধ্য দিয়ে বদলে গেছে ঢাকার বৃহৎ নৌ-বন্দর সদরঘাট। ইজাদারদের স্বেচ্ছাচারিতা থেকে মুক্তি পেয়েছেন দক্ষিণাঞ্চলের লাখো নৌ-যাত্রী।

ভ্রাম্যমাণ দোকানদারের কাছ থেকে যে লাখ লাখ টাকা চাঁদা আদায় হতো সেই দৌরাত্ম্যও বন্ধ হয়েছে। ঘাটের বেদখল জায়গাগুলোও দখলমুক্ত করে টার্মিনালকে সম্প্রসারণ করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। ভাগ করা হয়েছে জেলাভিত্তিক টার্মিনাল। চাঁদপুরসহ কাছে থাকা জেলার লঞ্চ চলাচলের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে লালকুঠি ঘাট। আর পুরাতন, নতুন ও হাইস্পিড ঘাট নির্ধারণ করে রাখা হয়েছে ঝালকাঠি, বরিশাল, পটুয়াখালী ও বরগুনা জেলার যাত্রীদের জন্য। দক্ষিণাঞ্চলের যাত্রীরা জানান, এখন ঘাটের পাড় দখল করে ভ্রাম্যমাণ দোকানদার—হোটেল বসানোর উৎপাত কমেছে। কমেছে যানজটও।

আগে প্রতিদিন সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে দক্ষিণাঞ্চলের যাত্রীদের ল্যাগেজ, বস্তাসহ বিভিন্ন পণ্য আটকে নির্ধারিত হারের চেয়ে ১০/১৫ গুণ অতিরিক্ত টোল আদায় হতো। এখন এসব বন্ধ হয়েছে।

বিআইডব্লিউটিএ সূত্র জানায়, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে সদরঘাটের ইজারা ছিল ৩ কোটি ২ লাখ টাকা। কিন্তু চলতি বছর ৮ কোটি ৬০ লাখ টাকায় সদরঘাটের ইজারা পায় আলমগীর এন্টারপ্রাইজ। শর্ত ছিল ঘাটের মালামাল, পার্কিং এলাকা ও পার্শ্ববর্তী তিনটি নৌকাঘাট-ওয়াইজঘাট, সিমসন ঘাট, কার্গো গেটে শুধু বাণিজ্যিক মালামাল উঠানামার লেবার হ্যান্ডেলিং এবং পার্কিং ইয়ার্ডে চার্জ বিআইডব্লিউটিএ নির্ধারিত হারে আদায় করবেন।

আর পণ্য মালিক চাইলে কুলি ছাড়াই বহন করতে পারবেন নিজের পণ্য। কিন্তু সরকারি মূল্য তালিকা উপেক্ষা করে প্রায় ১৫ গুণ বেশি টাকা নিয়েছে ইজারাদারের লোকজন। এরপর নেভি ব্লু কালারের ড্রেস দিয়ে ৮০ জন কুলি নিয়োগ দেয় বিআইডব্লিউটিএ। যারা যাত্রীদের ব্যাগ ও লাগেজ বহন করছে। এতে ইজারাদারের কর্তৃত্ব থাকছে না। শুধু ভারী মালামাল পারাপারে পন্টুন ভাড়া ইজারাদার পাবে। ফলে যাত্রীদের জিম্মি করার সুযোগ বন্ধ হয়েছে।

এদিকে সদরঘাট-ওয়াইজঘাট থেকে শুরু করে কালিগঞ্জ চরঘাট পর্যন্ত শত শত মাঝির জীবনমান বদলায়নি। মাঝিরা জানান, সদরঘাটে দুই ধরনের মাঝি আছে। কারও নিজস্ব নৌকা আছে। আবার কেউ মহাজনদের কাছ থেকে দৈনিক ভাড়া নিয়ে নৌকা চালান। প্রতি নৌকার জন্য মহাজনদের ৩০-৪০ টাকা করে জমা দিতে হয়। সারা দিন নৌকা চালিয়ে একজন মাঝি কম-বেশি ৪০০-৫০০ টাকা আয় করেন।

২৫ বছর ধরে সদরঘাটে মানুষ পারাপার করছেন মাঝি সোহেল। নিজের দুঃসহ জীবন কাহিনী শুনিয়ে তিনি বলেন, এমন অবস্থা আর আসেনি। দিন যাচ্ছে, কমে আসছে আয়। সদরঘাটের বেশির ভাগ মাঝির জীবনচিত্র এখন এমনই। যাত্রী আর মানুষ বাড়লেও ভাগ্যবদল হয়নি মাঝিদের।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow