Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১৫ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৪ জানুয়ারি, ২০১৯ ২৩:১১

কালের সাক্ষী বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘর

মর্তুজা নুর, রাবি

কালের সাক্ষী বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘর

বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘর। বরেন্দ্র জাদুঘর নামে পরিচিত। রাজশাহী শহরের হেতেম খাঁ এলাকায় গড়ে ওঠা এই জাদুঘরটি দেশের প্রাচীনতম জাদুঘর। গৌরবের শতবর্ষ পার করা এই পুরনো জাদুঘরটি দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম শ্রেষ্ঠ প্রত্নতাত্ত্বিক সংগ্রহশালা। বঙ্গীয় শিল্পকলার অপূর্ব সমাহারে সমৃদ্ধ এই সংগ্রহশালাটি রাজশাহী তথা বাংলাদেশের গর্ব এবং অহঙ্কার।

বরেন্দ্র অঞ্চলের রাজণ্যবর্গ, সমসাময়িক জ্ঞানী-গুণী ও পি তজন এখানকার নিজস্ব ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণের জন্য ১৯১০ সনে প্রতিষ্ঠা করেন এই জাদুঘরটি। নাটোরের দিঘাপাতিয়া রাজপরিবারের জমিদার শরৎকুমার রায়, আইনজীবী অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়, রাজশাহী কলেজিয়েট স্কুলের শিক্ষক রমাপ্রসাদ চন্দ জাদুঘরটি প্রতিষ্ঠায় অনন্য ভূমিকা রেখেছেন। জমিদার শরৎকুমার রায় প্রত্নস্থল আবিষ্কারের লক্ষ্যে ১৯১০ সালের এপ্রিলে অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়, রাখালদাস বন্দ্যোপাধ্যায় এবং আরও কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে দেওপাড়া, পালপাড়া, মালঞ্চ, জগপুর, ইটাহার, চব্বিশনগর, মান্দইল, কুমারপুর, খেতুর ও বিজয়নগর পরিদর্শন করেন। তারা মান্দইল থেকে চীর কয়েকটি প্রমাণসাইজ মূর্তিসহ প্রায় ৩২টি ভাস্কর্য সংগ্রহ করতে সক্ষম হন।

১৮৬০ সনের ভারতীয় সমিতি আইন অনুযায়ী ১৯১৪ সালে বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘর নিবন্ধন লাভ করে। ১৯১৬ সনের ১৩ নভেম্বর লর্ড কারমাইকেল নতুন ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দের পরে জাদুঘরটির অস্তিত্ব নিয়ে সংকট দেখা দেয়। ১৯৪৯ থেকে ১৯৬১ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত জাদুঘর ভবনটির অর্ধেকাংশ মেডিকেল স্কুল হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল। ১৯৬৪ খ্রিস্টাব্দে জাদুঘরটি বন্ধ হওয়ার উপক্রম হলে ওই বছরের ১০ অক্টোবর এর স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি অধিগ্রহণ করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। বর্তমানে রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয়ের অধীনেই পরিচালিত হচ্ছে এই জাদুঘরটি।

বরেন্দ্র জাদুঘর প্রতিষ্ঠার পর এর অগ্রগতি ছিল খুবই সীমিত। এটি রক্ষা ও পুনর্গঠনের প্রয়োজনে ১৯৬৪ সনে এটি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর কার্যত জাদুঘরটির উন্নয়ন কর্মকা  বৃদ্ধি পায়। ফোর্ড ফাউন্ডেশনের আর্থিক সহায়তা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে জাদুঘরটির জন্য একটি আধুনিক ল্যাবরেটরি স্থাপন করা হয়। এতে প্রাচীন পা ুলিপি যথাযথভাবে সংরক্ষণের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এ ছাড়া ফোর্ড ফাউন্ডেশনের সহায়তায় ক্যাটালগ তৈরি, গাইডবুক রচনা, জার্নাল প্রকাশনা, ফটোগ্রাফি শাখা ও বিদ্যুতায়নের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বর্তমানে এ জাদুঘরের সংগ্রহের পরিমাণ ১৫ হাজারের বেশি। এর মধ্যে সর্বাধিক পরিমাণ প্রাচীন মুদ্রা ৬ হাজারের বেশি এবং দুর্লভ ও প্রাচীন পা ুলিপি ৫ হাজারের বেশি। এ ছাড়া রয়েছে প্রায় ১ হাজার ২০০ প্রস্তর ও ধাতব মূর্তি, ৬১টি প্রাচীন লেখচিত্র, সহস্রাধিক পোড়ামাটির ভাস্কর্য, পত্র ও ফলক, অস্ত্র, আরবি, ফারসি দলিল প্রভৃতি। এ জাদুঘরে বরেন্দ্র অঞ্চলের পাল, সেন, মৌর্য ও গুপ্ত আমলসহ হাজার হাজার বছরের প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শন রাখা আছে গবেষক ও সাধারণ দর্শকের পরিদর্শনের জন্য। সম্প্রতি এখানে মুসলিম ঐতিহ্য ও নিদর্শনগুলো সংরক্ষণের জন্য একটি মুসলিম গ্যালারিও স্থাপন করা হয়েছে। মহেঞ্জোদারো ও সিন্ধু সভ্যতা থেকে সংগৃহীত অসংখ্য প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন ও হাজারও পাথরের মূর্তি এখানে সংগ্রহে আছে।


আপনার মন্তব্য