Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বুধবার, ২৩ আগস্ট, ২০১৭

ঢাকা, বুধবার, ২৩ আগস্ট, ২০১৭
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ২২:০৮
শ্যামাসুন্দরীর সৌন্দর্য ফেরেনি ২৪ কোটি টাকা ব্যয়েও
শাহজাদা মিয়া আজাদ, রংপুর
শ্যামাসুন্দরীর সৌন্দর্য ফেরেনি ২৪ কোটি টাকা ব্যয়েও
দুই বছর আগে ২৪ কোটি টাকা ব্যয়ে সৌন্দর্যবর্ধন করা হলেও আজ এই হাল রংপুর নগরীর শ্যামাসুন্দরী খালের। ছবিটি নগরীর বেতপট্টি এলাকা থেকে তোলা।

দুই বছর আগে সৌন্দর্যবর্ধনে ২৪ কোটি টাকা ব্যয় করা হলেও সৌন্দর্য ফিরে পায়নি রংপুর নগরীর ঐতিহ্যবাহী শ্যামাসুন্দরী খাল। সেটি সৌন্দর্যহীন হয়ে পড়েছে।

ভেঙে যাচ্ছে খালের দুই পাড়। খালটি এখন ময়লা-আবর্জনা, ঝোপ-জঙ্গলে ভরা। দূষণে জর্জরিত খালটি ফের সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।     

নগরীর উত্তর-পূর্ব দিক সিও বাজার এলাকা থেকে শুরু হয়ে নগরীর ভিতর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে মাহিগঞ্জ এলাকা পর্যন্ত ১২ কিলোমিটারব্যাপী এই শ্যামাসুন্দরী খাল। এটি খনন, সংস্কার, পাড় নির্মাণ ও তিনটি সেতু নির্মাণ বাবদ ২৪ কোটি ৮০ লাখ টাকা ব্যয়ে ২০১৪ সালের ডিসেম্বর মাসে কাজ শেষ হয়। নগরীর পয়ঃনিষ্কাশনে এই খালটি ব্যবহৃত হওয়ার কথা থাকলেও তা ভেস্তে গেছে। নগরীর শাপলা মোড় থেকে কামারপাড়া, সেনপাড়া, মুলাটোল হয়ে গোমস্তাপাড়া সেতু পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার খালের বেহাল দশা হয়েছে। দোকানপাট ও বাসা-বাড়ির বর্জ্য ফেলা হচ্ছে। কাচারি বাজার সেতু থেকে গোমস্তাপাড়া সেতু পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার খালের পাড় বিধ্বস্ত হয়ে পড়েছে। কাদা, ময়লা ও ঝোপ-জঙ্গলে খাল মরে যাওয়ার উপক্রম। কটকিপাড়া থেকে কেরানীপাড়া পর্যন্ত খালের অনেক স্থানে ময়লা-আবর্জনাও ফেলা হচ্ছে। অনেক স্থানে খালের পাড় ভেঙে পড়েছে। কাদা আর ময়লায় খাল ভরাট হওয়ার উপক্রম হয়েছে। এমন দৃশ্য পাশাড়িপাড়া থেকে নূরপুর পর্যন্ত পাঁচ কিলোমিটার খালেরও।  

শ্যামাসুন্দরী খাল সংস্কার, খালের ওপর সেতু নির্মাণ ও খাল খননের জন্য ২৪ কোটি ৮০ লাখ টাকা ব্যয়ে সাবেক পৌরসভা অল্প কিছুদিন কাজ করার পর মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে এই প্রকল্পটি এলজিইডির কাছে হস্তান্তর করে। এই কাজ ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে শেষ হয়। মুলাটোল এলাকার বাসিন্দা কলেজ শিক্ষক সোহরাব আলী দুলাল বলেন, শ্যামাসুন্দরীর সৌন্দর্য বাড়াতে অনেক টাকা খরচ করার কথা শুনেছিলাম। কিন্তু সৌন্দর্য বাড়েনি, শ্যামাসুন্দরী শ্রীহীন হয়ে পড়েছে।  

রংপুর সিটি মেয়র সরফুুদ্দিন আহমেদ ঝন্টু বলেন, এই খাল রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব ছিল সিটি করপোরেশনের। কিন্তু খালের উন্নয়ন কাজটি এলজিইডিকে দেওয়া হয়। খালটি সংস্কারে হরিলুট হয়েছে। যথাযথভাবে কাজ না হওয়ায় শ্যামাসুন্দরী এখন নর্দমায় পরিণত হয়েছে।

এলজিইডি রংপুর কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী আখতার হোসেন বলেন, খালটি যথাযথভাবে সংস্কার করা হয়েছে। এটি এখন সিটি করপোরেশনের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow