Bangladesh Pratidin

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৭ জানুয়ারি, ২০১৭

প্রকাশ : সোমবার, ৪ জুলাই, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ৪ জুলাই, ২০১৬ ০০:৩২
শোকে স্তব্ধ বাংলাদেশ
শোকে স্তব্ধ বাংলাদেশ
সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে হলি আর্টিজান বেকারিতে পরিচালিত অপারেশন থান্ডারবোল্ট এর একটি দৃশ্য

ঢাকার বাতাসে তখন ঈদের গন্ধ। শপিং মল, রাস্তাঘাটজুড়ে মানুষের উৎসবকেন্দ্রিক ব্যস্ততা। নাড়ির টানে অনেকেই বাড়ি ফিরেছেন আগেই। ঈদ উপলক্ষে দীর্ঘ ৯ দিনের ছুটি। ফলে ঢাকায় মানুষের স্বাভাবিক চাপ কমে গিয়েছিল অনেকটাই। বাকি যারা ছিলেন, তারা সবাই ব্যস্ত ছিলেন ঈদ উৎসবের প্রস্তুতিতে। কিন্তু কে জানত এমন সময়েই জাতির জীবনে নেমে আসবে ঘোর কালো অন্ধকার? গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারির ডুপ্লেক্স ভবনটি এ দেশে আসা হাইপ্রোফাইল বিদেশিদের কাছে খুব পছন্দের একটি জায়গা ছিল। লেকভিউ এই রেস্টুরেন্টটিতে সকাল-সন্ধ্যা বিদেশিদের আনাগোনা থাকত। আর এটাকেই টার্গেট করল জঙ্গিরা। শুক্রবার রাত সোয়া ৮টা। গুলশান-২ এর হলি আর্টিজান বেকারি নামে স্প্যানিশ রেস্টুরেন্টের সবকিছুই ছিল স্বাভাবিক। লেকভিউ ক্লিনিক ও নর্ডিক ক্লাবেও মানুষের চলাচল ছিল অন্যদিনের মতোই।   রেস্টুরেন্টে রাতের খাবার খেতে আসেন অন্তত ২০ জন বিদেশি। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকেও পরিবার নিয়ে অনেকে খেতে আসেন সেখানে। এ সময় ওই রেস্টুরেন্টে প্রবেশ করে ৮-১০ জন যুবক, যাদের বয়স ২০-৩০ এর মধ্যে। রাত সাড়ে ৮টার দিকে ওই যুবকরা রেস্টুরেন্টের সবাইকে জিম্মি ঘোষণা করে। এ সময় সন্ত্রাসীরা ফাঁকা গুলি করে। ‘আল্লাহু আকবর’ বলে চিৎকার করে। পরের ঘটনা পুরোটাই রক্তাক্ত। চরম নিষ্ঠুরতায় একের পর এক ২০ জনকে তারা জবাই করল। রক্তে ভেসে যায় রেস্টুরেন্টের মেঝে।

এরপর কাটে রুদ্ধশ্বাস সময়। সকাল ৭টা চল্লিশে সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে শুরু হয় অপারেশন থান্ডারবোল্ট। ১২টা ১৩ মিনিটের মধ্যে সন্ত্রাসীদের নির্মূল করা হয়। সাড়ে ৮টায় অপারেশন সমাপ্ত করা হয়। অভিযানের মাধ্যমে ৩ জন বিদেশি যার মধ্যে ১ জন জাপানি এবং ২ জন শ্রীলঙ্কান নাগরিকসহ মোট ১৩ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। আর  অভিযানের পর তল্লাশি শেষে ২০ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। যাদের অধিকাংশকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। সন্ত্রাসীদের ৭ জনের মধ্যে ৬ জন নিহত এবং ১ জনকে সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেফতার করা হয়। আমাদের দেশে ইতিপূর্বে বিচ্ছিন্ন সন্ত্রাসী ঘটনার সঙ্গে শুক্রবারের হত্যাযজ্ঞের অনেকটাই মিল নেই। আইএস এই হত্যাকাণ্ডের শুধু দায়ই স্বীকার করেনি, ঘটনাস্থল থেকে হত্যাকাণ্ডের একাধিক ছবি আপলোড করেছে তারা। নিহতদের নির্ভুল সংখ্যাও তারা জানিয়েছে। তাই এ কথা এখন অনেকেই জোর দিয়ে বলেছেন, আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী চক্রের চোখ এখন বাংলাদেশের ওপর।

 

নিহত বাংলাদেশি

গুলশান রেস্টুরেন্টে হামলায় নিহত হয়েছেন তিন বাংলাদেশি। এদের একজন বাংলাদেশের শিল্প ব্যক্তিত্ব ইশরাত আখন্দ। নিজ দেশে তিনি শিল্পকলায় সোচ্চার ছিলেন এবং ইনস্টিটিউট অব এশিয়ান ক্রিয়েটিভসের (আইএসি) তত্ত্বাবধানে ছিলেন। তিনি প্রায় ২০ বছর শিল্পকলা চর্চা করে আসছেন। বাংলাদেশের শিল্পকলা এবং চারুশিল্পীদের তিনি আন্তর্জাতিক মাত্রায় নিয়ে যেতে  চেয়েছিলেন। তিনি প্রায় ২০০ শিল্পীকে নিজেদের প্রতিভা প্রকাশে সহায়তা করেছেন।   ইশরাত ইতালীয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে শুক্রবার গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্টুরেন্টে  নৈশভোজে অংশ নিয়েছিলেন।

ওই হামলায় নিহত ফারাজ  হোসেন— সিমিন হোসেন এবং মুহাম্মদ ওয়াকার বিন  হোসেনের ছোট ছেলে এবং ট্রান্সকম গ্রুপের চেয়ারম্যান  লতিফুর রহমানের নাতি। সন্ত্রাসীদের হামলায় অবিন্তা কবির (১৮) নামে এক যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী তরুণী নিহত হয়েছেন। তিনি ইমোরি অক্সফোর্ড কলেজের ছাত্রী। তার ২০১৯ সালে স্নাতক সম্পন্ন করার কথা ছিল। ঢাকায় বেড়াতে এসেছিলেন তিনি। শুক্রবার সন্ধ্যায় ইফতারের পর বন্ধুদের সঙ্গে নৈশভোজের জন্য ওই হলি আর্টিজান রেস্টুরেন্টে অংশ নিয়েছিলেন অবিন্তা কবীর। পরে সেখানে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত হন তিনি। এ ছাড়া জঙ্গিদের হামলায় দুই পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন।

 

পরিবারের সঙ্গে ঈদ করা হলো না ফারাজের

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টার ইমোরি বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্ডার গ্র্যাজুয়েট শিক্ষার্থী ছিলেন ফারাজ আইয়াজ হোসেন (২০)। ছুটিতে পরিবারের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করতে গত ১৮ মে দেশে আসেন তিনি। আগামী ২২ আগস্ট তার যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেই ফেরা আর হলো না। এমনকি পরিবারের সঙ্গে ঈদও উদযাপন করা হলো না তার। এর আগেই গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্টুরেন্টে জঙ্গি হামলার বলি হয়ে চিরবিদায় নিলেন তিনি।

নিহত ফারাজ ট্রান্সকম গ্রুপের  চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী লতিফুর রহমানের নাতি। তার মা সিমিন হোসেন প্রথম আলোর প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান মিডিয়া স্টার লিমিটেডের একজন পরিচালক। বাবা ওয়াকার হোসেন। ট্রান্সকম গ্রুপের একজন কর্মকর্তা জানান, দুই ভাইয়ের মধ্যে ছোট ফারাজ চঞ্চল প্রকৃতির ছিলেন। পরিবারের সবাইকে সব সময় আনন্দে মাতিয়ে রাখতেন।

 

নিহত বিদেশি

বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার গুলশানে হলি আর্টিজান রেস্টুরেন্টে হামলার ঘটনায় তিন বাংলাদেশি, এক ভারতীয়, ৯ ইতালীয় এবং সাত জাপানি নাগরিক নিহত হয়েছেন। তবে জাপানি নাগরিকদের বিস্তারিত পরিচয় পাওয়া না গেলেও বাংলাদেশি, ভারতীয় এবং ইতালীয় নাগরিকদের পরিচয় জানা গেছে।

গুলশানের রেস্টুরেন্টে হামলায় ৯ জন ইতালীয় নাগরিক নিহত হয়েছেন।

ইতালীয় নাগরিক নাদিয়া বেনেদেত্তি (৫২) বাংলাদেশে কর্মরত ছিলেন। তিনি স্টুডিওটেক্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছিলেন। ওই প্রতিষ্ঠানটির সদর দফতর লন্ডনে অবস্থিত। এর ঢাকার শাখা অফিসেই ছিলেন নাদিয়া। নাদিয়ার মৃত্যুতে তার ভাইয়ের মেয়ে নিজের ফেসবুক পেজে এক পোস্টে বলেন, ‘এখন আমরা শেষ ভরসাও হারিয়ে ফেললাম। আমার ফুফু নাদিয়া  বেনেদেত্তি শুক্রবার বাংলাদেশে এক ভয়াবহ হামলায় নিহত হয়েছেন। আমরা আর কেউ একে অপরকে দেখতে পারব না। ’

ক্লাউদিয়া কাপেল্লি (৪৫) ভেদেনো ইতালির মোনজা প্রদেশের আল লামব্রো এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। তিনি পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে বাংলাদেশে নিজের একটি টেক্সটাইল কোম্পানি চালাচ্ছিলেন। এ দেশে কাজ করে খুব খুশি ছিলেন তিনি। তিনি সব সময় বলতেন, কাজের জন্য এ দেশের পরিবেশ খুবই উপযোগী।

ভিনচেনসো দালেস্ত্রো (৪৬) ইতালির পিয়েদিমোনতে মাতেসের কাসেত্রার নাগরিক। তিনি ১৯৯৩ সালে গ্লোসোপের নাগরিক মারিয়াকে বিয়ে করেন। তার সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি।

ক্লাউদিয়া মারিয়া ডি দান্তোনা (৫৬) ফেডো ট্রেডিং লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছিলেন। ওই ইতালীয় টেক্সটাইল কোম্পানি বাংলাদেশে কাজ করছিলেন। তিনি এবং তার স্বামী ২০ বছরের বেশি সময় ধরে বাংলাদেশে বাস করছিলেন। ওই হামলায় ইতালীয় নাগরিকদের মধ্যে একমাত্র মারিয়ার স্বামী গিয়ান গালিয়াজ্জো বোসসেত্তিই সৌভাগ্যক্রমে বেঁচে গেছেন। তারা দুজন হলি আর্টিজানে নৈশভোজে অংশ নেন। পরে হামলায় মারিয়া নিহত হন এবং গিয়ান পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।

সিমোনা মোনতি (৩৩) সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। তিনি তার সন্তানের জন্মের আগেই ইতালি যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। কিন্তু তার আগেই গুলশানের হামলায় নিহত হলেন তিনি। সিমোনা রোম থেকে কিছু দূরের মাগলিয়ানো সাবিনো শহরে বাস করতেন।

আদেলে পুলিজি (৫০) ইতালির ক্যাটেনিয়ার নাগরিক। তিনি শনিবারে নিজের দেশে যাওয়ার পরিকল্পনা করছিলেন। আদেলে আর্টসানায় একটি  টেক্সটাইল গ্রুপের মাননিয়ন্ত্রক ব্যবস্থাপক হিসেবে কাজ শুরু করেছিলেন।

ক্রিস্টিয়ান রোজি (৪৭) ফেলেত্তো আমবারতো প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক ছিলেন। তিন বছরের যমজ কন্যাসন্তানের বাবা ছিলেন ক্রিস্টিয়ান। বৃহস্পতিবার ইতালি ফিরে যাওয়ার কথা ছিল তার। কিন্তু পরে সেই সিদ্ধান্ত বাতিল করেন তিনি। ফিবরেস লিমিটেড নামে তার নিজের একটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। বাংলাদেশ এবং চীনে তার এই প্রতিষ্ঠান কাজ করছে।

মারিয়া রিবোলি (৩৩) স্বামী এবং তিন বছর বয়সী মেয়ে নিয়ে ইতালির  সোলজায় বাস করতেন। তিনি ব্যবসায়িক কাজে কয়েক মাস আগে বাংলাদেশে এসেছিলেন। তিনি একটি টেক্সটাইল কোম্পানিতে কর্মরত ছিলেন। শুক্রবার রাতে গুলশান রেস্টুরেন্টে হামলায় নিহত হন মারিয়া।

গুলশানের রেস্টুরেন্টে হামলায় মারকো তোসদাত নামে আরও এক ইতালীয় নাগরিক নিহত হয়েছেন। তিনি টেক্সটাইলের একজন তরুণ ব্যবসায়ী ছিলেন। তিনি স্টুডিওটেক্স লিমিটেডে কর্মরত ছিলেন। ব্যবসার কাজে বাংলাদেশে এসেছিলেন তিনি।

হলি আর্টিজানের হামলায় তারুশি জৈন (১৮) নামে এক ভারতীয় নাগরিক নিহত হয়েছেন। তিনি ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ার ছাত্র ছিলেন। এ বছর ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেডের আওতায় বাংলাদেশে ইবিএল বাণিজ্য বৃদ্ধির সুযোগ সম্পর্কে একটি প্রজেক্ট তৈরি করায় তাকে পুরস্কার দেওয়া হয়েছিল। তার বাবা সঞ্জিব জৈন ঢাকায় ২০ বছর ধরে গার্মেন্ট ব্যবসা পরিচালনা করছেন।

গুলশান রেস্টুরেন্টে হামলার ঘটনায় সাত জাপানি নিহত হয়েছেন। এদের মধ্যে পাঁচ পুরুষ এবং দুই নারী। এরা হলেন তানাকা হিরোশি, ওগাসাওয়ারা, শাকাই ইউকু, কুরুসাকি নুবুহিরি, ওকামুরা মাকাতো, শিমুধুইরা রুই ও হাশিমাতো হিদেইকো।

এদের মধ্যে ছয়জনই মেট্রোরেল প্রকল্পের সমীক্ষা কাজে নিয়োজিত ছিলেন। ওই হামলায় আরও এক জাপানি গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন। তিনি বর্তমানে আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

 

 

সকাল-সন্ধ্যা ভিড় লেগেই থাকত হলি আর্টিজানে

ঢাকায় বসবাসরত বিদেশি নাগরিক ও পর্যটকদের জন্য নিশ্ছিদ্র এবং নিরাপদ আনন্দের জায়গা ছিল গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারি। রেস্টুরেন্টটির মূল প্রবেশদ্বার একটি। প্রবেশের পর একদিকে চমৎকার খোলা জায়গা আর সোজা গেলে বেকারি। এর ডানদিকে রেস্টুরেন্ট যার বাইরের দিকেও বসার জায়গা আছে। আবার বাইরের অংশে ঘাসের ওপরও বসার ব্যবস্থা রয়েছে সেখানে। এ ছাড়া ভিতরের দিকে ৫০-৬০ জনের বসার জন্য রয়েছে সুবিন্যস্ত চেয়ার-টেবিল। আর দ্বিতল ভবনের উপরের তলায় অফিস ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। পরিবার-পরিজন আর বন্ধুবান্ধব নিয়ে বিদেশিরা এই হোটেলে সময় কাটাতে খুবই পছন্দ করতেন। নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা সংবলিত অভিজাত কূটনৈতিক এলাকা হওয়ায় নিশ্চিন্তে সেখানে সময় কাটাতেন বিদেশিরা। জানা গেছে, হলি আর্টিজানে পাঁচতারকা হোটেলের প্রায় সব সুযোগ-সুবিধা পাওয়া যেত। সব ধরনের খাবার-দাবার পাওয়া যেত সহনীয় মূল্যে। কোলাহলপূর্ণ ঢাকার গুলশানে নিরিবিলি পরিবেশে হলি আর্টিজান অত্যন্ত মনোরম। আর্টিজানের প্রাকৃতিক পরিবেশ অত্যন্ত মনোরম। ছাদ থেকেই উপভোগ করা যেত গুলশান লেকের প্রাকৃতিক দৃশ্য। এই রেস্টুরেন্টে ঢুকতেই গেটের দুই পাশে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের গাছ-গাছড়া। ভিতরে একই পরিবেশ। সার্বক্ষণিক বাজত হালকা মিউজিক।   রেস্টুরেন্টের একপাশে প্রশস্ত খোলা জায়গায়, প্রশস্ত বারান্দায় আগত ছোট শিশুদের খেলাধুলার জায়গাও ছিল। এসব কারণেই ব্যস্ত জীবনের প্রশান্তির কিছু সময় কাটাতে বিদেশিরা হলি আর্টিজানে যেতেন।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow