Bangladesh Pratidin

ঢাকা, সোমবার, ২৩ জানুয়ারি, ২০১৭

প্রকাশ : মঙ্গলবার, ৫ জুলাই, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ৫ জুলাই, ২০১৬ ০০:৪১
ব্ল্যাক ফ্রাইডে
মির্জা মেহেদী তমাল
ব্ল্যাক ফ্রাইডে

দেশে দেশে জঙ্গিদের ভয়ঙ্কর পরিকল্পনা ও হামলার আগাম তথ্য প্রদানকারী রহস্যময় নারী। তিনি কার হয়ে কাজ করেন, কে তার পেছনে রয়েছে কেউই জানে না। কদাচিৎ ফোনে কথা বলেন, দেখা দেন না কারও সঙ্গেই।

 

রহস্যময় রিটা কাটজ 

রিটা কাটজের সাইট ইনটেলিজেন্স। গত শুক্রবার রাতে গুলশানে হলি আর্টিজান রেস্টুরেন্টে বিদেশিসহ বাংলাদেশি নাগরিকরা সন্ত্রাসীদের হাতে জিম্মি হওয়ার পরও আইএসের দায় স্বীকার করার বার্তা দেয় রিটা কাটজের সাইট। মধ্যরাতে ২০ জন নিহত হওয়ার খবর প্রকাশ করে ছবিসহ। নিহত পাঁচ জঙ্গির ছবি শনিবার রাতে পুলিশ প্রকাশ করার আগেই প্রকাশ করে দেয় রিটা কাটজের সাইট। শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বে যেখানেই সন্ত্রাসী ঘটনা ঘটুক না কেন, সরাসরি চলে আসে রিটা কাটজের নাম। ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীতে চাকরি করা রিটা যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউস, এফবিআই, সিআইএ, বিচার বিভাগ, অর্থ বিভাগ, অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিভাগ তথা মার্কিন সরকারের গুরুত্বপূর্ণ সব বিভাগের সঙ্গে কাজ করেছেন। ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের চর হিসেবে খ্যাত রিটার যুক্তরাষ্ট্র সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দফতরের শীর্ষ নির্বাহীদের সঙ্গে রয়েছে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ।

 

বিভীষিকাময় সেই রাত

তখন আনুমানিক রাত পৌনে ৯টা। হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় অল্প ভলিয়মে মিউজিক বাজছে। বিভিন্ন টেবিলে বিদেশি অতিথিরা ডিনার করছেন। সঙ্গে খোশগল্প আর হাসি ঠাট্টা। রেস্তোরাঁর বয় যারা ছিলেন, তাদের ভীষণ ব্যস্ত সময় কাটছে। এক টেবিল থেকে আরেক টেবিলে যাচ্ছেন, অতিথিদের খোঁজখবর নিচ্ছেন। হঠাৎ গুলির শব্দ। কেঁপে ওঠে পুরো রেস্তোরাঁ। দেশি-বিদেশি অতিথিরা হতচকিত হয়ে পড়েন। ভীত সন্ত্রস্ত প্রত্যেকেই। চেয়ার থেকে দাঁড়িয়ে যান তারা। না, একটি নয় পর পর বিকট শব্দ। মুহূর্তেই দেখা যায় কয়েক সশস্ত্র যুবক চিৎকার করতে করতে একদম রেস্তোরাঁর ভেতরে! এবার প্রাণপণ ছুটাছুটি। ক্যাফের ভেতরে সব দেশি-বিদেশি অতিথি প্রাণ রক্ষায় ছোটাছুটি শুরু করেন। কেউ টেবিলের নিচে, কেউ বিভিন্ন কক্ষের নিরাপদ স্থানে। কিন্তু তাতেও রক্ষা হয়নি। বিদেশিদের ধরে ধরে ওই তরুণেরা কাছ থেকে গুলি চালাতে থাকে। রেস্তোরাঁর কর্মচারীরা দিগ্বিদিক ছোটাছুটি শুরু করে। কেউ টয়লেটে, আবার কেউ সিঁড়ি বেয়ে সোজা ছাদে। সেই ‘ব্লাক ফ্রাইডে’র রাতে ঠিক এভাবেই একদল সশস্ত্র তরুণ হামলা চালায় হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয়। কোলাহলপূর্ণ রেস্তোরাঁটি মুহূর্তেই পরিণত হয় মৃত্যুপুরীতে। প্রাণে বেঁচে যাওয়া রেস্তোরাঁর কর্মচারীদের মুখ থেকে সেই বিভীষিকাময় রাতের বর্ণনা ফুটে উঠেছে ঠিক এভাবেই। তারা জানান, মাত্র ২০ মিনিটের মধ্যেই রেস্তোরাঁটি রক্তে ভাসতে থাকে।

শনিবারের কমান্ডো অভিযানে হলি আর্টিজানের একটি টয়লেট থেকে উদ্ধার করা হয় অন্তত আটজনকে। তাদের একজন ক্যাফের কর্মী রিন্টু কীর্তনিয়া। রাতের বিভীষিকার কথা বলতে গিয়ে রিন্টু বলেন, ‘ভেতরে ঢুকেই গুলি করতে থাকে সন্ত্রাসীরা। কিছুক্ষণ পর গুলি করা থামিয়ে ওরা বেছে বেছে বিদেশিদের আলাদা করতে থাকে। আমাদের স্থান হয় টয়লেটে। ’ টয়লেটে রাখার আগে জঙ্গিরা তাদের হত্যা না করার আশ্বাস দেয়। তবে বিদেশিদের হোটেলের হলরুমে জিম্মির পর পরই তারা গুলির শব্দ পান। ওদের কাছে আগ্নেয়াস্ত্রের সঙ্গে ছুরি-চাপাতিও ছিল। ওরা বলছিল, তোদের মারব না। শুধু আমরা যা বলি, তোরা তাই করবি। আচরণ দেখে মনে হচ্ছিল বিদেশিরাই জঙ্গিদের টার্গেট। বিদেশিদের খুঁজছিল ওরা। তিনি বলেন, ক্যাফেতে ঢোকার প্রথম আধাঘণ্টার মধ্যেই বিদেশিদের হত্যা করে জঙ্গিরা। প্রথমে তাদের গুলি করা হয়। টার্গেট করে কাছ থেকে গুলি করে ওরা। এরপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে হত্যা নিশ্চিত করে। কয়েকজনের লাশ একসঙ্গে রাখা হয়। কিন্তু পরে তা আর একত্রিত করা হয়নি। হত্যার পর রাতভর তাদের বাইরের দিকে অস্ত্র তাক করে থাকতে দেখা যায়। তবে খুব বেশি সময় ধরে বসে থাকতেও দেখা যায়নি তাদের। তারা পায়চারি করছিল। অস্ত্রধারীদের কেউ কেউ ছবিও তুলছিল। তারা রাত ভর ধর্মীয় বই পড়েছে। লাশের ছবি তুলে ইন্টারনেটে ছেড়েছে। এ ছাড়া বাবুর্চিদের দিয়ে রাতের খাবার রান্না করে খাবার খেয়েছে তারা। সকালে টয়লেট থেকে কয়েকজন কর্মচারীকে ছেড়ে দেয় তারা। কর্মচারীরা যখন শনিবার ভোরে দেওয়াল টপকে পালাতে থাকেন, তখন পেছন থেকে জঙ্গিদের একজন চিৎকার করে বলেন, তোমরা পালাও, আমরা যাচ্ছি বেহেশতে।

 

ঘর পালানো পাঁচ তরুণের জঙ্গি হয়ে ওঠা

গুলশান হামলায় অংশ নিয়ে নিহত ৫ হামলাকারীই উচ্চবিত্ত পরিবারের সন্তান। এরা সবাই বেশকিছু দিন ধরে নিখোঁজ ছিল। আইএসের বরাত দিয়ে সাইট ইন্টিলিজেন্স তাদের যে ছবি প্রকাশ করে, সে ছবির সঙ্গে পুলিশের দেওয়া ছবির মিলও পাওয়া যায়।    বেশ কিছুদিন আগে এরা প্রত্যেকেই বাসা ছেড়ে হঠাৎ উধাও।

মীর সামেহ মোবাশ্বের : গত ২৯ ফেব্রুয়ারি বিকাল ৩টার দিকে মীর সামেহ মোবাশ্বের কোচিংয়ে যাওয়ার উদ্দেশে গাড়িতে করে বাসা থেকে বের হয়। যানজট থাকায় কোচিং সেন্টারের আগেই গাড়ি থেকে নেমে যায়। পরে সন্ধ্যা ৬টার দিকে গাড়িচালক জুয়েল তাকে কোচিং থেকে আনতে গেলে তাকে আর পাওয়া যায়নি। পরে মোবাশ্বিরের বাবা মীর এ হায়াত কবীর ওই দিনই গুলশান থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (নম্বর ১৮৪৮) করেন। পুলিশ তার খোঁজ করতে গিয়ে গুলশান এলাকার সিসিটিভি ফুটেজে দেখতে পায়, মোবাশ্বির গাড়ি থেকে নামার পর একটি রিকশা নিয়ে বনানীর ১১ নম্বর সড়কের দিকে চলে যাচ্ছে। সামেহ স্কলাস্টিকা স্কুল থেকে ও লেভেল পাস করেছে। এ লেভেল পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। বাবা মীর এ হায়াৎ কবির একটি টেলিকম প্রতিষ্ঠানে উচ্চ পদে চাকরি করেন। মা একটি কলেজের সহযোগী অধ্যাপক।

নিবরাস ইসলাম : হামলাকারীদের আরেকজন নিবরাস ইসলাম নর্থ-সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র। সাবেক সহপাঠীরা শনাক্ত করে তার ছবি ও পরিচয় সামনে নিয়ে আসে। মোনাশ বিশ্ববিদ্যালয়ের মালয়েশিয়া ক্যাম্পাসের ছাত্র ছিলেন নিবরাস ইসলাম। ব্যবসায়ী নজরুল ইসলামের এক ছেলে ও এক মেয়ের মধ্যে নিবরাস বড়। বাসা ঢাকার উত্তরায়। তার নিকটাত্মীয়রা সরকারের বিভিন্ন উচ্চপদে চাকরি করেন। বলা হচ্ছে, নিবরাস যে মালয়েশিয়া থেকে ঢাকায় এসেছিলেন, তা-ই জানত না পরিবার।

রোহান ইবনে ইমতিয়াজ : ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের নেতা, বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের উপমহাসচিব ও সাইক্লিং  ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ইমতিয়াজ খান বাবুলের ছেলে রোহান ইমতিয়াজ। ফেসবুক দেখে বোঝা যায়, তিনি কিছুদিন  ছেলেকে খুঁজে পাচ্ছিলেন না। তিনি ফেসবুকে ছেলের উদ্দেশে লিখেছেন, ‘প্লিজ কাম ব্যাক’। রোহানের মা শিক্ষিকা। দুই ভাইবোনের মধ্যে রোহান বড়। তিনি ঢাকার স্কলাসটিকা থেকে এ  লেভেল শেষ করে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তেন। গত ৩০ ডিসেম্বর থেকে রোহান নিখোঁজ ছিল। রোহান নিখোঁজ হয়েছেন উল্লেখ করে গত ৪ জানুয়ারি থানায় জিডি করা হয়েছিল। জিডিতে বলা হয়, ৩০ ডিসেম্বর বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরতে গিয়ে রোহান আর বাসায় ফেরেনি। পরে তদন্তে দেখা যায়, রোহান জঙ্গি কর্মকাণ্ডে যুক্ত হয়েছেন। এরপর তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলে, যাতে দেশের বাইরে না  যেতে পারেন, সে জন্য বিমানবন্দরেও জানানো হয়েছিল।

খায়রুল : ছয়-সাত মাস ধরে উত্তরবঙ্গের অন্তত তিনটি হত্যাকাণ্ডে খায়রুল ইসলামের নাম এসেছে। তাকে তখন থেকেই খোঁজা হচ্ছিল। সম্ভবত খায়রুল গুলশানে হামলার নেতৃত্ব দিয়েছিল। বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার চুতিনগর ইউনিয়নের ব্রিকুষ্টিয়া গ্রামের দিনমজুর আবু হোসেনের দুই মেয়ে ও এক ছেলের মধ্যে খায়রুল বড়। ব্রিকুষ্টিয়া দারুল হাদিস সালাদিয়া কওমি মাদ্রাসায় কিছুদিন পড়েছিলেন খায়রুল। এরপর ডিহিগ্রাম ডিইউ সেন্ট্রাল ফাজিল মাদ্রাসা থেকে তিনি দাখিল পাস করেন। গণমাধ্যমে ছবি দেখেই বাবা-মা ও প্রতিবেশীরা খায়রুলকে চিনতে পারেন। গ্রামে জানাজানি হয়। পুলিশ একটি ছবি নিয়ে বাড়িতে আসে। তার বাবা-মা প্রথমে ছবিটি চিনতে পারছেন না বলে পুলিশকে জানান। পরে পুলিশ কর্মকর্তারা খায়রুলের ছবি দেখতে চাইলে বিষয়টি বেরিয়ে আসে। পুলিশ খায়রুলের মা-বাবাকে আটক করেছে।

 

অপারেশন থান্ডারবোল্ট

সাড়ে ১১ মিনিট

সামরিক বাহিনীর কমান্ডো অভিযানের মধ্য দিয়ে ঢাকার জিম্মি সংকটের রক্তাক্ত অবসান ঘটেছে। মাত্র সাড়ে ১১ মিনিটের কমান্ডো অভিযানে জঙ্গিরা পর্যদুস্ত হয়ে হয়। জিম্মি উদ্ধারে পরিচালিত এই অভিযানের নাম দেওয়া হয় ‘অপারেশন থান্ডারবোল্ট’। গুলশানে হলি আর্টিজান বেকারি রেস্তোরাঁয় জিম্মি দেশি-বিদেশি নাগরিকদের উদ্ধার করতে শুক্রবার রাতেই উপস্থিত হয় প্যারা কমান্ডো টিম।

সিলেট জালালাবাদ সেনানিবাস থেকে প্যারা কমান্ডো টিম বিমান বাহিনীর সি-১৩০ পরিবহন বিমানে করে ঢাকায় আসে। রাত সাড়ে ৩টার দিকে প্যারা কমান্ডো টিমটি উপস্থিত হয় ঘটনাস্থল গুলশানের ৭৯ নম্বর সড়কে। ৭০ সদস্যের এই দলের নেতৃত্ব দেন ৪৬ স্বতন্ত্র্য ব্রিগেড কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মজিবুর রহমান। প্যারা কমান্ডো টিমটি হলি আর্টিজান বেকারি রেস্তোরাঁকে কেন্দ্র করে চারদিকে অবস্থান নিতে শুরু করে। এর আগে নৌবাহিনীর কমান্ডো টিম ঘটনাস্থলে অবস্থান নেয়। এরপর সেখানে আসে সেনাবাহিনীর পদাতিক ডিভিশন। ওই রেস্তোরাঁকে চারদিক থেকে ঘিরে ফেলা হয়। গুলশান এলাকার চার বর্গকিলোমিটার এলাকা সশস্ত্র বাহিনী, পুলিশ, র‌্যাব ও ডিবি ঘিরে ফেলে। ভবনের প্রবেশমুখে ৭৯ নম্বর সড়কে অবস্থান নেয় প্যারা কমান্ডো। হলি আর্টিজান বেকারি রেস্তোরাঁর পূর্বপাশে গুলশান লেক। লেকের পাশে হাঁটাপথে অবস্থান নেয় প্যারা কমান্ডো। ওই ভবনের পশ্চিম দিক অর্থাৎ প্রবেশের আগে লেকভিউ ক্লিনিক। ওই ক্লিনিকের ভবনের ওপরে অবস্থান নেয় সেনাবাহিনীর স্নাইপার টিম। স্নাইপার রাইফেল নিয়ে তারা হলি আর্টিজান বেকারি ভবনটির দিকে তাক করে থাকে।

অন্যদিকে, ৭৯ নম্বর সড়কে সেনাবাহিনীর ৯টি এপিসি ও ২টি সাঁজোয়া গাড়ি অবস্থান নেয়। ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক আবদুল হালিমের নেতৃত্বে সেখানে অবস্থান নেয় ১৬টি ইউনিট ও একটি জেমিনি বোট। জেমিনি বোটটি গুলশান লেকে অবস্থান নেয়। ওই ভবনে অভিযান চালানোর সময় জঙ্গি সদস্যরা পিছন দিয়ে বের হয়ে গুলশান লেক দিয়ে পালিয়ে যেতে পারে এমন বিষয় থেকে গুলশান লেক ও  লেক সংলগ্ন পদচারী রাস্তায় অবস্থান নেয় সেনাবাহিনীর পদাতিক ডিভিশন।

অন্যদিকে, ৭৯ নম্বরে সড়কে র‌্যাব-১ ও র‌্যাব-২ এর সদস্যরা অবস্থান নেয়। এভাবে ওই ভবনকে ঘিরে প্যারা কমান্ডো ট্রুপের অভিযানের ছক কষতে কষতে ভোরের আলো ফুটে ওঠে।

সকাল ৭টার দিকে প্যারা কমান্ডো ট্রুপ ওই বাড়িকে কেন্দ্র করে রেকি করে। এর আগে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন সেনাপ্রধান জেনারেল আবু বেলাল মোহাম্মদ শফিউল হক।

৭টা ৪০ মিনিটে আনুষ্ঠানিকভাবে এই অভিযান শুরু হয়। মুহুর্মুহু গুলির শব্দে ভোরের গুলশান প্রকম্পিত হতে থাকে। শত শত রাউন্ড গুলি ছুড়তে থাকে। প্যারা কমান্ডোর সদস্যরা ক্রলিং করতে করতে সামনের দিকে এগুতে থাকেন। এর মধ্যে পদাতিক ডিভিশন গুলি ছুড়তে থাকে। ভিতর থেকে জঙ্গিরাও গুলি ছুড়তে থাকে। একপর্যায়ে প্যারা কমান্ডো ট্রুপের সদস্যরা হলি আর্টিজান বেকারির খুব কাছাকাছি চলে যায়। এভাবে সাড়ে ১১ মিনিট ধরে গুলি চালানোর পর কমান্ডোরা ভবনের ভিতরে প্রবেশ করে এর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়। ধরাশায়ী হয় জঙ্গিরা। একই সময় প্রায় ২০/২৫টি সাউন্ড গ্রেনেড বিস্ফোরিত হয়। পরে ওই ভবনে র‌্যাবের বোম ডিসপজাল টিম প্রবেশ করে অবিস্ফোরিত বোমাগুলো নিষ্ক্রিয় করে।

 

যেসব অস্ত্র উদ্ধার হয়

‘অপারেশন থান্ডারবোল্ট’ এর মাধ্যমে ঘটনাস্থল থেকে প্যারাকমান্ডোরা উদ্ধার করে তিনটি একে-৪৭ রাইফেল, ম্যাগাজিন ৫টি, পিস্তল (বিহার) ৫টি, ম্যাগাজিন ৪টি, চায়না পিস্তল একটি, ম্যাগাজিন একটি, অ্যামুনেশন ৮টি, ৩টি ছুরি, একটি হেলমেট

 

কী হয়েছিল সেদিন

► শুক্রবার রাত পৌনে ৯টার দিকে ৭/৮ জন অস্ত্রধারী গুলশানের কূটনৈতিক এলাকার হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় হামলা চালায়।

► রাত ১১টার দিকে সন্ত্রাসীদের  বোমা হামলা ও গুলির মুখে পিছু হটে যায় পুলিশ। এরপর পুলিশ পাল্টা হামলার প্রস্তুতি নেয়। এ কারণে তারা বুলেট প্রুফ জ্যাকেট, হেলমেট ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়।

►  ১১টা ২০ মিনিটে র‌্যাবের মহাপরিচালক  বেনজীর আহমেদ নিরাপত্তার কারণে টেলিভিশনে  গোলাগুলির দৃশ্য সরাসরি না দেখানোর আহ্বান জানান।

►  রাত সোয়া ১২টায় গোলাগুলিতে আহত বনানী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সালাউদ্দিন মারা যান।

► রাত সাড়ে ১২টায় পুলিশ অপরাধীদের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করে।

► রাত ১টা ১০ মিনিটে গোয়েন্দা পুলিশের সহকারী কমিশনার নিহত হন।

► রাত সাড়ে ১১টায় গুলশানে রেস্তোরাঁয় হামলার দায়িত্ব স্বীকার করে আইএসআইএস।

► রাত ৩টা ৪০ মিনিটে আইন প্রয়োগকারী বাহিনীর সদস্যরা দুই জিম্মিকে উদ্ধার করার দাবি করে। এদের একজন বাংলাদেশি ও অপরজন আর্জেন্টাইন।

► ভোর ৫টা ৫ মিনিটে জিম্মিদের মধ্যে সাতজন ইতালীয় বলে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইতালির রাষ্ট্রদূতের বরাত দিয়ে সে দেশের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন।

► সকাল ৭টা ৪০ মিনিটে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা সশস্ত্র অভিযান শুরু করে।

► সকাল ৭টা ৪৮ মিনিটে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা গুলি চালানো শুরু করে।

► সকাল ৮টা ৩০ মিনিটে নিরপত্তা বাহিনী পরিস্থিতি পুরো নিয়ন্ত্রণে নেয়।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow