Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শনিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

ঢাকা, শনিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৭
প্রকাশ : রবিবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ২৩:১৩
ব্যাংক ডাকাতি
তানভীর আহমেদ
ব্যাংক ডাকাতি

পৃথিবীর ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ব্যাংক লুটের ঘটনা

পৃথিবীর ইতিহাসে এযাবৎকালের সবচেয়ে বড় ব্যাংক লুটের ঘটনা এটি। এক বিলিয়ন ডলার যেন চোখের পলকে চুরি করে নিয়ে যায় লুটেরার দল।

ইরানের সেন্ট্রাল ব্যাংকে রক্ষিত এই বড় পরিমাণ অর্থ লুটের ঘটনা বিশ্ববাসীকে হতবাক করে দেয়। সে বছরই মার্চের ১৮ তারিখের ঘটনা। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরাকের যুদ্ধ শুরু হয়ে গেছে। আমেরিকান বোমারু বিমান ড্রোন হামলায় প্রস্তুত। ইরাকের রাজধানী বাগদাদই তাদের প্রধান লক্ষ্য। উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে ইরাকের সেন্ট্রাল ব্যাংকে ঘটে যায় ইতিহাসের সবচেয়ে বড় পরিমাণ অর্থ লুটের ঘটনা। চুরি করা হয় এক বিলিয়ন ডলার। সেন্ট্রাল ব্যাংক অব ইরানের এক বিলিয়ন ডলারের মধ্যে ৬৫ মিলিয়ন ডলার পরে খুঁজে পাওয়া গিয়েছিল সাদ্দাম হোসাইনের বাড়ির নিচে। আমেরিকান সৈন্যরা এই অর্থের সন্ধান দেয়। অনেকে এটাকে সাজানো নাটক বলেন। অনেকে বলেন, না এটিই বাস্তবতা। সত্য যেটাই  হোক ব্যাংকের এক বিলিয়ন ডলার কিন্তু সেখানে ছিল না। আরও বড় অংকের অর্থই লাপাত্তা। পরে তদন্ত করে একদল তদন্তকারী বলেছিল এক বিলিয়ন ডলার ছাড়াও আরও ২৫০ মিলিয়ন ডলার সরানো হয়েছিল সেন্ট্রাল ব্যাংক থেকে। যেগুলো লুটেরার দল নিজেদের কাছেই রেখে দিয়েছিল। এত বড় অংকের টাকা এদিক সেদিক হওয়ায় সন্দেহ বাড়তে থাকে।

 

পেশাদার ব্যাংক ডাকাতের কবলে নাইটসব্রিজ সিকিউরিটি

দায়িত্বপ্রাপ্ত ম্যানেজারকে সাময়িক অপহরণের পর সরাসরি ভল্ট থেকে চুরি করা হয় ১১১ মিলিয়ন ডলার। একেবারেই গোছগাছ করে পেশাদার লুটেরাদের কাজই ছিল এটি। ইতিহাসের অন্যতম কুখ্যাত লুটের ঘটনা এটি। লন্ডনের ওয়েস্টমিনিস্টার এলাকায় এই ন্যাশনাল সিকিউরিটি ডিপোজিটে স্মরণকালের সবচেয়ে বেশি ক্যাশ টাকা রক্ষিত ছিল। ‘সেইফ সিকিউরিটি বক্স’ ভাড়া নেন নাইটসব্রিজের সিকিউরিটি ইনচার্জ। নিরাপত্তার কোনো কমতি ছিল না। হাতে হাতে বন্দুক নিয়ে পাহারায় ছিল পর্যাপ্ত নিরাপত্তাকর্মী। কিন্তু লুটেরারা প্রথমেই তুলে নেয় ম্যানেজারকে। তার গাড়িতেই তাকে অস্ত্রের মুখে অপহরণ করে। ভিতরের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকজন নিরাপত্তাকর্মীকেও বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর রাস্তায় সরিয়ে ফেলে তারা। আড়ালে ভিতরে ঠিকই চলছিল লুটের সব আয়োজন। চোরের দল তখনকার সময়ে ৬৫ মিলিয়ন (বর্তমানে ১১১ মিলিয়নেরও বেশি) ক্যাশ ছিল ভল্টে। পুরোটাই চুরি করে তারা পালায়। পালিয়ে যাওয়ার প্রায় ঘণ্টাখানেক পর বহু কষ্টে একজন বন্দী নিরাপত্তাকর্মী নিজেকে মুক্ত করে অ্যালার্ম সুইচ টিপতে পারে। কিন্তু তখনই সাহায্য এসে পৌঁছায়নি।

 

বাংলাদেশে সুড়ঙ্গ খুঁড়ে ব্যাংক ডাকাতি

বগুড়ার আদমদীঘিতে ‘কিশোরগঞ্জ স্টাইলে’ সুড়ঙ্গ খুঁড়ে সোনালী ব্যাংক শাখায় দুঃসাহসিক ডাকাতি করা হয়। সঞ্চয়ের ৩২ লক্ষাধিক টাকা খোয়া যায়।

ঘটনার আগের দিন ভোটের মনোনয়ন ও অন্যান্য সঞ্চয় গ্রহণের জন্য ব্যাংক খোলা রাখা হয়। বিকাল চারটার দিকে কর্মকর্তারা সারা দিনের জমার টাকা ভল্টে রাখতে গিয়ে ডাকাতির ঘটনা টের পান। ব্যাংকের পেছনে একটা কাঠের গুদাম থেকে ডাকাতরা প্রায় ২০ ফুট সুড়ঙ্গ করে ব্যাংকের কাছে পৌঁছে। এরপর গ্যাস কাটার দিয়ে ভল্টের দরজা খুলে তারা ভল্ট থেকে সঞ্চয়ের ৩২ লাখ ৫১ হাজার ৫০০ টাকা নিয়ে গেছে। ফেলে গেছে একটি গ্যাস কাটার। আদমদীঘি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় সোনালী ব্যাংকের অফিসের পাশের একটি ফার্নিচারের দোকান থেকে সুড়ঙ্গ তৈরি করে টাকা লুটের এ ঘটনা ঘটে।

 

লন্ডনে লুট ৩০০ মিলিয়ন ডলার

২০০৭ সালের ঘটনা। উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে ঘটে বিশাল অঙ্কের টাকা মেরে দেওয়ার ঘটনা। সংঘবদ্ধ চক্রের পূর্বপরিকল্পিত এ কাজ নিকট অতীতে সবচেয়ে বড় অঙ্কের টাকা তুলে নেওয়ার কেলেঙ্কারি। ব্রিটেনের ইতিহাসে এত পরিমাণ টাকা এর আগে ব্যাংক থেকে মেরে দেওয়ার ঘটনা ঘটেনি। ৩০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার তুলে নেওয়া হয় লন্ডনের সুমিতোমো ব্যাংক থেকে। এখন উন্নত বিশ্বে অনলাইন ব্যাংকিং সবচেয়ে সহজ ও নিরাপদ ব্যবস্থা বলে স্বীকৃত। অনলাইনে অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানোর মাধ্যমে দ্রুত ও নিরাপদ ব্যাংকিং সেবা প্রদান করছে প্রায় সব ব্যাংক। কিন্তু এখানেই ফাঁকফোকর খুঁজে বের করে একদল দক্ষ হ্যাকার। পরপর ২৩ বার হ্যাকিংয়ের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে ২৪তম বারে সফল হয় ব্যাংক ডাকাতরা।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow