Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ২২:১০

সড়ক আছে পথ খোলা নেই

দখলের কবলে রাজধানীর মাদানী এভিনিউ

জয়শ্রী ভাদুড়ী

সড়ক আছে পথ খোলা নেই
রাজধানীর নতুন বাজারে মাদানী এভিনিউ দখল করে গড়ে তোলা হয়েছে পিকআপ স্ট্যান্ড ছবি : জয়ীতা রায়

রাজধানীর মাদানী এভিনিউয়ের (নতুনবাজার-বেরাইদ সড়ক) ফুটপাথসহ সড়কের অধিকাংশই চলে গেছে দখলদারদের কবলে। সড়কের ওপরে দোকানপাট, পিকআপ, সিএনজি অটোরিকশা-টেম্পোস্ট্যান্ড গড়ে তুলেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। দীর্ঘদিন থেকে ১০০ ফুট প্রশ্বস্ত এ সড়ক দখলের কবলে থাকলেও নজর নেই কর্তৃপক্ষের।

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, সড়কটিতে চরম অব্যবস্থাপনার কারণে সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র যানজট। প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা, হতাহত হচ্ছে মানুষ। নতুনবাজার বাসস্ট্যান্ড থেকে মাদানী এভিনিউয়ের প্রথম ব্রিজ পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার সড়কে প্রভাবশালীরা গড়ে তুলেছেন তিনটি মিনি পরিবহন স্ট্যান্ড। এর মধ্যে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা স্ট্যান্ড, একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা স্ট্যান্ড এবং একটি টেম্পোস্ট্যান্ড। এ সড়কের ওপর স্থাপিত তিনটি মিনি পরিবহন স্ট্যান্ড থেকে দৈনিক অর্ধশতাধিক সিএনজি অটোরিকশা ও টেম্পো বেরাইদ, সাঁতারকুল এলাকায় চলাচল করে। সেখানে গিয়ে দেখা যায়, সড়কের ওপর বন্ধু পরিবহনের চারটি এবং উইনার পরিবহনের দুটি গাড়ি রাখা আছে। এ সড়কের দক্ষিণ পাশের সড়কের ওপর গড়ে উঠেছে টেম্পোস্ট্যান্ড। এ স্ট্যান্ডে রয়েছে ৭টি টেম্পো।

সড়কের আরেক পাশ দখল করে রাখা হয়েছে ৮টি পিকআপ। এর মধ্যে কোনোটির আবার মেরামত চলছে রাস্তার ওপরেই। একতা ট্রান্সপোর্ট কোম্পানির বেশ কয়েকটি পিকআপ রাস্তার ওপর রাখা হয়েছে। পিকআপ মেরামতকারী মিস্ত্রি নুরুদ্দিন বলেন, এই পিকআপগুলো সবসময় এখানেই স্ট্যান্ড করে রাখা হয়। মেরামতের দরকার পড়লে আমরা এখানেই কাজ করি। পাশের দোতলা বাড়ির কাছ চলছে। ইটের খোয়া, বালু, রড সব কিছুই রাখা হয়েছে রাস্তা দখল করে।

সড়কটি তৈরির পর আর কোনো সংস্থা এটা তত্ত্বাবধান করছে না। এ কারণে যে যেভাবে পারছেন, সড়ক ও ফুটপাথ দখল করে ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করছেন। এ সড়কের ফুটপাথে স্থায়ী ও অস্থায়ী কাঠামোর ওপর কাপড়, ফল, কাঁচামাল এবং মাছের শতাধিক দোকান গড়ে তুলেছেন হকাররা।

মাদানী এভিনিউয়ের বাজারঘাট, মার্কেট থেকে নতুন বাজার পর্যন্ত এবং সিদ্দিক মার্কেট হয়ে নূর শপিং কমপ্লেক্স পর্যন্ত দোকানগুলোর সামনের অংশ ফুটপাথের ওপর এসে পড়েছে। এরপর বিকাল থেকে রাস্তার ওপর চলে চপ, শিঙারা, চটপটি, ফুচকার দোকান। ফুটপাথের এক অংশ দখল করে বসেছেন জুতার দোকানিরা। পাশেই হকাররা মশা মারার ব্যাট থেকে শুরু করে ছোটখাটো ইলেকট্রনিক সামগ্রীর দোকান পেতে বসেছেন। রাস্তা-ফুটপাথ দখল করে চলছে জমজমাট বেচাকেনা।

একপাশ দখল হয়ে যাওয়ায় অন্য পাশ দিয়েই ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে যানবাহন। এতে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। রাস্তার ওপর ময়লার ভাগাড় তৈরি করলেও তদারকি নেই কর্তৃপক্ষের। মাদানী এভিনিউয়ের ১০০ ফুটের এ সড়ক রাজউক নির্মাণ করেছিল। পরে এর কিছু অংশ ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

ওই এলাকার বাসিন্দা মুকাব্বির হোসেন বলেন, আমরা একাধিকবার এ বিষয়ে অভিযোগ দিলেও কেউ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। সন্ধ্যার পর থেকে রাস্তার মোড়গুলো আরও বেশি বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। বেশির ভাগ দুর্ঘটনা ঘটে ব্যাটারিচালিত রিকশার সঙ্গে মোটরসাইকেল কিংবা প্রাইভেট কারের সংঘর্ষে। পাশের দোকানের মালিক মাহবুবু হোসেন বলেন, গত পরশু দিন দুপুরে এখানে মোটরসাইকেলের সঙ্গে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনায় তিনজন আহত হয়েছেন। সন্ধ্যা হলেই ভিড়ভাট্টায় ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। এরকম প্রশস্ত একটা রাস্তা থাকলেও তদারকি না থাকায় দখল হয়ে যাচ্ছে।

 

এ ব্যাপারে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী খন্দকার মাহবুব আলম বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, এ রাস্তা নির্মাণ করার পর দীর্ঘদিন রাজউকের তত্ত্বাবধানেই ছিল। গত বছর নতুন বাজার মোড় থেকে মাত্র ২০০ মিটার পর্যন্ত রাস্তা আমাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। আমরা ওই অংশটুকু রক্ষণাবেক্ষণের চেষ্টা করি। বাকি রাস্তার দায়িত্ব রাজউকের।


আপনার মন্তব্য