Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : মঙ্গলবার, ৯ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০০ টা প্রিন্ট ভার্সন আপলোড : ৮ অক্টোবর, ২০১৮ ২৩:০৮
পা ঠ ক প্র তি বে দ ন
বনানীতে অপ্রতিরোধ্য মাদক ব্যবসায়ীরা

মহাখালী হাজারী বাড়ির মুন ভিডিওর পেছনের গলিতে আবদুল আলীর ছেলে শরীফ ওরফে পাগলা শরীফের মাদক স্পট। একাধিক মামলার আসামি শরীফের সঙ্গে বনানী থানার এসআই আবু তাহের ভূঁইয়ার বড়ভাই ছোটভাই সম্পর্ক। ১২ জুন শরীফকে মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর গ্রেফতার করে জেলে পাঠায়। ঈদের আগে জামিনে বের হয়ে আবার ইয়াবা-গাঁজা বিক্রি চালিয়ে যাচ্ছে। সারা দিন তার কাছ থেকে মাদক কিনতে আসা মাদক সেবকদের আনাগোনায় এলাকাবাসী অতিষ্ঠ বলে অনেকেই অভিযোগ করেছেন। মাদক ব্যবসায়ী শরীফ এলাকায় বলে বেড়ায়, মাসে ৩০ হাজার টাকায় এসআই তাহেরকে ম্যানেজ করে ফেলেছেন। এ ছাড়া বনানী থানার পুলিশ সোর্স শহীদ তার স্পট থেকে সাপ্তাহিক চাঁদা আদায় করেন বলে জানা গেছে। তাই বনানী থানার কোনো পুলিশ শরীফের মাদকের স্পটে অভিযান চালান না। অনুসন্ধানে জানা যায়, শরীফ মাদক মামলায় তিনবার গ্রেফতার হয়। তিনবারই মামলা হয় বনানী থানায় কিন্তু বনানী থানার পুলিশ তাকে একবারও গ্রেফতার করেনি। করেছে মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর। ওয়্যারলেস গেট টিঅ্যান্ডটি পূর্ব কলোনির বিটিসিএলের পানির পাম্পে আবদুর রহমান মাসুম ওরফে মোল্লা মাসুমের ইয়াবা স্পট। মোল্লা মাসুম এই এলাকায় ইয়াবার বড় ডিলার হিসেবে চিহ্নিত। তার সহযোগী বনানী থানার পুলিশ সোর্স নোয়াখালীর শহীদ। ২০১৬ সালের ১৮ এপ্রিল দুটি পিস্তল ৬ রাউন্ড গুলিসহ র‌্যাব-১ মোল্লা মাসুমকে গ্রেফতার করেছিল। এ মামলায় চার মাস পরেই জামিনে বেরিয়ে যায় মোল্লা মাসুম। জানা যায়, তার সহযোগী সোর্স শহীদকেও ২০০৫ সালে পিস্তল ও বিস্ফোরকসহ বনানী ২ নম্বর রোডের হিন্দুপাড়া বস্তি থেকে গ্রেফতার করেছিল র‌্যাব-১। মাসুম ও শহীদ বনানী, কড়াইল বস্তি, মহাখালী, বাড্ডা, গুলশান ও বারিধারা এলাকায় খুচরা মাদক ব্যবসায়ীদের ইয়াবা ও ফেনসিডিল দেয়। কিছু পুলিশও রয়েছে তাদের সিন্ডিকেটে। একই সিন্ডিকেটের আরেক মাদক ব্যবসায়ী মালেক ওরফে জামাই মালেক। শুধু বনানী থানায় তার নামে মাদক মামলা রয়েছে ৫-৬টি। মহাখালী, ওয়্যারলেস গেট, বনানী, বাড্ডা এলাকায় পাইকারি ইয়াবা ও ফেনসিডিল বিক্রি করে মালেক। এ ছাড়াও টিঅ্যান্ডটি বালিকা স্কুল রোডে মহান স্টুডিও সংলগ্ন বাড়িতে বসে ইয়াবা ও গাঁজার ব্যবসা করেন বনানী থানা স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা এবং কড়াইল বস্তির চিহ্নিত চাঁদাবাজ সায়েম। কৌশলে মাদক ব্যবসা করেন তিনি। মহাখালী টিবিগেট এলাকায় ইয়াবা ব্যবসায়ী রকি। তিনি বনানী থানা পুলিশের সোর্স হওয়ায় অতি দাপটের সঙ্গে ইয়াবা ব্যবসা করছেন। সোর্সের খাতায় নিজের নাম টিকিয়ে রাখতে প্রতিদিন পুলিশকে মিথ্যা তথ্য দিয়ে নিরীহ মানুষকে দেখিয়ে দিয়ে গ্রেফতার করানোর অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। রকি উত্তর বাড্ডার গোপীবাগ এলাকায় থাকেন। তার নামে বাড্ডা থানায় ২টি মাদক মামলা ও মিথ্যা সাক্ষী দেওয়ার অভিযোগে ১টি মামলা রয়েছে। মহাখালী পশু গবেষণা প্রতিষ্ঠান সংলগ্ন মাদকের অন্যতম বড় নাটা ইউসুফের মাদকের স্পটে প্রকাশ্যে ইয়াবা, গাঁজা, ফেনসিডিল বিক্রি করা হলেও পুলিশ তাকে গ্রেফতার করছে না। তিনি ডিবির সোর্স হিসেবেও পরিচিত। তার নামে গুলশানসহ বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। গত মে মাসের শেষে ৬০ পিস ইয়াবাসহ বাড্ডা থানায় গ্রেফতার হয় বনানী থানা পুলিশের সোর্স ও মহাখালী ওয়্যারলেস গেট এলাকার ইয়াবার ব্যবসায়ী মানিক ওরফে তৃপ্তি হোটেল মানিক। বর্তমানে তিনি জামিনে বের হয়ে ইয়াবা ব্যবসায় আবার সক্রিয়।

     -নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক, বনানী, ঢাকা।

 

এই পাতার আরো খবর
up-arrow