Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শনিবার, ১৮ নভেম্বর, ২০১৭

ঢাকা, শনিবার, ১৮ নভেম্বর, ২০১৭
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ২২:০৬
চর্বি ঝরানোর নানা আয়োজন
গোলাম রাব্বানী
চর্বি ঝরানোর নানা আয়োজন
শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ থাকার লক্ষ্যে প্রতিদিন কাকডাকা ভোরে রাজধানীর বিভিন্ন উদ্যানে এভাবেই শরীরচর্চায় একত্রিত হন অসংখ্য মানুষ। ছবি : রোহেত রাজীব

‘মেদ ভুঁড়ি কী করি’ লেখা বিজ্ঞাপন চোখে পড়ে প্রায়ই। তবে সেই বিজ্ঞাপনদাতাও জাদুমন্ত্রবলে কমিয়ে দিতে পারবেন না শরীরের বাড়তি মেদ।

এ জন্য কঠোর পরিশ্রম করতে হয়। যারা খুব বেশি ব্যস্ত সময় কাটান তাদের জন্য এত বেশি পরিশ্রম করার মতো সময় বের করা কঠিন। তবে যারা একটু সচেতন তারা শত ব্যস্ততার মাঝেও নিজের শরীর-স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে কাকডাকা ভোরে হাঁটতে বের হন। ব্যায়াম করেন। এমনকি ৮৬ বছরের প্রবীণও তরুণদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে দৌড়ানোর চেষ্টা করেন। এরা সবাই আশাবাদী সচেতন মানুষ। এসব মানুষের দেখা মেলে ভোরের ঢাকায়। সদ্য  কৈশোর পেরোনো থেকে শুরু করে নব্বই ছুঁই ছুঁই মানুষও রয়েছেন তাদের মাঝে। এ ছাড়া সাধারণ চাকরিজীবী, ছোট ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে সরকারের উঁচু পদের কর্মকর্তা ও শিল্পপতিও রয়েছেন। রয়েছেন বেকার ও অবসরপ্রাপ্তরাও। পুরুষের সঙ্গে নারীরাও ভোরের আলো গায়ে মেখে নির্মল বাতাসে বুক ভরাচ্ছেন। মানসিক ও শারীরিকভাবে সুস্থ থাকার লক্ষ্যে গড়ে তুলেছেন বিভিন্ন সংগঠন। নিজেদের মধ্যে সুসম্পর্ক গড়ে তুলতে শ্রেণি, পেশা, রাজনীতি, ধর্ম কোনো বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি। একে অপরের বিপদে সহযোগিতার হাত প্রসারিত করছেন সহজেই, স্বতঃস্ফূর্তভাবে।

তারা বলেন, বাংলাদেশ যে বৈচিত্র্যময় ষড়ঋতুর দেশ তা রাজধানী ঢাকার প্রায় দম বন্ধ পরিবেশের মধ্যে থেকেও আমরা উপলব্ধি করতে পারছি। নিজেদের সংগঠন থেকে যোগ দিচ্ছেন বাঙালির সর্বজনীন বিভিন্ন উৎসব-অনুষ্ঠানে। পালন করছেন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন দিবস। এ ছাড়া ঢাকা নগরীর  যেসব পার্ক এখনো ব্যবহারযোগ্য- ভোরের এই প্রেরণাদায়ক পরিবেশ তার সবকটিতেই। কর্তৃপক্ষের দেখভালের অভাব নিজেদের উদ্যোগেই পুষিয়ে নিচ্ছেন। নতুন গাছ লাগিয়ে তার পরিচর্যা করছেন। পার্কের পুকুরও পরিষ্কার করা হচ্ছে সরকারি সহযোগিতা ছাড়াই।

চন্দ্রিমা উদ্যানে দীর্ঘদিন ধরে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে ‘প্রভাতী চন্দ্রিমা’ নামের একটি সংগঠন। সংগঠনের সাংস্কৃতিক সম্পাদক মো. এমরান হোসেন কবিরের সঙ্গে গতকাল কথা হয় এই প্রতিবেদকের। তিনি জানান এই সংগঠনের নানা কার্যক্রমের কথা। এমরান জানান, প্রতিদিন সকাল ৬টা ১৫ মিনিটে ব্যায়াম শুরু হয়, ৭টা ১৫-তে শেষ হয়। সেই সঙ্গে আমরা ব্যায়াম শেষ করে গানও করি। মানসিক ও শারীরিক সুস্থতার জন্যই এই সংগঠন।

 

 

সংগঠনের এক সদস্য বললেন, এখানকার ভোরবেলাটা খুব ভালো লাগে। এই গাছ-গাছালি, প্রকৃতি আমাকে ভীষণ টানে। অপর একজন বলেন, এখানে  ভোরের হাওয়া অক্সিজেনে ভরপুর। যারা আসেন তারা সবাই শিক্ষিত। জড়তা  নেই। বিপদে-আপদে আমরা পরস্পরকে সহযোগিতা করি। কারও পরিচিত  কেউ ক্যান্সারে আক্রান্ত, কারও স্বামী বা স্ত্রী অসুস্থ, সংসার চলছে না, চাকরি  নেই- এসব সমস্যায় আমরা আমাদের সাধ্যমতো সহযোগিতা করি। সংগঠনটির পক্ষ থেকে আরও জানানো হলো, বাঙালির সর্বজনীন বিভিন্ন উৎসব, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন দিবসও তারা পালন করে থাকেন। প্রতি তিন মাস অন্তর উদ্যান পরিষ্কার কর্মসূচি পালন করেন তারা।

এ উদ্যানে আরও একটি সংগঠন— ফিটনেস ক্লাব।

এর সদস্য ৭৩০ জনের মতো। সংগঠনের সদস্যরা জানান, শরীরচর্চার জন্য গঠিত হলেও ফিটনেস ক্লাব বিভিন্ন সামাজিক দায়িত্বও পালন করে থাকে। ভোরের ঢাকা- এই উদ্যান আমার কাছে বার্লিনের চেয়েও সুন্দর মনে হয়। সদস্যরা ফজরের নামাজ পড়েই এখানে চলে আসেন। ব্যক্তিগত উদ্যোগে এখানে গাছ লাগিয়েছেন সদস্যরা। এ ছাড়া চন্দ্রিমা উদ্যানে নিয়মিত কার্যক্রম চালাচ্ছে আনন্দধারা সাংস্কৃতিক অঙ্গন, সংগীতাঙ্গন, সুরের ধারা, শাশ্বত চন্দ্রিমা নামে সংগঠনও।

এদিকে ধানমন্ডির লেকপাড়ের মনোরম পরিবেশেও ভোরের এসব মানুষ গড়ে তুলেছেন প্রাতঃভ্রমণ সংক্রান্ত বিভিন্ন সংগঠন। রমনার শতায়ু অঙ্গনের দুটি শাখা এখানে গড়ে উঠেছে। লেকপাড়ের রবীন্দ্র সরোবরে মিলিত হন এর একটি শাখার সদস্যরা। এ শাখাটি গড়ে উঠেছে ’৯১ সালের দিকে। রবীন্দ্র সরোবরেই রয়েছে স্বজন নামের আরেকটি সংগঠনের কার্যক্রম। ‘স্বজন’-এর সদস্য সংখ্যা ২০০-এর ওপরে। ধানমন্ডি লেকের দ্বীপে রয়েছে ‘আপনজন’ ও ‘বন্ধুমেলা’ নামে আরও দুটি সংগঠন। ভলিবল ও ব্যাডমিন্টন খেলাকে কেন্দ্র করেও গড়ে উঠেছে বেশ কয়েকটি সংগঠন। এসব সংগঠন প্রাতঃভ্রমণ ও ব্যায়াম ছাড়াও বাংলা নববর্ষসহ বিভিন্ন জাতীয় উৎসব সাংগঠনিকভাবে পালন করে। এসব সংগঠনের বাইরেও ভোরের আলো- বাতাসে স্নিগ্ধ হচ্ছেন অনেকেই। আবার কেউ কেউ এই পরিবেশে ব্যতিক্রমী জীবিকার সুযোগও পাচ্ছেন। ধানমন্ডি লেকপাড়ের একটি রেস্টুরেন্টের পাশে গোটা চারেক ফিটনেস ম্যাসাজ মেশিন বসিয়েছেন একজন। রেস্টুরেন্ট থেকেই মেশিনগুলো চালানোর জন্য বিদ্যুৎ সরবরাহ নিচ্ছেন। প্রতি ৫ মিনিট ম্যাসাজের জন্য পাচ্ছেন ২০-২৫ টাকা।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow