Bangladesh Pratidin

ঢাকা, সোমবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১৮ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১৭ অক্টোবর, ২০১৬ ২১:২৯
কারওয়ানবাজার স্থানান্তর কতদূর?
রফিকুল ইসলাম রনি
কারওয়ানবাজার স্থানান্তর কতদূর?
সকালের কারওয়ানবাজার ছবি : জয়ীতা রায়

দীর্ঘ ১০ বছর ধরে চলছে রাজধানীর কারওয়ানবাজারের পাইকারি কাঁচাবাজার স্থানান্তর আলোচনা। ব্যবসায়ীদের জন্য প্রস্তাবিত নতুন তিন জায়গার মধ্যে আমিনবাজার ও মহাখালীতে সব ধরনের প্রস্তুতি এরই মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। তবে ব্যবসায়ীরা যেতে নারাজ। যাত্রাবাড়ীতে সামান্য কাজ বাকি আছে। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন ছয় মাসের সময়সীমা বেঁধে দিলেও ব্যবসায়ীরা শর্ত জুড়ে দেওয়ায় এখনো সরানো যাচ্ছে না কারওয়ানবাজারের কাঁচাবাজার। কবে নাগাদ কারওয়ানবাজার সরবে বা আদৌ সরবে কিনা, তা এখনো অনিশ্চিত।

সিটি করপোরেশন ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ব্যবসায়ীরা সরিয়ে নিতে সম্মত হলেও দোকান-বরাদ্দ বাবদ টাকা, ভাড়া মওকুফসহ নানা শর্ত জুড়ে দিয়েছেন। শর্ত পূরণ না হওয়ায় তারা যাচ্ছেন না। ব্যবসায়ীরা বলেছেন, দুটি বাজারের নির্মাণ কাজ শেষ হলেও তা চালুর উপযোগী নয়। আর যাত্রাবাড়ী কাঁচাবাজারের অবকাঠামো নির্মাণ কাজ শেষ হয়নি। এগুলো সমাধানের জন্য সিটি করপোরেশনে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এদিকে চলতি বছরের মধ্যে কাঁচাবাজার স্থানান্তর হবে বলে জানিয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)।

গত ২৯ মার্চ ডিএনসিসির মেয়র আনিসুল হকের সভাপতিত্বে কারওয়ানবাজার মার্কেট সমিতির নেতাদের একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় আড়ত মালিক নেতারা যাত্রাবাড়ীতে নবনির্মিত পাইকারি বাজারে কারওয়ানবাজার স্থানান্তরের বিষয়ে লিখিত ঘোষণা দেন। তবে মার্কেটের খুচরা দোকানগুলো স্থানান্তরের বিষয়ে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে এখনো লিখিত পাওয়া যায়নি বলে ডিএনসিসি সূত্রে জানা গেছে।

ডিএনসিসির প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা মমতাজ উদ্দিন বলেন, মেয়রের সঙ্গে বৈঠকে ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরেন। দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কারওয়ানবাজার স্থানান্তর বিষয়ে কথা হচ্ছে। নানা সমস্যা দেখিয়ে তারা দোকান সরাতে গড়িমসি করছেন। তবে এবার মেয়র তাদের সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন। সূত্রমতে, জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) ‘ঢাকা শহরের তিনটি পাইকারি কাঁচাবাজার নির্মাণ প্রকল্প’ পাস করে ২০০৬ সালের ৪ অক্টোবর। কৃষিপণ্যের বাজার ও সরবরাহ ব্যবস্থা উন্নয়নের পাশাপাশি কারওয়ানবাজারের যানজট কমাতে প্রকল্পটি নেওয়া হয়। মহাখালী, আমিনবাজার ও যাত্রাবাড়ীতে এই তিনটি পাইকারি কাঁচাবাজার নির্মাণের পরিকল্পনা ছিল। তিন দফা সময় বাড়িয়ে প্রায় ৩৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে গত বছরের জুনে এর কাজ শেষ হয়। কারওয়ানবাজারে প্রায় ২৪ বিঘা জমির ওপরে ডিএনসিসির মালিকানাধীন তিনটি মার্কেট রয়েছে।

উত্তর সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা জানান, যাত্রাবাড়ী কাঁচাবাজার নির্মাণে ছয়টি ব্লকের দুটির কাজ বাকি আছে। দুটির ছাদ ঢালাই অসম্পূর্ণ। এ অবস্থায় মার্কেট নির্মাণ প্রকল্পের মেয়াদ শেষ। নতুন করে এ প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে ডিএনসিসি। তবে মহাখালী ও গাবতলীর আমিনবাজারে নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে। এ দুই মার্কেটে ব্যবসায়ীরা এখনই যেতে পারেন। কিন্তু আমিনবাজারের সঙ্গে দুটি সংযোগ সড়ক তৈরির দাবি তুলেছেন ব্যবসায়ীরা। পাশাপাশি মার্কেটের মধ্যে দোকানের আকার আরও বড় করার দাবি করেছেন। এসব কাজ শেষ হলে আমিনবাজারে যেতে কোনো আপত্তি নেই তাদের।

ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, মহাখালী বাজারের একমুখী চলাচলের পরিবর্তে দ্বিমুখী চলাচলের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। তা ছাড়া মহাখালী মার্কেটে ছোট আকারের দোকানে তারা যেতে চান না। কারওয়ানবাজারের পাওয়া দোকানের মতো বড় দোকান চান তারা।

কারওয়ানবাজারের কিচেন মার্কেটের ব্যবসায়ীদের সংগঠন ইসলামিয়া শান্তি সমিতির সাধারণ সম্পাদক লোকমান হোসেন বলেন, ব্যবসায়ীরা নতুন মার্কেটে যেতে একমত হয়েছেন। তবে এ ক্ষেত্রে কিছু দাবি জানানো হয়েছে। এসব দাবি পূরণ হলে স্থানান্তর করা হবে।

আড়ত মালিক সমিতির সভাপতি জানিয়েছেন, নতুন তৈরি করা বাজারগুলোর দোকান আড়তের উপযোগী নয়। যাত্রাবাড়ীর নতুন মার্কেটটির দোকানগুলো সংস্কার করে বড় আকারে আড়তের উপযোগী করে দিলে এবং আরও কিছু বিষয়ে ব্যবসায়ীদের শর্ত মানলে আড়তগুলো সরানো হবে বলে ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে ডিএনসিসিকে বলা হয়েছে। ডিএনসিসির হিসাব অনুযায়ী, কারওয়ানবাজারে ১৭৬টি আড়ত ও এক হাজার ৬১৩টি খুচরা দোকান রয়েছে। আড়তগুলো সরানোর বিষয়ে কথাবার্তা অনেক দূর এগোলেও এসব মার্কেটের দোকানগুলো স্থানান্তরের বিষয়ে কোনো ফলপ্রসূ আলোচনা হচ্ছে না।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

এই পাতার আরো খবর
up-arrow