Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শনিবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১৮ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১৭ অক্টোবর, ২০১৬ ২১:৩২
চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে অ্যাম্বুলেন্স সংকট
রাহাত খান, বরিশাল
চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে অ্যাম্বুলেন্স সংকট

বরিশাল শেরেবাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় (শেবাচিম) হাসপাতাল, আধুনিক সদর হাসপাতাল, বক্ষব্যাধি হাসপাতালসহ ৯ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অ্যাম্বুলেন্স সংকট চরমে। জেলার ১২ হাসপাতালের ১৮টি অ্যাম্বুলেন্সের মধ্যে ১২টিই বিকল। বাকি ছয়টি সচল থাকলেও হাসপাতাল কর্মচারীদের কারসাজিতে রোগীরা অ্যাম্বুলেন্স সেবা পান না। হাসপাতালের অনেক কর্মচারী বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তারা কারসাজি করে হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্স বিকল করে রাখেন। এ কারণে রোগী ও তাদের স্বজনরা বাধ্য হয়ে চড়ামূল্যে হাসপাতালের সামনের বেসরকারি অ্যাম্বুুলেন্স ব্যবহার করেন।

শেবাচিম হাসপাতালের পরিচালক ডা. এস এম সিরাজুল ইসলাম সরকারি অ্যাম্বুলেন্স সংকটের সুযোগে হাসপাতালের সামনে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স ব্যবসা জমজমাট বলে স্বীকার করেন। রোগীদের চাহিদার কারণেই বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স তাড়িয়ে দেওয়া যায় না বলে দাবি তার।

শেবাচিম হাসপাতালে ৮টি অ্যাম্বুলেন্সের মধ্যে পুরাতন ৫টি অচল হয়ে পড়ে আছে। ২০১০ সালে নতুন একটি অ্যাম্বুলেন্স কেনা হলেও নিবন্ধন না হওয়ায় সেটি দুই বছর ধরে অলস অবস্থায় গ্যারেজে পড়ে আছে। অপর দুটি অ্যাম্বুলেন্স জীবনশক্তি হারিয়ে মাসের অধিকাংশ সময়ই অচল থাকে। তাই হাসপাতালের দুটি অ্যাম্বুলেন্সই হাজার হাজার রোগীর ভরসা।

এক অ্যাম্বুলেন্স চালক জানান, ৩টি অ্যাম্বুলেন্স চালানোর যোগ্য হলেও এর একটির নিবন্ধন না হওয়ায় ৫ বছর ধরে গ্যারেজে পড়ে আছে। অপর দুটি চলছে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে। তিনি বলেন, হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্স সংকটের সুযোগে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স ব্যবসায়ীরা একটি সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। তারা পুরাতন মাইক্রোবাস কিনে অ্যাম্বুলেন্স আকৃতির কাঠামো করে রোগী বহন করছে। হাসপাতালের সামনে এ রকম প্রায় ৩৫টি অ্যাম্বুলেন্স সবসময় অবস্থান করে। বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স ব্যবসার সঙ্গে হাসপাতালের কয়েকজন কর্মচারী জড়িত।

সূত্র জানায়, শেবাচিম হাসপাতালের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী সমিতির সভাপতি মোদাচ্ছের আলী কবিরের রয়েছে দুটি অ্যাম্বুলেন্স। তিনি বলেন, হাসপাতালে দুটি অ্যাম্বুলেন্স থাকলেও রোগীদের চাহিদা মেটানো যাচ্ছে না। তিনি স্বীকার করেন, তারা তিনজন যৌথভাবে দুটি মাইক্রোবাস কিনে অ্যাম্বুুলেন্স ব্যবসা করছেন।

এ ব্যাপারে শেবাচিম হাসপাতালের পরিচালক ডা. এস এম সিরাজুল ইসলাম বলেন, কর্মচারীরা বেনামে অ্যাম্বুলেন্স ব্যবসা করে থাকলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কিছু করার নেই। এদিকে বরিশাল আধুনিক সদর হাসপাতাল, বক্ষব্যাধি হাসপাতাল এবং ৯ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১০টি অ্যাম্বুলেন্স রয়েছে। কিন্তু এর মধ্যে ছয়টি অ্যাম্বুলেন্স বিকল, যা মেরামতের অবস্থায় নেই।

বরিশাল জেলা সিভিল সার্জন ডা. এ এফ এম সফিউদ্দিন বলেন, গৌরনদী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অ্যাম্বুলেন্সটি ফেরত পাঠানো হচ্ছে। সেখানে নতুন অ্যাম্বুলেন্স আনার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ ছাড়া জেলার ছয়টি অ্যাম্বুলেন্স মেরামত অযোগ্য।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow